বাংলা টেলিভিশনের পরিচিত মুখ মধুবনী গোস্বামীর (Madhubani Goswami) কথা ঘিরে ফের শুরু হয়েছে বিতর্ক। সম্প্রতি সমাজ মাধ্যমে নিজের একটি ছবি পোস্ট করেছেন অভিনেত্রী। সাদা লাল চেক শাড়িতে তাঁকে দেখা গিয়েছে সেই ছবিতে। ছবির সঙ্গে নিজের পোশাক এবং শাঁখা-পলা নিয়ে দীর্ঘ একটি লেখা লিখেছেন তিনি। মধুবনী জানিয়েছেন, এখন তিনি প্রায় সর্বত্রই শাড়ি পরে যান। রেস্তোরাঁয় খেতে যাওয়া থেকে সিনেমা দেখতে যাওয়া, এমনকী ছেলে কেশবকে স্কুলে দিয়ে আসা বা নিয়ে আসার সময়ও তাঁর পছন্দ শাড়ি। আর শাড়ির সঙ্গে তাঁর সব সময়ের সঙ্গী শাঁখা-পলা বলেই জানিয়েছেন অভিনেত্রী।
নিজের পছন্দের পোশাক নিয়ে বলতে গিয়ে মধুবনী আরও জানিয়েছেন, অন্যের ক্ষতি না করে প্রত্যেক মানুষের নিজের ইচ্ছেমতো জীবনযাপন করা উচিত। তাঁর মতে, মানুষের কটু কথায় কান দেওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই। কারণ প্রত্যেকেই নিজের দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে পৃথিবীকে দেখেন। তাই কার ঠিক আর কার ভুল, সেটাও অনেক সময় আপেক্ষিক বলে মনে করেন তিনি। মধুবনীর বক্তব্য, তাঁর কাছে তিনি ঠিক, আবার অন্য মানুষের কাছেও তাঁর নিজের অবস্থানটাই ঠিক। জীবন আসলে খুব সহজ হলেও মানুষ নিজেরাই নানা কারণে সেটিকে জটিল করে তোলে বলেও নিজের লেখায় জানিয়েছেন অভিনেত্রী। কিন্তু এই বক্তব্যের মধ্যেই শাড়ি এবং শাঁখা-পলাকে বিশেষভাবে তুলে ধরার কারণে সমাজ মাধ্যমে ফের প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
মধুবনীর আগের বক্তব্যও এই বিতর্কের অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছিল। এর আগে শাঁখা-পলা নিয়ে নিজের বিশ্বাসের কথা জানিয়ে অভিনেত্রী বলেছিলেন, তিনি স্বামীর মঙ্গল এবং তাঁর শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার কামনায় এগুলি পরেন। এমনকী তাঁর দাবি ছিল, মোটা শাঁখা-পলা পরার চল জনপ্রিয় করার ক্ষেত্রেও তাঁর ভূমিকা রয়েছে। ২০১৬ সালে বিয়ের সময় তিনি মোটা শাঁখা পরেছিলেন এবং পরে অনেককে একই ধরনের শাঁখা পরতে দেখেছেন বলে জানিয়েছিলেন। তাঁর মতে, শাঁখা-পলা, সিঁদুর এমন অলংকার, যা ইচ্ছেমতো পরা যায় না এবং এর সঙ্গে বিয়ে ও স্বামীর উপস্থিতির বিষয়টি জড়িয়ে রয়েছে। তবে কর্মক্ষেত্রের কারণে যাঁরা এগুলি পরতে পারেন না, তাঁদের ক্ষেত্রে তিনি বিষয়টি গ্রহণযোগ্য বলেও জানিয়েছিলেন। সেই বক্তব্যের পর থেকেই মধুবনীর মতামত নিয়ে সমাজ মাধ্যমে বিস্তর আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছিল।
এবার নতুন পোস্টে মধুবনী নিজের জীবনযাপনের সরলতার কথা বলতেই সেই পুরনো বিতর্কও ফের সামনে এসেছে। সমালোচকদের একাংশের প্রশ্ন, শাড়ি পরে থাকা কিংবা হাতে সব সময় শাঁখা-পলা রাখাকেই কি একজন বিবাহিত নারীর স্বাভাবিক ও সহজ জীবনযাপনের মাপকাঠি হিসেবে দেখা উচিত? যে কর্মজীবী নারীরা কাজের ধরন, সময় বা অন্য কোনও কারণে প্রতিদিন শাড়ি পরতে পারেন না, তাঁরা কি তাহলে সহজভাবে জীবনযাপন করছেন না? শাঁখা-পলা সব সময় সঙ্গে রাখতে না পারলে কি তাঁদের জীবন নিজেরাই অকারণে জটিল করে তুলছেন? আর যাঁরা এই চিহ্নগুলি পরেন না, তাঁদের পছন্দ বা জীবনযাপন কি কোনওভাবেই একজন বিবাহিত নারীর পরিচয়কে কম করে দেয়?
এমনই নানান প্রশ্ন তুলছেন মধুবনীর বক্তব্যে আপত্তি থাকা নেটিজেনদের একাংশ। তাঁদের মতে, ব্যক্তিগত বিশ্বাস অবশ্যই ব্যক্তিগত থাকতে পারে, কিন্তু সেই বিশ্বাসকে অন্যের জীবনযাপনের সঙ্গে তুলনা করলে বিতর্ক তৈরি হওয়াটাই স্বাভাবিক। এর আগে মধুবনীর বক্তব্য নিয়ে অন্য অভিনেত্রীরাও নিজেদের মত জানিয়েছিলেন। অপরাজিতা আঢ্য জানিয়েছিলেন, শাঁখা-পলা কেন পরা হয় তা জানা দরকার, তারপর কোনও মন্তব্য করা উচিত। অহনা দত্তও বলেছিলেন, শাঁখা-পলা পরলেই যে স্বামীকে ভালোবাসার প্রমাণ হবে, তিনি তা মনে করেন না। অন্যদিকে শ্রীময়ী চট্টরাজ জানিয়েছিলেন, অনেক সময় কাজের কারণে শাঁখা-পলা পরা সম্ভব হয় না।
আরও পড়ুনঃ “কোয়েলের কাছে তৃণমূল যা, বিজেপিও তাই…সাধারণ মানুষের জন্য আলাদা করে কোনও নীতি হয় না!” “ও খুব বুদ্ধিজীবী, চারদিকে এত দুর্নী’তি হচ্ছে তার মধ্যে ৫ শতাংশ একটি সিটে বসে…” বিজেপিতে কোয়েল মল্লিকের যোগদান ঘিরে মুখ খুললেন কনীনিকা বন্দ্যোপাধ্যায়! নারী ও শিশুদের জন্য কী করতে পদ্মফুলে যোগ, ফাঁস করলেন সেই পরিকল্পনাও?
সেটা দিয়ে কোনও স্ত্রী তাঁর স্বামীকে কতটা ভালোবাসেন বা তাঁর মঙ্গল চান, বিচার করা যায় না। এমনকি মধুবনী পরে ধারাবাহিকে অবিবাহিত চরিত্রে অভিনয়ের সময় শাঁখা-পলা ও সিঁদুর খুলে রাখার বিষয়েও প্রশ্নের মুখে পড়েছিলেন। তখন তিনি স্পষ্ট করেছিলেন, কাজের প্রয়োজনে এগুলি খুলতে হলে সেটি সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। তাই নতুন পোস্টে মধুবনীর ‘জীবন সহজ’ রাখার বক্তব্য ঘিরে এখন মূল প্রশ্ন একটাই, ব্যক্তিগত বিশ্বাসের জায়গায় শাড়ি, শাঁখা-পলা ও সিঁদুরকে কতটা গুরুত্ব দেওয়া উচিত এবং এগুলি না পরা নারীদের জীবনযাপনকে সেই মাপকাঠিতে বিচার করা আদৌ কতটা যুক্তিযুক্ত?






