সম্পর্কের ভাষা বদলে যাচ্ছে, বদলাচ্ছে ভালোবাসার সংজ্ঞাও। এই সময় দাঁড়িয়ে ‘মিঠুন চক্রবর্তী’র (Mithun Chakraborty) নতুন ছবি ‘প্রজাপতি ২’ যেন নীরবে প্রশ্ন তোলে, আমরা কি সত্যিই একে অপরের সঙ্গে থাকতে শিখছি? কাছে থাকা সম্পর্ক গুলো, আমরা কতটা মূল্য দেই? ছবির মুক্তির পর এই প্রসঙ্গেই কথা বলতে গিয়ে অভিনেতা স্পষ্ট ভাষায় আজকের সম্পর্কের প্রবণতা নিয়ে নিজের অবস্থান জানাতে দ্বিধা করেননি। পর্দার তিনি যেমন, বাইরেও মিঠুন চক্রবর্তী ঠিক তেমনই সোজাসাপ্টা, কিন্তু গভীরভাবে বিশ্লেষণ করতে পারে একজন মানুষ।
বয়স যে কেবল সংখ্যা, সেটা তাঁকে কাছ থেকে দেখলেই বোঝা যায়। শুটিং ফ্লোরে তাঁর উপস্থিতি মানেই একটা আলাদা গতি। কখনও ঠাট্টা, কখনও কাজের ফাঁকে তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষণ মিলিয়ে তিনি যেন পরিবেশটাকে নিজের মতো করে সাজিয়ে নেন। সহশিল্পীরা বলেন, ক্লান্তি বা সময়ের চাপ কোনওটাই তাঁর আগ্রহ কমাতে পারে না। ক্যামেরা অন হলেই মুহূর্তে চরিত্রে ঢুকে পড়ার ক্ষমতা আজও অবাক করে। অভিনয় তাঁর কাছে শুধুই পেশা নয়, বরং নিজের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যম।
তাই হয়তো বয়সের সঙ্গে সঙ্গে চরিত্র বদলালেও অভিনয়ের প্রতি দায়বদ্ধতা একই রয়ে গেছে। এই প্রাণবন্ত মানুষটার আরেকটা দিক ধরা পড়ে কাজ শেষের পর। সহশিল্পীদের গল্পের ছলে জীবন ও সমাজ নিয়ে তাঁর অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়াটা তিনি বরাবর পছন্দ করেন। এক সময়ের প্রতিবাদী নায়ক থেকে আজকের সংযত, অনুভূতিপ্রবণ চরিত্র, সময়ের স্রোতে মিঠুন চক্রবর্তীর ইমেজেও এসেছে পরিবর্তন। অনেকের মতে, সেই কারণেই কিছু ছবি প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি।
তবু ‘প্রজাপতি’ এবং তার সিক্যুয়েলে তিনি প্রমাণ করেছেন, নরম চরিত্রও গভীর দাগ কাটতে পারে! সম্পর্কের সূক্ষ্ম টানাপোড়েনকে তিনি যেভাবে পর্দায় তুলে ধরেছেন, যা আজকের প্রজন্মের জন্যও প্রাসঙ্গিক। এদিন অভিনেতাকে জানতে চাওয়া হয়, আজকের দিনে বিয়ে করতে ভয় পাচ্ছে অনেকেই। বরং কমিটমেন্টের ভয়ে, লিভ-ইন সম্পর্কে থাকার প্রবণতা বেড়ে যাচ্ছে। তিনি এসবকে কেমন চোখে দেখেন? মিঠুন চক্রবর্তী বলেন, “এগুলো মোটেই ভালোর জন্য নয়।
বরং আমাদের কাছে কমিটমেন্ট, কমিটমেন্টের মতোই হওয়া উচিত। কমিটমেন্টের মধ্যেও ভুল থাকে! আমি কখনোই বলবো না, সবটাই ঠিক। তবে বর্তমানে যেগুলো চলছে, সেগুলো মাত্রাতিরিক্ত! এক কথায় আমার কাছে এইসব অর্থহীন।” এই উত্তিরের মধ্যেই যেন ধরা পড়ে তাঁর জীবনদর্শন। ভুল থাকলেও দায় নেওয়ার সাহসটাই সম্পর্ককে সত্যিকারের করে তোলে। উল্লেখ্য, ব্যক্তিগত জীবনেও প্রেম তাঁর কাছে কখনওই তুচ্ছ বিষয় ছিল না।
আরও পড়ুনঃ নজরে ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন! তারকার ভিড় বাড়বে কি তৃণমূলে? নজরে শুভশ্রী থেকে ইমন, টিকিট পাওয়ার লড়াইয়ে এগিয়ে রয়েছেন কারা?
পর্দা ও বাস্তব, দুই জায়গাতেই তাঁর নাম জড়িয়েছে নানা সম্পর্কে, বড় বড় অভিনেত্রীদের সঙ্গে। কিন্তু সব কিছুর শেষে যাঁর কাছে তিনি ফিরেছেন, তিনি যোগিতা বালি। বহু অভিজ্ঞতার পরেও যে সম্পর্কটায় স্থিরতা আর গভীরতা খুঁজে পেয়েছেন, সেটাই তাঁর জীবনের ঠিকানা হয়ে উঠেছে। হয়তো সেই কারণেই আজকের সম্পর্কের ভঙ্গুরতা দেখে তিনি এতটা স্পষ্ট কথা বলতে পারেন। ‘প্রজাপতি ২’ শুধু একটা ছবি নয়, মিঠুন চক্রবর্তীর বিশ্বাসেরই প্রতিফলন। যে ভুল থাকলেও কমিটমেন্ট ছাড়া সম্পর্ক টেকে না।






