বিনোদন জগতে একটি শব্দ প্রায়ই শোনা যায়—‘নেপোটিজম’। অর্থাৎ পরিবার বা পরিচিতির প্রভাবের কারণে কাজের সুযোগ পাওয়া। বহুদিন ধরেই এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে বলিউড থেকে টলিউড—সব জায়গাতেই। অনেকের মতে, তারকা পরিবারের সন্তানদের জন্য ইন্ডাস্ট্রিতে প্রবেশের পথ কিছুটা সহজ হয়ে যায়। আবার অন্যদিকে, যাঁরা কোনও চলচ্চিত্র পরিবার থেকে আসেন না, তাঁদের দীর্ঘ সময় ধরে সংগ্রাম করে নিজের জায়গা তৈরি করতে হয়। তাই নেপোটিজম নিয়ে বিতর্ক যেন ইন্ডাস্ট্রির পুরনো কিন্তু চিরচর্চিত এক বিষয়।
এই প্রেক্ষিতেই সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের মতামত খোলামেলা ভাবে জানিয়েছেন অভিনেত্রী ও নৃত্যশিল্পী শ্রীনন্দা শঙ্কর। তিনি বিখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী আনন্দ শঙ্কর ও নৃত্যশিল্পী তনুশ্রী শঙ্করের মেয়ে, পাশাপাশি অভিনেত্রী মমতা শঙ্করের ভাইঝি। ছোটবেলা থেকেই শিল্পের পরিবেশে বড় হওয়া শ্রীনন্দা অভিনয় এবং নাচ—দুই ক্ষেত্রেই নিজের আলাদা পরিচয় তৈরি করার চেষ্টা করেছেন। তবে পারিবারিক পরিচয়ের আলোচনার বাইরে থেকে নিজের কাজের মাধ্যমেই দর্শকের কাছে পৌঁছতে চান তিনি।
সেই সাক্ষাৎকারেই নেপোটিজম প্রসঙ্গে নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে শ্রীনন্দা বলেন, অনেকেই মনে করেন তারকা পরিবারের সন্তান হওয়া মানেই সবকিছু সহজ। কিন্তু বাস্তবে বিষয়টা অনেক সময় ঠিক উল্টোও হতে পারে। কারণ এমন পরিবারে জন্মালে চারপাশের মানুষের প্রত্যাশাও অনেক বেশি থাকে। সবাই ধরে নেন, সেই সন্তানকেও হয়তো বড় কিছু করতেই হবে। ফলে সেই প্রত্যাশার চাপ অনেক সময় আলাদা করে চাপ সৃষ্টি করে।
তিনি আরও বলেন, যদি কোনও নেপো কিড প্রথমেই পরিবারের পরিচয়ের কারণে সিনেমায় সুযোগ পেয়ে যান, তাহলে শুরু থেকেই নেপোটিজমের তকমা জুড়ে যায়। এমনকি ভালো কাজ করলেও অনেক সময় সেই মন্তব্য শুনতেই হয়। আবার উল্টো দিকটাও আছে। যদি কেউ অভিনয়ের পথে না গিয়ে সম্পূর্ণ আলাদা কিছু করতে চান, তখনও অনেকেই প্রশ্ন তোলেন—কেন সে অভিনয়ে এল না, অন্য কিছু করছে কেন? অর্থাৎ যে পথই বেছে নেওয়া হোক, সমালোচনা যেন পিছু ছাড়ে না।
আরও পড়ুনঃ “বাপের বাড়ি গিয়ে থাকো…”—কেন দর্শনাকে এমন কথা বলেন সৌরভ? অভিনয়ের মানসিক চাপ কি ঝড় তুলেছিল দাম্পত্য জীবনে?
এই কারণেই শ্রীনন্দার মতে, শেষ পর্যন্ত নিজের ইচ্ছেকেই গুরুত্ব দেওয়া উচিত। তিনি স্পষ্টভাবেই বলেন, মানুষ কী বলল তা ভেবে নিজের সিদ্ধান্ত বদলানো ঠিক নয়। একজন শিল্পী বা মানুষ হিসেবে যে কাজটা করতে ভালো লাগে, সেটাই করা উচিত। দর্শক সেটা গ্রহণ করলে ভালো, না করলে তারা অন্যদিকে চলে যাবে—এটাই বাস্তব। তাঁর এই খোলামেলা মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় আবারও নেপোটিজম নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।






