বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট ছিল সিপিআইএমের প্রবীণ নেতা শ্যামল চক্রবর্তীর প্রয়াণের পঞ্চম বর্ষপূর্তি। এই দিনেই বহুদিনের চেপে রাখা যন্ত্রণা, আক্ষেপ এবং অপরাধবোধের কথা সমাজ মাধ্যমে ভাগ করে নিলেন অভিনেত্রী ঊষসী চক্রবর্তী। করোনা পরিস্থিতির মধ্যে বাবাকে হারানোর স্মৃতি আজও তাঁকে তাড়া করে বেড়ায় বলে জানান তিনি। দীর্ঘ একটি আবেগঘন পোস্টে বাবার শেষ সময়ের নানা অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন অভিনেত্রী। সেই সঙ্গে চিকিৎসার সময় কী কী ঘটেছিল, তা নিয়েও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দাবি করেছেন তিনি। তাঁর এই পোস্ট সামনে আসতেই তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
ঊষসীর দাবি, কলকাতা বাইপাস সংলগ্ন যে বেসরকারি হাসপাতালে তাঁর বাবাকে ভর্তি করা হয়েছিল, সেখানে ভেন্টিলেশনে দেওয়ার আগে পরিবারের কাছ থেকে কোনও অনুমতি নেওয়া হয়নি। অভিনেত্রীর কথায়, যদি তাঁদের মতামত চাওয়া হতো, তাহলে তাঁরা কখনও এই সিদ্ধান্তে সম্মতি দিতেন না। তাঁর অভিযোগ, সেই সময় সিনিয়র চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন না। কয়েকজন জুনিয়র আরএমও পরিবারের সঙ্গে কথা না বলেই এই সিদ্ধান্ত নেন। হাসপাতালের এই ভূমিকা নিয়ে আজও তাঁর মনে বহু প্রশ্ন রয়ে গিয়েছে বলে পোস্টে উল্লেখ করেছেন তিনি।
অভিনেত্রী আরও জানান, তাঁর বাবা শ্যামল চক্রবর্তী দীর্ঘদিন ধরে অ্যাঙ্কাইলোজিং স্পন্ডাইলাইটিসে ভুগছিলেন। পরিবারের ধারণা ছিল, এই শারীরিক অবস্থায় সম্পূর্ণ অজ্ঞান করার প্রয়োজন হলে পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল হয়ে যেতে পারে। ঊষসীর দাবি, তাঁর বাবা নিজেও কখনও ভেন্টিলেশনে যেতে চাননি। এই প্রসঙ্গ টেনে অভিনেত্রী লেখেন, “মামলা করতে পারতাম। কিন্তু বিশ্বাস করুন, আর কোনও এনার্জি অবশিষ্ট ছিল না। কোনওদিনও এই প্রশ্নের উত্তর মিলবে না, অন্য কোনও হাসপাতালে নিয়ে গেলে কি পরিস্থিতি অন্যরকম হতে পারত?” এই না পাওয়া উত্তরই আজও তাঁকে কষ্ট দেয় বলে জানিয়েছেন তিনি।
নিজের পোস্টে ঊষসী আরও লিখেছেন, বাবা বা মায়ের শেষ সময়ে যদি একজন সন্তান একাই সমস্ত দায়িত্ব সামলান, বিশেষ করে যদি তিনি একমাত্র সন্তান হন, তাহলে প্রিয় মানুষটি চলে যাওয়ার পর এক অদ্ভুত গ্লানি এবং অপরাধবোধ সারাজীবন তাড়া করে বেড়ায়। তাঁর কথায়, যতই চেষ্টা করা হোক না কেন, মনে হয় আরও কিছু করা উচিত ছিল। সেই অনুভূতি থেকে বেরিয়ে আসা অত্যন্ত কঠিন। বাবার শেষ সময়ের একমাত্র পরিচর্যাকারী হিসেবে এই মানসিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়েই তাঁকে আজও বাঁচতে হচ্ছে বলে অকপটে স্বীকার করেছেন অভিনেত্রী।
সমাজ মাধ্যমে সম্ভাব্য সমালোচনার বিষয়টিও আগেভাগেই উল্লেখ করেছেন ঊষসী। তিনি স্পষ্ট লিখেছেন, বাবার যখন কোভিড হয়েছিল, তখন বহু চেষ্টা করেও কোনও সরকারি হাসপাতালে শয্যার ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি। সেই কারণেই বাধ্য হয়ে তাঁকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছিল। সেই সময়কার পরিস্থিতি কতটা কঠিন ছিল, সেটাও তিনি সকলকে মনে করিয়ে দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, সেই সিদ্ধান্ত কোনও বিলাসিতা থেকে নয়, সম্পূর্ণ অসহায় পরিস্থিতির কারণেই নেওয়া হয়েছিল।
আরও পড়ুনঃ “বিয়ে করা স্ত্রীকেই ভুলে গেলেন, প্রমোশনের অজুহাত আর কত?” “অর্কও একই নায়িকার সঙ্গে কাজ করেও নিজের প্রেমিকাকে অবহেলা করেনি!” অভি-ছুটির থেকে রানী-দূর্জয় তিনগুন বেশি জনপ্রিয় ছিল, অর্ক পারলে রণজয় কেন পারলেন না? অভিকার সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে দুই নায়কের তুমুল তুলনা টানলেন দর্শক! শ্যামৌপ্তির সঙ্গে বিচ্ছেদ নিয়ে রণজয়ের ‘প্রেম করেছি, মানুষ তো খু’ন করিনি’ মন্তব্যে ক্ষি’প্ত নেটপাড়া, ধেয়ে এল কটা’ক্ষের বন্যা!
বাবার প্রয়াণের পাঁচ বছর পূর্তিতে লেখা এই পোস্ট পড়ে বহু অনুরাগী এবং পরিচিত মানুষ ঊষসী চক্রবর্তীর পাশে দাঁড়িয়েছেন। অনেকেই মন্তব্য করে তাঁকে সমবেদনা জানিয়েছেন এবং মানসিকভাবে শক্ত থাকার বার্তা দিয়েছেন। একই সঙ্গে অনেকেই মনে করেছেন, একজন পরিচর্যাকারীর মানসিক চাপ এবং প্রিয়জনকে হারানোর পর যে অপরাধবোধ তৈরি হয়, ঊষসীর লেখায় সেই অনুভূতিই অত্যন্ত স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। তাঁর এই আবেগঘন পোস্ট ইতিমধ্যেই সমাজ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।






