টলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা ও পরিচালক পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় (Parambrata Chattopadhyay) দীর্ঘদিন ধরেই অভিনয়, পরিচালনা এবং ভিন্নধর্মী কাজের জন্য দর্শকদের কাছে বিশেষ পরিচিত। একদিকে বাণিজ্যিক ছবিতে অভিনয়, অন্যদিকে ভিন্নধর্মী গল্প নিয়ে পরীক্ষা—এই দুই ধারাতেই নিজের আলাদা পরিচয় তৈরি করেছেন তিনি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের কাজ, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং বাংলা সিনেমা নিয়ে নানা গুরুত্বপূর্ণ মতামত তুলে ধরলেন এই অভিনেতা-পরিচালক।
সাক্ষাৎকারে পরমব্রত জানান, খুব শীঘ্রই আবার পরিচালকের ভূমিকায় ফিরছেন তিনি। তাঁর কথায়, ইতিমধ্যেই একটি নতুন ওয়েব সিরিজের কাজ শুরু হতে চলেছে, যার নাম ‘রক্তফলক’। অতিপ্রাকৃত ভৌতিক ঘরানার গল্প নিয়ে তৈরি হচ্ছে এই সিরিজটি। গত কয়েক বছর ধরে সুপারন্যাচারাল হরর ঘরানায় তিনি কাজ করছেন এবং সেই ধারাবাহিকতারই পরবর্তী প্রয়াস এই নতুন প্রকল্প। এছাড়াও পরিচালনায় আরও একটি ছবির পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। অভিনেতা হিসেবেও তাঁর হাতে রয়েছে একাধিক কাজ—মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে ‘হাওয়া বদল’ এবং ‘এখানে অন্ধকার’-সহ বেশ কয়েকটি ছবি।
এই আড্ডায় রাজনীতি প্রসঙ্গ উঠতেই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি (Mamata Banerjee) সম্পর্কে নিজের মতামত জানান পরমব্রত। তাঁর মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সবচেয়ে বড় গুণ হল তাঁর নির্ভীকতা এবং রাজনৈতিক বিচক্ষণতা। একজন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক হিসেবে দূর থেকে দেখলে বোঝা যায়, তাঁর সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এবং পরিস্থিতি সামলানোর দক্ষতা তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করে। অভিনেতার মতে, মমতার রাজনৈতিক যাত্রাপথ দেখলেই বোঝা যায় তাঁর সেই বিচক্ষণতার প্রমাণ কতটা শক্তিশালী।
এছাড়াও অভিনেতা আরও বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর রাজনীতির অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য হল তিনি একজন “স্ট্রিট ফাইটার”। অর্থাৎ, তিনি মানুষের মধ্যে নেমে লড়াই করতে ভালোবাসেন। সাধারণ মানুষের মাঝে গিয়ে রাজনীতি করা এবং সরাসরি মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার এই পদ্ধতিটাকেই তিনি মমতার বিশেষ শক্তি হিসেবে মনে করেন। এসি ঘরে বসে রাজনীতি করার বদলে রাস্তায় নেমে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মনোভাবই তাঁকে আলাদা করে তুলে ধরে বলে মত অভিনেতার।
আরও পড়ুনঃ “জীবনের এত লড়াই আর জনপ্রিয়তার পরও, শেষটা যেন ভীষণ নিঃসঙ্গ” তিনশোরও বেশি ছবির কিংবদন্তি অভিনেতা সত্য বন্দ্যোপাধ্যায়, কেন শেষ জীবন কেটেছিল কষ্টে? মৃ’ত্যুর কয়েকদিন আগে কোন অভিমান আর অদেখা য’ন্ত্রণার গল্প ভাগ করেছিলেন তিনি?
অন্যদিকে বাংলা সিনেমার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন পরমব্রত। তাঁর মতে, একটি ইন্ডাস্ট্রি সুস্থভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে কমার্শিয়াল সিনেমার গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। কারণ বাণিজ্যিক ছবির সাফল্য থেকেই অন্য ধরনের শিল্পধর্মী বা পরীক্ষামূলক ছবির অর্থায়ন সম্ভব হয়। যদিও তিনি নিজেকে পুরোপুরি কমার্শিয়াল ছবির মানুষ বলে মনে করেন না, তবুও তাঁর মতে বাংলা ইন্ডাস্ট্রির উন্নতির জন্য আরও বেশি সফল বাণিজ্যিক সিনেমা তৈরি হওয়া দরকার। একইসঙ্গে তিনি মনে করেন, অভিনয় একটি শিল্প—আর সেই শিল্পে প্রতিষ্ঠিত হতে গেলে প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা দুটোই অত্যন্ত জরুরি।






