“লাল পতাকা এখন তো শুধু বিরিয়ানির হাঁড়িতেই দেখা যায়, ওটাই ঢাকার কাজে লাগে…আলাদাই মেরুদণ্ডহীনতা ওদের” নির্বাচনী আবহে রাজ্যের তাপমাত্রা তুঙ্গে, এরই মাঝে শাসকদলের প্রার্থী সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘লাল পতাকা’ কটাক্ষে তোলপাড় রাজ্য-রাজনীতি!

রাজনীতির মাঠে এখন বেশ সক্রিয় সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়। বরাহনগরের তৃণমূল প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী প্রচারে তিনি একের পর এক বিতর্কিত মন্তব্য করে আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছেন। সম্প্রতি অভিনেত্রী ও রাজনীতিবিদ সায়ন্তিকা, সিপিএম তথা বামপন্থী রাজনীতিকে নিয়ে এক তীব্র আক্রমণাত্মক মন্তব্য করেছেন। সিপিএমের লাল পতাকাকে তিনি ‘বিরিয়ানির হাঁড়ি’ দিয়ে তুলনা করেন, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা সৃষ্টি করেছে। তাঁর এই মন্তব্যের পর বাম সমর্থকরা তার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন, তবে সায়ন্তিকার এই মন্তব্য তৃণমূলের কর্মীদের মধ্যে বিশেষ উত্সাহও সৃষ্টি করেছে।

একটি পডকাস্টে সায়ন্তিকা সিপিএমের সমালোচনা করতে গিয়ে বলেন, বামেদের লাল পতাকা এখন আর জনগণের আদর্শ বা সংগ্রামের প্রতীক নয়। তিনি জানান, সিপিএমের লাল পতাকা এখন কেবল ‘বিরিয়ানির হাঁড়ি ঢাকার কাজে’ ব্যবহৃত হয়। সায়ন্তিকা আরও বলেন, “আগে যে লাল পতাকাটা জনগণের অধিকার ও লড়াইয়ের প্রতীক ছিল, এখন সেটি কেবল খাদ্য সংরক্ষণের কাজে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে।” তার এই মন্তব্যে বাম সমর্থকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন, তাদের মতে, একজন নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে সায়ন্তিকার এমন কথাবার্তা অপ্রত্যাশিত এবং অপরিণত।

তবে সায়ন্তিকার এই মন্তব্যে তার নিজ দলের কর্মীরা উৎসাহিত হয়েছেন। তিনি আরও বলেন, “যদি সায়নদীপ ভোট ধরে রাখেন, তবে তাতে আমার সুবিধা হবে।” তিনি সিপিএমের মেরুদণ্ডহীনতা নিয়ে বিদ্রুপ করেন এবং বলেন, “ওরা যে জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে, সেখানে কিছুই নেই। এত বড় মিছিল হয়, কিন্তু ভোট কোথায় যায়?” সায়ন্তিকা জানিয়ে দেন, তিনি কোনোভাবেই বিরোধীদের কাছ থেকে এক ইঞ্চি জমিও ছাড়তে রাজি নন। তার এই দৃঢ় অবস্থান তৃণমূলের মধ্যেও বেশ প্রশংসিত হয়েছে।

বামপন্থীদের পক্ষ থেকে সায়ন্তিকার মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। একাধিক বাম সমর্থক তার বিরুদ্ধে সোশ্যাল মিডিয়াতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, সায়ন্তিকার এই ধরনের মন্তব্য শুধুমাত্র তার রাজনৈতিক অপরিণতিকে প্রকাশ করে। বাম নেতারা মনে করেন, লাল পতাকা কখনোই কোনো একক দলের নয়, এটি শ্রমিক শ্রেণির সংগ্রামের প্রতীক। তাই তার এই মন্তব্য একেবারে অশোভন এবং অগ্রহণযোগ্য। এমনকি কিছু বাম সমর্থক মনে করেন, সায়ন্তিকা আসলে বিজেপির ভয়ে এই ধরনের ভাষা ব্যবহার করছেন।

আরও পড়ুনঃ “ইন্ডাস্ট্রির ভেতরে আরও একটা ইন্ডাস্ট্রি….সবাই সুযোগ পায় না’’ “আমরা একই সময় কাজ শুরু করেছি, বিট্টু ‘প্রেম আমার’এর মতো হিট সিনেমা দিয়েও কিছু করতে পারেনি’’ টলিউডের রাজনীতির জেরে কাজ না পাওয়ার আক্ষেপের মাঝেই সহকর্মী সোহম চক্রবর্তীর উত্থান টেনে প্রশ্ন তুললেন মাস্টার রিন্টু!

যদিও সায়ন্তিকা তার মন্তব্যে অনড় রয়েছেন, তবুও তার কথা সমাজের বিভিন্ন অংশে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। তার ‘বিরিয়ানি’ কটাক্ষ তৃণমূলের কর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্যম নিয়ে এসেছে, তবে শিক্ষিত ভোটারদের মধ্যে এটি সমালোচনারও কারণ হয়েছে। সায়ন্তিকা যেভাবে বামপন্থী আদর্শকে নস্যাৎ করেছেন, তাতে রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। তবে তার বক্তব্যের পেছনে যে রাজনৈতিক কৌশল রয়েছে, তা নিয়ে এখনও নানা প্রশ্ন রয়ে গেছে।

You cannot copy content of this page