নেটদুনিয়ায় ‘ননসেন’ নামে পরিচিত নেটপ্রভাবী শমীক অধিকারী অবশেষে জামিন পেলেন। এক তরুণীকে হেনস্থা ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগে তাঁকে গত ৬ ফেব্রুয়ারি গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর থেকেই বিষয়টি ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় তুমুল আলোচনা শুরু হয়। আদালতের নির্দেশে তিনি কিছুদিন বিচারবিভাগীয় হেফাজতে ছিলেন। জামিন পাওয়ার খবর সামনে আসতেই আবারও নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। আজকাল ডট ইন এর তরফে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও এখনও তাঁর ফোনে ইনকামিং কলের সুবিধা না থাকায় সরাসরি কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে এই মুহূর্তে তাঁর অবস্থান বা মন্তব্য জানা যায়নি। তবে তাঁর জামিনের খবরে অনুরাগী এবং সমালোচকদের মধ্যে নানা মতামত ঘুরে বেড়াচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দমদম এলাকা থেকে শমীককে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। অভিযোগ ছিল, এক তরুণীকে শারীরিক এবং মানসিক ভাবে নির্যাতন করেছেন তিনি। গ্রেপ্তারের পর তাঁকে থানায় নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে আদালতে তোলা হলে ১৬ মার্চ পর্যন্ত তাঁকে ১৪ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয় আদালত। তদন্ত চলাকালীন পুলিশ শমীকের ফোনও পরীক্ষা করে বলে জানা গেছে। সেই সূত্রে বেশ কিছু আপত্তিজনক ভিডিও উদ্ধার হয়েছে বলেও দাবি তদন্তকারীদের। যদিও শুরু থেকেই নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন শমীক। তাঁর বক্তব্য তিনি নির্দোষ এবং তাঁকে পরিকল্পনা করে ফাঁসানো হয়েছে।
অভিযোগকারিণীর দাবি অনুযায়ী ঘটনাটি ঘটে বেহালার একটি ফ্ল্যাটে। তরুণীর অভিযোগ, শমীক তাঁর পরিচিত বন্ধু ছিলেন। বাড়ি বদলের সময় সাহায্যের কথা বলে তাঁকে নিজের ফ্ল্যাটে ডেকে পাঠান তিনি। এরপরই পরিস্থিতি অন্য দিকে মোড় নেয় বলে অভিযোগ। তরুণীর দাবি, তাঁর মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয় এবং তাঁকে ফ্ল্যাটের ভিতরে আটকে রাখা হয়। ২ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা পর্যন্ত তাঁকে সেখানে বন্দি করে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ। সেই সময় জুড়ে তাঁর উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয় বলেও অভিযোগকারিণীর বক্তব্য।
ঘটনার পরে তরুণী কোনওভাবে সেখান থেকে বেরিয়ে এসে পুলিশের দ্বারস্থ হন। অভিযোগ দায়ের হওয়ার পরেই শমীক নাকি বাড়ি ছেড়ে চলে যান বলে দাবি অভিযোগকারিণীর। পরে পুলিশের কাছে তাঁর গোপন জবানবন্দিও রেকর্ড করা হয়। আলিপুর আদালত চত্বরে উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে দাঁড়িয়ে শমীক অবশ্য দৃঢ় কণ্ঠে দাবি করেছিলেন যে তিনি নির্দোষ। তাঁর কথায়, এই পুরো ঘটনায় তাঁকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে ফাঁসানো হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত সত্য সামনে আসবে বলেও তিনি আশাবাদী ছিলেন বলে জানান।
আরও পড়ুনঃ “কি মানসিকতা! নিজে সাজলেন সুন্দর করে, আর বৃদ্ধা মাকে নাইটি?” মেয়ে হিয়ার প্রথম ছবির বিশেষ প্রদর্শনীতে, মাকে নাইটি পরিয়ে আনার ভিডিও ভাইরাল! নেটিজেনদের কটাক্ষের মুখে শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়ের স্ত্রী মহুয়া!
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল সোশ্যাল মিডিয়ায় শমীক অধিকারী ননসেন নামে বেশ পরিচিত মুখ। ‘বাটন’ নামে একটি ভিডিও তৈরি করে তিনি একসময় নেটদুনিয়ায় জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন। সেই ভিডিওর সাহসী ভাবনা অনেক অনুরাগীর প্রশংসা কুড়িয়েছিল। কিন্তু তাঁর গ্রেপ্তারির পর থেকেই নানা বিতর্ক শুরু হয়। অনেকেই এর পিছনে রাজনৈতিক কারণ খুঁজতে চেয়েছিলেন। তবে আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে এই ঘটনাটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত। তদন্তকারীদের মতে এর সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক যোগসূত্রের প্রমাণ মেলেনি। এখন তদন্তের অগ্রগতির দিকেই তাকিয়ে রয়েছে সকলের নজর।






