বছরের শুরুতেও ভালো সম্পর্ক, সাক্ষী ছিলেন সায়কও! হঠাৎ করে কি হলো দেবলীনার? গায়িকার হাসপাতালে ভর্তি নিয়ে ধোঁয়াশা! সত্যিই কী চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, নাকি শুধুই শারীরিক অসুস্থতা?

বছর দুয়েক আগে, ধুমধাম করে সাত পাকে বাঁধা পড়েছিলেন ‘দেবলীনা নন্দী’ (Debolina Nandy) এবং প্রবাহ নন্দী। বিয়ের পর থেকেই তাঁর জীবনে যে টানাপোড়েন শুরু হয়েছিল, তার কিছুটা ইঙ্গিত দেবলীনা নিজেই দিয়েছিলেন শেষ লাইভে। স্বামী বা শ্বশুরবাড়ির কারও নাম না করেই তিনি বলেছিলেন, সংসার করতে গেলে নাকি তাঁকে মায়ের থেকে আলাদা হওয়ার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি নিজের পেশা নিয়েও নানান রকম চাপ, মানসিক অস্বস্তির কথাও উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে। এই সবকিছু মিলিয়ে যে ভেতরে ভেতরে একটা গভীর ক্লান্তি জমছিল, তা তখন অনেকেই পুরোপুরি বুঝে উঠতে পারেননি।

গতকাল হঠাৎ করেই দেবলীনাকে হাসপাতালে শুয়ে থাকার ছবি প্রকাশ্যে আসতেই উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে অনুরাগীদের মধ্যে। নাকে নল লাগানো সেই ছবি দেখে স্বাভাবিকভাবেই নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করে, কী হয়েছে তাঁর? ঠিক তখনই সামনে আসেন তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু সায়ক চক্রবর্তী। আবেগ চেপে রেখে তিনি জানান, দেবলীনা এখন চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে আছেন এবং আগের থেকে ভালো আছেন। সায়কের কথায় স্পষ্ট ছিল, এই পরিস্থিতি কোনও একদিনে তৈরি হয়নি, বরং দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ ও ব্যক্তিগত লড়াইয়ের ফলেই এমন জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি।

এই ঘটনার পর সমাজমাধ্যমে দু’রকম প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। একদিকে অধিকাংশ মানুষ দেবলীনাকে সাহস জোগাচ্ছেন, দ্রুত সুস্থ হয়ে ফেরার প্রার্থনা করছেন। আবার অন্যদিকে কিছু মানুষ সন্দেহ প্রকাশ করেছেন, আদৌ কোনও চরম সিদ্ধান্তের চেষ্টা হয়েছিল কি না, নাকি তিনি শুধুই শারীরিক অসুস্থতার কারণেই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন! এই বিভ্রান্তির একটা কারণ ছিল, দেবলীনাই বছরের প্রথম দিনে পানিহাটিতে যাওয়ার একটি ভিডিওতে তিনি জানিয়েছিলেন, দীর্ঘদিন ধরে স্লিপ-ডিস্কের সমস্যায় ভুগছেন তিনি। কোমরের তীব্র ব্যথা, ওঠাবসায় অসুবিধা আর শরীরের নানা অস্বস্তির কথাও তখন খোলাখুলি বলেছিলেন।

তবে এই সব আলোচনা ছাপিয়ে আরও এক ধরনের মন্তব্যও উঠে এসেছে, যা অনেকটাই বেদনাদায়ক। কেউ কেউ দেবলীনাকে আক্রমণ করে বলেছেন, বড়লোক শ্বশুরবাড়ি দেখে নাকি তিনি এই বিয়ে করেছিলেন, তাই এমন পরিস্থিতি! এই ধরনের মন্তব্য আবারও মনে করিয়ে দেয়, বাইরে থেকে কাউকে বিচার করা কতটা সহজ, অথচ ভেতরের লড়াইটা কতটা অদেখা থেকে যায়। দেবলীনাই তাঁর লাইভে বলেছিলেন, একজন মেয়েকে একসঙ্গে পরিবার, মা আর নিজের কাজের দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে কতটা চাপের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়।

আরও পড়ুনঃ “যারা আমাদের নিয়ে কথা বলেন তারা আসলে ড্রে’নের পোকা, যার সঙ্গে বিচ্ছেদ হয়েছে তার প্রেমে কি আবার পড়তে পারি না ?” — নিজের ভেঙে যাওয়া বৈবাহিক সম্পর্ক নিয়ে মুখ খুলে নিজের দর্শকদেরই কটাক্ষ করলেন সুদীপ মুখোপাধ্যায়?

সব মিলিয়ে এই মুহূর্তে একটাই বিষয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে দেবলীনাকে সুস্থ হয়ে উঠতে দেওয়া। কী হয়েছে, কেন হয়েছে, তার সব ব্যাখ্যা একদিন হয়তো তিনিই দেবেন, যদি দিতে চান। আপাতত তিনি চিকিৎসাধীন এবং ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা করছেন। কারণ যাই হোক না কেন, এই পরিস্থিতিতে সহানুভূতি আর মানবিকতা ছাড়া আর কিছুই কাম্য নয়, এই কথাটাই যেন বারবার সামনে এসে দাঁড়াচ্ছে। আমাদের কামনা তিনি দ্রুত আরোগ্য লাভ করবেন এবং জীবন যুদ্ধে জয়ী হবেন।

You cannot copy content of this page