“যাদের জন্য পুজোর সময় লড়াই করলাম…সারা বছর একসঙ্গে ঘর করেছি, তাঁরাই আজ উল্টে গেল!” রানা সরকারের বিস্ফো’রক অভিযোগের বিরুদ্ধে, দেবের তীব্র ক্ষো’ভ! প্রযোজকের আক্রমণের পর, কী তথ্য সামনে আনলেন মেগাস্টার?

টলিউডে ফের বিতর্কের আগুন জ্বালালেন প্রযোজক রানা সরকার (Rana Sarkar)। সম্প্রতি ‘প্রজাপতি ২’ (Prajapati 2) এবং ‘লহো গৌরঙ্গের নাম রে’র (Lawho Gouranger Naam Re) ফলাফল নিয়ে, নাম না করে মেগাস্টার ‘দেব’কে (Dev) নিশানা করে সমাজ মাধ্যমে একাধিক পোস্ট করলেন তিনি। তাই ঘিরে শোরগোল পড়ে গিয়েছে ইন্ডাস্ট্রি সহ ভক্তদের মধ্যেও। “ছবির রেটিং নিয়ে নোংরা খেলা চলছে”, এই অভিযোগে একসময়ের ঘনিষ্ঠ মানুষটির দিকেই আঙুল তোলেন তিনি! রানার বক্তব্যে, ছবি ভালো-মন্দ বা হিট-ফ্লপ হওয়া স্বাভাবিক, কিন্তু প্রযুক্তির সাহায্যে রেটিং নিয়ে কারসাজি করা অপরাধেরই সমান। চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে তিনি বলেন, এই ধরনের ‘ম্যানিপুলেশন’ কতটা সহজ আবার কতটা ভয়ংকর হতে পারে!

রানার লেখায় ক্ষোভ যেমন আছে, তেমনই আছে ইন্ডাস্ট্রির ভিতরের অস্বস্তির কথাও। বক্স অফিসের ভুয়ো হিসেব, কাগজে-কলমে সুপারহিট তকমা, সবকিছুকে তিনি দেখেছেন এক ধরনের ‘ব্র্যান্ড বিল্ডিং এক্সারসাইজ’ হিসেবে, যার আড়ালে লুকিয়ে থাকে আসল ব্যর্থতা! টেলিভিশন স্যাটেলাইট রাইট বিক্রি না হওয়া বা বিনিয়োগের টাকা না ওঠার বাস্তবতাকে ঢাকতেই নাকি এই বাড়াবাড়ি! প্রযোজকের চোখে, এই প্রবণতা শেষ পর্যন্ত ক্ষতি করছে নিজের ইন্ডাস্ট্রিরই। যেখানে প্রকৃত প্রতিভার বদলে কৃত্রিম ইমেজ বড় হয়ে উঠছে।

এই পরিস্থিতির মধ্যেই সামনে এসেছে দেবের একটি বক্তব্য, যা পুরো বিতর্ককে অন্য মাত্রা দিয়েছে! রানা সরকারের মন্তব্যের প্রেক্ষিতে এক সাক্ষাৎকারে দেব নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন সম্প্রীতি। সেখানে তিনি বলেন, “হল দাদাদের বলা হচ্ছে, দেবের অ্যাসিস্ট্যান্টকে মেল পাঠাও যে দেব হুমকি দিচ্ছে সিনেমা চালাতে! কথা হচ্ছে, দর্শক যেটা দেখতে চাইবে সেটা না দেখিয়ে জোর করে আমি ছবি বানাচ্ছি বলেই দেখতে হবে, এটা কি হয় নাকি! যার হয়ে আমি পুজোতে ছবি রিলিজ করলাম এত লড়াই করে, আগস্টে যার সঙ্গে কাজ করলাম আজ সে-ই হঠাৎ যেন উল্টে গেল!

যাদের সঙ্গে সারা বছর ঘর করলাম, আজ তারাই আমায় তাড়াতে ব্যস্ত!” এই বক্তব্যে স্পষ্ট হতাশা আর ক্ষোভ, যা শুধুই ব্যক্তিগত নয় বরং গোটা ব্যবস্থার দিকেই প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছে। দেবের কথায় উঠে এসেছে সম্পর্কের ভাঙন আর পেশাদার বিশ্বাসের সংকট। যাদের সঙ্গে কাজ করেছেন, যাদের জন্য লড়েছেন, সময়ের সঙ্গে তারাই বিপরীত মেরুতে চলে গিয়েছেন। এই অভিজ্ঞতা টলিউডে নতুন নয়, কিন্তু প্রকাশ্যে এমনভাবে বলা বিরল। দর্শকের পছন্দ বনাম জোর করে চাপিয়ে দেওয়া ছবি, এই দ্বন্দ্বও তাঁর বক্তব্যে গুরুত্ব পেয়েছে।

আরও পড়ুনঃ এজেন্সি দিয়ে কমানো হচ্ছে সিনেমার রেটিং! কারসাজির অভিযোগে উত্তাল টলিপাড়া, হুঁশি’য়ারি দিলেন সৃজিত ও রানা সরকার

এখানে কোনও আবেগী নাটক নেই। বরং রয়েছে এক ধরনের ক্লান্ত স্বীকারোক্তি, যা ইন্ডাস্ট্রির অন্দরের বাস্তব ছবিটাই তুলে ধরেছে। সব মিলিয়ে রানা সরকারের তীব্র পোস্ট আর দেবের স্পষ্ট বক্তব্য টলিউডের চলতি টানাপোড়েনকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে। রেটিং, বক্স অফিস, সম্পর্ক আর ক্ষমতার লড়াই এক জায়গায় এসে প্রশ্ন তুলছে, এই পথে ইন্ডাস্ট্রি কতদিন টিকে থাকতে পারবে? শেষ পর্যন্ত বিচারক তো দর্শকই, কিন্তু তার আগেই যদি ভিতরের বিশ্বাসটাই নড়বড়ে হয়ে যায়, তাহলে ক্ষতির দায় কার, এই প্রশ্নটা থেকেই যায়!

You cannot copy content of this page