একসময়ের ছোটপর্দার পরিচিত মুখ ‘সায়ক চক্রবর্তী’ (Sayak Chakraborty) এখন ‘ডিজিটাল কন্টেন্ট ক্রিকেটার’, ফলত সামাজিক মাধ্যমেও সমানভাবে চেনা নাম। অভিনয়ের পাশাপাশি ভ্লগিং তাঁর জীবনের বড় অংশ হয়ে উঠেছে। প্রতিদিনের অভিজ্ঞতা, ভালো-মন্দ মুহূর্ত সবই তিনি অনায়াসে শেয়ার করেন অনুসারীদের সঙ্গে। তাই ব্যক্তিগতভাবে কোনও ঘটনায় অস্বস্তি হলে সেটাও চেপে রাখেন না। সম্প্রতি হবু দম্পতি তথা বন্ধু সুকান্ত এবং অনন্যার সঙ্গে সায়কের ডিনারের অভিজ্ঞতা, দুঃস্বপ্নের মত ধরা দিয়েছে!
ঘটনাটা শুনলে হয়তো আপনিও তীব্র প্রতিক্রিয়া না জানিয়ে থাকতে পারবেন না! এদিন রাতে তিনি ছিলেন মধ্য কলকাতার পার্ক স্ট্রিট অঞ্চলের পুরনো ও জনপ্রিয় রেস্তোরাঁ ‘অলিপাব’এ। সঙ্গে ছিলেন তাঁর দুই ঘনিষ্ঠ বন্ধু, যারা শিগগিরই বিয়ের বন্ধনে বাঁধতে চলেছেন তাই কেনাকাটা লেগেই আছে। সব সেরে আড্ডা, গল্প আর খাবার মিলিয়ে সন্ধেটা ছিল একেবারেই সাধারণ। তাঁরা সেখানে ‘মাটন স্টেক’ অর্ডার করেছিলেন।
টেবিলে খাওয়ার আসতেই, খাবার খেতে খেতেই গল্পেও মেতে উঠেছিলেন। কিছুক্ষণ পর আচমকা আরও একটি ‘স্টেক’ টেবিলে পৌঁছয়। সায়করা জানান, তাঁরা তো আর অতিরিক্ত কিছু চাননি! কিন্তু ওয়েটারের দাবি ছিল, একটি মাটন এবং একটি ‘বিফ স্টেক’ (গ’রুর মাং’স) নাকি অর্ডার করা হয়েছিল! এই কথা শুনেই অবাক হয়ে যান সায়ক। আরও বড় ধাক্কা আসে যখন জানা যায়, আগে যেটা খাওয়া হয়েছে সেটাই নাকি গ’রুর মাং’স! ঘটনাটা বুঝতে পেরে তিনি ক্ষোভ সামলাতে পারেননি।
এই পরিস্থিতিতেই তাঁর মুখ থেকে বেরিয়ে আসে, “আপনি তো মুসলিম, আমি যদি এখন আপনাকে শু’য়োরের মাংস খাওয়াই, কেমন লাগবে আপনার? একটা হিন্দু ব্রাহ্মণ বাড়ির ছেলেকে আপনি ‘গো মাতা’ ভক্ষণ করালেন, কত বড় অপরাধ! তার উপর হেসে হেসে সরি বলছেন? কলকাতায় ব্যবসা করছেন চোখ-কান খোলা রাখবেন না? আমার তো মনে হচ্ছে আপনি ইচ্ছা করেই করেছেন! আমিও যদি এখন বিষয়টাকে ধর্মভিত্তিক করে তুলি, হাসতে পারবেন তো?”
তিনি জানান, অর্ডার সংক্রান্ত এমন ভুলকে তিনি অত্যন্ত গুরুতর বলে মনে করেছেন। ম্যানেজারকে ডাকা হলেও রেস্তোরাঁর তরফে বিশেষ প্রতিক্রিয়া মেলেনি বলেও তাঁর অভিযোগ। ঘটনার পুরোটা তিনি ক্যামেরায় বন্দী করেন এবং পরে সমাজ মাধ্যমে পোস্ট করেন। ক্যাপশনে লেখেন, “অলিপাব আমাদের গরু’র মাং’স খাওয়ালো। না বলে গো মাতা খাইয়ে দিলো! এটা কলকাতা?”
আরও পড়ুনঃ “আজ ২১ হত পথচলা না থামলে…সামলে বন্ধু সামলে!” দুই দশকের দাম্পত্যে ইতি, বিচ্ছেদের পরেও স্মৃতিতে ভাসছেন জয়জিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়! বিবাহবার্ষিকী উপলক্ষে অভিনেতার আবেগঘন পোস্ট! তবে কি সম্পর্ক জোড়া লাগার ইঙ্গিত?
তাঁর এই ভিডিও সামনে আসতেই স্বাভাবিকভাবেই নানা প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। কেউ তাঁর ক্ষোভকে সমর্থন করছেন, কেউ আবার পুরো বিষয়টিকে রেস্তোরাঁর ভুল না যোগাযোগের ঘাটতি, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। তবে সায়কের বক্তব্য স্পষ্ট যে খাবার সংক্রান্ত বিষয়ে সতর্কতা ও স্বচ্ছতা জরুরি, বিশেষত যেখানে মানুষের বিশ্বাস এবং সংস্কারের বিষয় জড়িয়ে থাকে। এই বিষয়ে আপনাদের কী মতামত? জানাতে ভুলবেন না কিন্তু!






