বাংলা টেলিভিশনের জনপ্রিয় অভিনেতা ‘দিব্যজ্যোতি দত্ত’ (Dibyojyoti Dutta), প্রতিটি ধারাবাহিকে তার অভিনয় দক্ষতার মাধ্যমে দর্শকদের মনে জায়গা করে নিয়েছেন। ছোটপর্দায় এত সফলতার পর, বড়পর্দায় পা রেখেছেন তিনি ইতিমধ্যেই। সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের ছবি ‘লহ গৌরাঙ্গের নাম রে’ তে তিনি ‘শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু’র চরিত্রে অভিনয় করে, দেখিয়ে দিয়েছেন যে কেন এই চরিত্র তাঁকে ছাড়া অসম্পূর্ণ হতো। ধারাবাহিকে বহু সময় ধরে অভ্যস্ত থাকলেও, এইরকম চরিত্রের জন্য মানসিক ও শারীরিকভাবে নিজেকে তৈরির কাজ তাঁর জন্য ছিল এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা।
চরিত্রের সঙ্গে মানিয়ে নিতে দিব্যজ্যোতিকে শারীরিকভাবে বড় পরিবর্তন করতে হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে পেশী তৈরিতে মনোযোগ দেওয়ার পর, এবার ওজন কমানো এবং চৈতন্যের ত্যাগী ভাবমূর্তির জন্য শরীরের চর্বি কমানো ছিল প্রধান লক্ষ্য। নিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, দিনে সীমিত খাবার গ্রহণ এবং কার্ডিও, ট্রেনিং তাঁকে এই পরিবর্তনে সাহায্য করেছে। পুরীতে শ্যুটিং শুরুর আগে প্রায় কুড়ি কেজি ওজন কমিয়েছিলেন তিনি। তবে শুধু শারীরিক নয়, মানসিক দিক থেকেও নিজেকে চরিত্রের সঙ্গে সংযুক্ত করতে হয়েছে তাঁকে।
ঐতিহাসিক চরিত্রের আচার-আচরণ বোঝার জন্য তিনি বই পড়েছেন, আশপাশ থেকে তথ্য সংগ্রহ করেছেন এবং জীবনের নানা নীতি ও দর্শনের সঙ্গে নিজেকে পরিচিত করেছেন। এমনকি তাঁর পরিবারের কাছ থেকেও মানসিক সমর্থন পেয়েছেন, যা কঠিন মুহূর্তগুলোতে তাঁকে স্থির থাকতে সাহায্য করেছে। তবে, হঠাৎ করে এই জীবন যাপনের পরিবর্তনে, ছবির শ্যুটিং চলাকালীন চাপ সামলাতে গিয়ে অনাস্থাও অনুভব করেছেন। এই প্রক্রিয়ায় তিনি বুঝেছেন যে চরিত্রের কাছে পৌঁছানোর জন্য শুধুমাত্র শারীরিক পরিবর্তন নয়, মানসিক প্রস্তুতিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
ছবিটা বড়দিনে মুক্তি পেয়েছে। সমস্ত কলাকুশলীদের ভিড়ে আলাদা করে নজর কেড়েছেন দিব্যজ্যোতি। তাঁর চৈতন্য মহাপ্রভু রুপে অভিনয় সকলের মন ছুঁয়ে গেছে। এই নিয়ে অভিনেতা সম্প্রতি উৎসাহ প্রকাশ করার বদলে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে জগন্নাথ দেবকে আর জানিয়েছে জগন্নাথ না থাকলে, আজকে তিনি এই চরিত্রটি করতে পারতেন না। দিব্যজ্যোতির কথায়, “আমি খুব খাদ্যপ্রেমী। সারাদিন তেমন কিছু না খেলেও, রাতে কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাওয়ার বেশি খেয়ে নিতাম।
আরও পড়ুনঃ “২০২৫ একেবারেই ভালো কাটেনি”—বছরের শেষে অকপট ইন্দ্রানী হালদার! কী এমন ঘটল অভিনেত্রীর জীবনে যে খারাপ খবরের ছায়ায় কেটে গেল গোটা বছর?
যার ফলে যেমন পেশী তৈরি হয়েছিল, তেমনই পেশীর ভেতরে তরল জমতে শুরু করেছিল। আমাকে এই চরিত্রের জন্য ওজন কমাতে বলেছিল, সেটা যাও বা পারছিলাম কিন্তু ওই চর্বি কমানো যাচ্ছিল না কিছুতেই। বন্ধুদের ফোন করে বলতাম যে আমি পারছি না, কিছুই হবে না আমার। এরম করে কিছুদিন যাওয়ার পর জগন্নাথ দেবকে বললাম যে এবার সবটা তোমার হাতে, তুমি যদি চাও তো কমবে আর না চাও তো হবে না আমার এই চরিত্রটা করা। আমি ওনার সাহায্য ছাড়া এক মুহূর্তও কিছু করতে পারতাম না।”






