অ’শান্ত, রক্তা’ক্ত বাংলাদেশ! সান্টার কাছে নিজ দেশে শান্তি ফিরে আসার প্রার্থনা করলেন জয়া আহসান

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি গভীর উদ্বেগে ফেলেছে গোটা উপমহাদেশকে। ওসমান হাদির মৃত্যুর পর থেকেই অশান্তির আগুনে জ্বলছে দেশ। সেই আবহেই দীপু দাস নামে এক সংখ্যালঘু হিন্দু যুবকের নির্মম হত্যাকাণ্ড নতুন করে নাড়া দিয়েছে বিবেকবান সমাজকে। গণপিটুনি দিয়ে খুন, তার পর মৃতদেহের উপর অমানবিক নির্যাতন এবং উল্লাসের ছবি দেখে স্তম্ভিত মানুষ। এই রক্তাক্ত বাস্তবতায় বাংলাদেশের শিল্পী সমাজের বড় অংশ নীরব থাকলেও বড়দিনে এক মানবিক বার্তায় নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন অভিনেত্রী জয়া আহসান।

ক্রিসমাস উপলক্ষে সামাজিক মাধ্যমে একগুচ্ছ ছবি ভাগ করে নিয়েছিলেন জয়া। ঝলমলে উৎসবের ছবির সঙ্গে তাঁর ক্যাপশন ছিল সংক্ষিপ্ত কিন্তু গভীর অর্থবহ। বড়দিনে শান্তি আসুক দেশে এবং সারা পৃথিবীতে এই কয়েকটি শব্দেই তিনি জানিয়ে দিলেন নিজের মনোভাব। কোনও সরাসরি রাজনৈতিক বক্তব্য না রেখেও যে তিনি বর্তমান বিদ্বেষ আর হিংসার পরিবেশে ব্যথিত, তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। শিল্পী হিসেবে হয়তো তাঁকে কিছু সীমার মধ্যে চলতে হয়, তবু নীরবতার মধ্যেও যে প্রতিবাদ থাকতে পারে, সেটাই বুঝিয়ে দিলেন জয়া।

এর আগেও বাংলাদেশে গণ অভ্যুত্থান কিংবা রাজনৈতিক পালাবদলের সময় প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেননি তিনি। সেই সময়ে বহু শিল্পী প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন, কেউ কেউ আইনি সমস্যাতেও পড়েছিলেন। আবার কেউ দেশ থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নিয়েছিলেন। সেই প্রেক্ষিতে জয়ার এই সংযত কিন্তু স্পষ্ট বার্তা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। বর্তমানে কলকাতায় থেকেও নিজের জন্মভূমির অশান্ত পরিবেশ যে তাঁকে বিচলিত করছে, তা তাঁর কথায় পরিষ্কার ধরা পড়েছে।

উল্লেখযোগ্য যে গত বৃহস্পতিবার রাতে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির। তাঁর মৃত্যুর পরই বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে হিংসা ছড়িয়ে পড়ে। সেই উত্তেজনারই শিকার হন দীপু দাস। ময়মনসিংহের মোকামিয়াকান্দা গ্রামের বাসিন্দা দীপু গত দু বছর ধরে ভালুকার একটি কারখানায় কাজ করতেন। অভিযোগ অনুযায়ী, বিক্ষোভকারীরা তাঁকে টেনে হিঁচড়ে বাইরে এনে নির্মমভাবে মারধর করে।

আরও পড়ুনঃ “যে শিক্ষকরা বেশি বকতেন, কৃতজ্ঞতার সঙ্গে আজ তাঁদেরকেই বেশি মনে পড়ে” ভালো শিক্ষকরা ভাবেন বলেই বকেন, এখন চোখ রাঙালেও অভিযোগ! শিক্ষকদের শাসনের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে মূল্যবোধের পাঠ, বললেন মমতা শঙ্কর! সত্যিই কি আজকের প্রজন্ম হারাচ্ছে সেই বাস্তব শিক্ষা?

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি অনুযায়ী, ঘটনাস্থলেই দীপুর মৃত্যু হয়। এরপর তাঁর দেহ মহাসড়কে নিয়ে গিয়ে গাছে বেঁধে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় এবং সেই সময় চলতে থাকে উন্মত্ত স্লোগান। এই নারকীয় ঘটনার ছবি ছড়িয়ে পড়তেই স্তব্ধ হয়ে যায় সভ্য সমাজ। ঠিক এই অন্ধকার সময়েই জয়া আহসানের শান্তির প্রার্থনা যেন আলো জ্বালানোর চেষ্টা। বড়দিনের শুভেচ্ছার আড়ালে তিনি মনে করিয়ে দিলেন, মানবতা আর শান্তিই শেষ কথা হওয়া উচিত।

You cannot copy content of this page