“নাচলেই আমি ভালো থাকি…নাচ কোনওদিন আমাকে ছেড়ে যায়নি, আমি নাচকে ছেড়েছি”— পায়েল দে’র আবেগঘন স্বীকারোক্তি! নাচই ছিল তাঁর স্বপ্ন ও ভালোলাগা, কিন্তু কেন প্রিয় নাচকেই দূরে ঠেলতে হয়েছে তাঁকে?

বিনোদন জগতের শিল্পীদের কাছে নাচ শুধু পেশা নয়, অনেকের জীবনযাপনের অঙ্গ। স্টেজের আলোয় দর্শকের সামনে দাঁড়িয়ে তাল দেওয়া—এটাই অনেক শিল্পীর শক্তি ও ভালো থাকার জায়গা। গান, অভিনয়, রিয়েলিটি শো—সব কিছুর মধ্যেই নাচের উপস্থিতি আজও সমানভাবে লক্ষণীয়। অভিনয় জগতের বহু তারকা নিজেদের সুখের জায়গা হিসেবে নাচকেই বেছে নেন, তাই এই শিল্পের প্রতি গভীর টান বোধ করেন তাঁরা।

অভিনেত্রী পায়েল দে সেই শিল্পীদের অন্যতম, যাঁরা নাচকে নিজের জীবনের বিশেষ জায়গায় রেখেছেন। বাংলার জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘বেহুলা লক্ষিন্দর’-এ তাঁর অভিনয়ই প্রথম দর্শকদের মন জয় করে। ধারাবাহিকের সময় থেকেই তিনি প্রমাণ করেন যে তিনি শুধু ভালো অভিনেত্রী নন, তাঁর শিল্পচর্চার ভিতও যথেষ্ট শক্ত। তারপরে একের পর এক চরিত্র তাঁকে জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছে দেয়।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে পায়েল নিজের মনের কথা জানিয়েছেন। সেখানে তিনি জানান, নাচ করলেই তিনি সবচেয়ে বেশি ভাল থাকেন। স্টেজে দাঁড়িয়ে কোন দিকে হাত যাবে, কোন মুদ্রা ফুটে উঠবে, আলোয় দাঁড়িয়ে কীভাবে মুভ করবেন—সব কিছু তিনি পরিকল্পনা করে আনন্দের সঙ্গে করতে পারেন। তাঁর ভাষায়, “স্টেজ পারফরমেন্স করার সময়ই আমি বুঝি আমি ঠিক জায়গায় আছি।” নাচের প্রতিটি ধাপ তাঁর কাছে যেন নিজের মতো করে বাঁচার আনন্দ।

তিনি আরও বলেন, হঠাৎ করে যদি তাঁকে পরিচালকের চেয়ারে বসিয়ে দেওয়া হয়, তবে তিনি তা পারবেন না। কারণ পরিচালনা করা তাঁর জায়গা নয়। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, নাচের ক্ষেত্রেই তিনি সবচেয়ে স্বচ্ছন্দ। তাঁকে যদি নাচ নিয়ে কোনও কাজ করতে বলা হয়, তিনি আনন্দের সাথে সেটা করতে পারেন, মন থেকে সম্পূর্ণ উপভোগ করেন।

আরও পড়ুনঃ টলিউডে হইচই! বিয়ের মরশুমে নতুন বিয়ে করতে চান শ্রীময়ী! তৃতীয়বারেও কি তাহলে ‘হ্যাপি এন্ডিং’ হবে না কাঞ্চনের?

তবে দুঃখের বিষয়, সাম্প্রতিক কিছু শারীরিক সমস্যার কারণে তিনি নাচ চালিয়ে যেতে পারছেন না। যদিও নাচ কোনওদিন তাঁকে ছেড়ে যায়নি—এ কথাই জানান পায়েল। তাঁর আশা, সুস্থ হয়ে পুনরায় আগের মতো নাচে ফিরে আসবেন এবং আবার সেই স্টেজের আলোয় নিজেকে খুঁজে পাবেন।