‘বিগ বস বাংলা’র ঘরে নন্দিনী এবং সৃজলা গুহকে ঘিরে বিতর্ক যেন কিছুতেই থামছে না। এবার সৃজলার কষ্টকে ‘নাটক’ বলা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন এক দর্শক। তাঁর মতে, নন্দিনীর আঘাতে সৃজলার এমন চোট লেগেছিল, যার প্রভাব তাঁর ভবিষ্যতে মা হওয়ার সম্ভাবনার উপরও পড়তে পারে, অন্তত এমনটাই অভিনেত্রী নিজের মুখে জানিয়েছে। তাই এই যন্ত্রণা শুধুই অভিনয় বা সহানুভূতি পাওয়ার চেষ্টা হতে পারে না বলেই তাঁর দাবি। সোমবারের কনফেশন টাস্কে সৃজলা নিজেই জানান, নন্দিনীর আঘাতে তাঁর ওভারিতে গুরুতর চোট লেগেছিল। তাঁর কথায়, ওই আঘাতের কারণে তিনি মা নাও হতে পারতেন। ঘটনার সূত্রপাত বেশ কিছুদিন আগে ঘোড়ার টাস্কে।
সেই সময় নন্দিনীর আঘাতে ঘোড়ার উপর থেকে ছিটকে মাটিতে পড়ে যান সৃজলা। যন্ত্রণায় কেঁদে ওঠেন তিনি এবং পরে তাঁকে বিশ্রামে পাঠায় বিগ বস। চোট এতটাই গুরুতর ছিল যে, সৃজলাকে হাসপাতালে ভর্তি করতেও হয়েছিল। সেই সময় রাজবীর তাঁকে কোলে করে নিয়ে যান। যদিও নন্দিনী পরবর্তীতে একাধিকবার নিজের ভুল স্বীকার করে সৃজলার কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। কিন্তু এত কিছুর পরেও সৃজলা তাঁকে ক্ষমা করতে পারছেন না। নতুন কনফেশন টাস্কে তনুশ্রীও সৃজলাকে বোঝান যে নন্দিনী নিজের ভুল বুঝেছেন এবং অনুতপ্ত, তাই এবার তাঁর ক্ষমা করে দেওয়া উচিত। কিন্তু সৃজলা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তিনি নন্দিনীকে কোনওদিন ক্ষমা করতে পারবেন না।
এখানেই ওই দর্শকের প্রশ্ন, একজন মানুষ ভুল করার পর বারবার ক্ষমা চাইলে তাঁকে আর কতদিন শাস্তি দেওয়া হবে? তাঁর মতে, বাইরে থেকে ঘটনাটি দেখলে নন্দিনীকে ক্ষমা করে দেওয়ার কথাই মনে হতে পারে। কারণ নন্দিনী শুধু একবার নয়, ক্যামেরার সামনেও ক্ষমা চেয়েছেন এবং সৃজলার বাবা-মায়ের কাছেও চিঠি লিখে নিজের ভুলের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন। নিজের করা ভুলের কথাও স্বীকার করেছেন তিনি। তাই নন্দিনী ক্ষমা চাওয়ার পরেও কেন সৃজলা তাঁকে ক্ষমা করতে পারছেন না, সেই প্রশ্ন স্বাভাবিকভাবেই উঠছে। তবে ওই দর্শকের মতে, সৃজলার কনফেশনের পর এই প্রশ্নের উত্তর অনেকটাই পরিষ্কার হয়েছে। তাঁর কাছে ঘটনাটি আর শুধুমাত্র একটি বিগ বসের টাস্কে পাওয়া চোটের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই।
সৃজলা কনফেশন রুমে নিজের কষ্টের কথা বলতে গিয়ে জানান, তাঁর চোটটি ছিল ‘ব্লান্ট ফোর্স ইনজুরি’। তিনি বলেন, “আমার যে চোট লেগেছে, সেটা একটা ব্লান্ট ফোর্স ইনজুরি। আর সেই কারণেই আমি মা নাও হতে পারি।” এই কথাটিই ওই দর্শকের মতে পুরো ঘটনার গুরুত্ব বদলে দিয়েছে। তাঁর বক্তব্য, “একটা মেয়ে মা হতে পারবে না!” এই আশঙ্কা একজন নারীর কাছে কতটা বড় কষ্ট, তা বাইরে থেকে সহজে বোঝা সম্ভব নয়। তাই সৃজলার এই যন্ত্রণা কীভাবে ‘ফেক’ হতে পারে, সেই প্রশ্নই তুলেছেন তিনি। তাঁর মতে, নন্দিনীর ভুলকে ক্ষমা করার কথা বলা সহজ হলেও, সৃজলার জায়গায় দাঁড়িয়ে সেই মানসিক আঘাত অনুভব করা অনেক বেশি কঠিন।
অন্যদিকে বিগ বসের বাড়ির অধিকাংশ সদস্যই এখন সৃজলার বিরুদ্ধে চলে গিয়েছেন বলে ওই দর্শকের দাবি। অনেকেই সৃজলার আচরণকে নাটক বলে মনে করছেন এবং তাঁর চরিত্র নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন। কিন্তু ওই দর্শকের মতে, বারবার ‘সৃজলাই দোষ করেছে’ বলা কোনওভাবেই বিষয়টির পুরোটা ব্যাখ্যা করে না। নন্দিনী ভুল করেছেন, সেটি অস্বীকার করার কোনও জায়গা নেই, আবার সৃজলা যে আঘাত পেয়েছেন এবং সেই আঘাতে যে কষ্ট পেয়েছেন, সেটাকেও সম্মান করা প্রয়োজন। সৃজলা এদিন আরও স্পষ্ট করে দিয়েছেন, যতদিন নন্দিনী বিগ বসের ঘরে থাকবেন, ততদিন তাঁকে আটকানোর জন্য তিনিও লড়াই করবেন। কারণ তাঁর কাছে বিষয়টি আর শুধু খেলার অংশ নেই, বরং জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে যাওয়া হার জিতের মতো হয়ে গিয়েছে।
আরও পড়ুনঃ “আমি এখন সব জায়গায় শাড়ি পরেই যাই, শাঁখা-পলা তো আমার সব সময়ের সঙ্গী!” “জীবন খুবই সহজ, আমরাই অহেতুক জটিল করে তুলি” তাহলে কর্মজীবী নারী বা যাঁরা শাঁখা-পলা পরেন না, তাঁরা কি জীবন জটিল করে ফেলছেন? নারীদের জীবনযাপনকে এমন মাপকাঠিতে বিচার করা আদৌ যুক্তিযুক্ত? মধুবনীর বক্তব্য ঘিরে নেটপাড়ায় উঠল একের পর এক প্রশ্ন!
এই কারণেই ওই দর্শক মনে করছেন, সৃজলার জায়গায় না দাঁড়িয়ে তাঁকে ‘ফেক’ বলা ঠিক নয়। তাঁর বক্তব্য, মানুষ ভুল করলে তাকে ক্ষমা করা উচিত, কিন্তু সেই ভুলের কারণে যদি কারও জীবনে এত বড় আশঙ্কা তৈরি হয়, তাহলে শুধু ‘সরি’ বললেই সবকিছু আগের মতো হয়ে যায় না। এমনকি তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, কেউ যদি খুন করে পরে ক্ষমা চায়, কিংবা কারও জীবন নষ্ট করে দিয়ে শুধু ‘সরি’ বলে, তাহলে সেই ক্ষমা মেনে নেওয়া সবসময় সহজ নয়। তাঁর মতে, নন্দিনী বারবার ক্ষমা চেয়েছেন ঠিকই, কিন্তু সৃজলার মনে তৈরি হওয়া ভয় এবং কষ্ট এখনও রয়ে গিয়েছে। তাই দর্শকদের উচিত সৃজলাকে শুধু নাটক করছেন বলে দাগিয়ে না দিয়ে তাঁর অবস্থাটাও বোঝার চেষ্টা করা।






