প্রতি মাসে উপার্জনের ৭.৫ শতাংশ দিতে হবে ফেডারেশনের তহবিলে, বিনিময়ে পেনশন–স্কলারশিপের প্রতিশ্রুতি! শিল্পীদের টাকা কেটে নিজেদের পকেট ভরতে চাইছে ফেডারেশন?

টলিপাড়ায় (Tollywood) ফের নতুন করে অশান্তি শুরু হয়েছে ফেডারেশনকে (Federation Clash) ঘিরে। সম্প্রতি সংগঠনের বার্ষিক সাধারণ সভায় নাকি একটি চাঞ্চল্যকর প্রস্তাব রাখা হয়েছে। শোনা যাচ্ছে, সদস্যদের আয়ের একটি অংশ বাধ্যতামূলকভাবে সংগঠনের তহবিলে জমা দিতে হতে পারে। সংখ্যাটা নাকি প্রতি মাসে উপার্জনের প্রায় ৭.৫ শতাংশ! এই প্রস্তাব কার্যকর হলে যে বিপুল অঙ্কের টাকা উঠবে, তা দিয়ে নাকি ফেডারেশনের নতুন অফিস গড়ে তোলা হবে।

পাশাপাশি, সদস্যদের দেওয়া হবে পেনশন এবং তাঁদের সন্তানদের জন্য স্কলারশিপের সুযোগ। তবে বিষয়টি ঘিরে এখনই তৈরি হয়েছে একাধিক প্রশ্ন। সংবাদ মাধ্যমের তরফে সংগঠনের সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাসের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা হলেও ফোন পাওয়া যায়নি। তাঁর সহকারী বাবাই শুধু জানিয়েছেন, ফেডারেশনের তরফে আদৌ এই ধরনের প্রস্তাব তোলা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন। এমন পরিস্থিতিতে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।

সংগঠনের অন্যান্য গিল্ড সম্পাদকদেরও এই বিষয়ে মুখ খুলতে দেখা যায়নি। ফলে সত্যিই কি প্রস্তাবটি রাখা হয়েছিল, নাকি এটি নিছকই গুঞ্জন— তা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে টলিপাড়ায়। তবে কানাঘুষোয় শোনা যাচ্ছে, সভায় প্রথমে উপার্জনের ১০ শতাংশ টাকা জমা দেওয়ার কথা তুলেছিলেন সংগঠনের কিছু প্রতিনিধি। কিন্তু সেই প্রস্তাব সঙ্গে সঙ্গেই প্রত্যাখ্যান করা হয়। পরে আবার সেই অঙ্ক কমিয়ে ৭.৫ শতাংশে স্থির করা হয়।

যদিও এই সংখ্যা নিয়েও সদস্যদের মধ্যে একরকম অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। শিল্পীরা মনে করছেন, যাঁরা তুলনামূলকভাবে কম আয় করেন, তাঁদের জন্যে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে তা বড় বোঝা হয়ে দাঁড়াবে। এই প্রস্তাব কার্যকর হলে সর্বোপরি ফেডারেশনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা অনেকটাই এগোবে বলে মনে করছেন কিছু মহল। তাঁদের দাবি, অফিসের মতো স্থায়ী সম্পদ তৈরি হলে শিল্পীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদে সুবিধা হবে।

আরও পড়ুনঃ প্রথম টলিউড অভিনেতা হিসাবে অ’বৈধ অনলাইন বেটিং অ্যাপ মামলায় নাম জড়াল অঙ্কুশ হাজরার! ইডি সমন পাঠাতেই শোরগোল বাংলা বিনোদন দুনিয়ায়!

পাশাপাশি পেনশন ও মেধাবী সন্তানদের স্কলারশিপ দেওয়ার পরিকল্পনাও সদস্যদের কাছে ইতিবাচক দিক। কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে, সংগঠন এই অর্থ সঠিকভাবে ব্যবহার করবে কি না এবং শিল্পীরা কি যথাযথভাবে সেই সুবিধা পাবেন? অন্যদিকে, অনেক সদস্য এখনই দ্বিধায় রয়েছেন। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক টেকনিশিয়ান জানিয়েছেন, সকলে রাজি হলে তাকেও বাধ্য হয়ে দিতে হবে। তবে তিনি নিজে খুব একটা আগ্রহী নন। কারণ, আয়ের নির্দিষ্ট অংশ নিয়মিত জমা দেওয়ার মতো সামর্থ্য অনেকেরই নেই।