বিগত কয়েক বছরে বিনোদন জগতের বহু পরিচিত মুখকে সক্রিয় রাজনীতির ময়দানে দেখা যাচ্ছে। অভিনয় কিংবা গ্ল্যামারের জগত থেকে সরাসরি মানুষের জন্য কাজ করার লক্ষ্যেই অনেকে রাজনীতিকে নতুন পথ হিসেবে বেছে নিচ্ছেন। এই প্রবণতা নতুন নয়, তবে সাম্প্রতিক সময়ে তা আরও চোখে পড়ার মতো। জনপ্রিয়তা এবং মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ—এই দুইয়ের জোরেই অনেক তারকা রাজনৈতিক দলে যোগ দিয়ে নতুন অধ্যায় শুরু করছেন।
টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক বহু বছর ধরেই দর্শকদের কাছে বিশেষভাবে আদৃত। তার অভিনয় দক্ষতা যেমন দর্শকদের মুগ্ধ করেছে, তেমনি তার সহজ-সরল কথা বলার ধরন এবং ভদ্র ব্যবহারও মানুষকে আকৃষ্ট করেছে। বড় পর্দায় নানা চরিত্রে অভিনয় করে তিনি নিজের আলাদা জায়গা তৈরি করেছেন। অনেকের কাছেই তিনি শুধু অভিনেত্রী নন, বরং এক পরিচিত এবং প্রিয় মুখ।
দীর্ঘদিন দর্শকদের মন জয় করার পর এবার রাজনীতির পথে হাঁটলেন কোয়েল মল্লিক। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে তৃণমূল কংগ্রেস-এ যোগ দেন এবং সক্রিয় রাজনৈতিক জীবনের সূচনা করেন। দলের তরফে তাকে আসন্ন রাজ্যসভা নির্বাচনের জন্য প্রার্থী হিসেবেও মনোনীত করা হয়েছে। গত ৫ মার্চ তিনি পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় গিয়ে মনোনয়ন পত্র জমা দেন। সেই সময় তার পাশে ছিলেন তার স্বামী নিসপাল সিং রানে। যদিও তার এই সিদ্ধান্ত নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে—অনেকে সমর্থন করেছেন, আবার কেউ কেউ বিষয়টিকে সহজভাবে নেননি।
কোয়েলের রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার খবর নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অভিনেতা দেব। তিনি জানান, খবরটি শুনে তিনি ভীষণ খুশি হয়েছেন। দেবের কথায়, খবরটি পাওয়ার পর প্রথমে ফোনে প্রায় ১০ মিনিট শুধু হেসেই কাটিয়েছেন। অভিনেতার কথা স্পষ্ট, তিনি আগে থেকে কোয়েলের এই সিদ্ধান্ত সম্পর্কে জানতেন না। তবে তিনি মনে করেন কোয়েল খুবই সিরিয়াস এবং দায়িত্ববান মানুষ, তাই তিনি নিজের নতুন দায়িত্বও ভালোভাবে পালন করবেন। পাশাপাশি দেব ইঙ্গিত দেন, ভবিষ্যতে ‘খাদান ২’ ছবিতে তাদের দুজনকে আবার একসঙ্গে দেখা যেতে পারে।
আরও পড়ুনঃ সেই ঘটনার ছায়াতেই তৈরি ঋতুপর্ণ ঘোষের ‘দহন’!” — দাবি সাংবাদিক অনন্যা চক্রবর্তীর! তবে কি সত্যিটা চাপা দিতে চেয়েছিল প্রভাবশালীরা? লালবাতি এলাকার বাস্তবতা টেনে নারীর স্বাধীনতা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে প্রশ্ন তাঁর
রাজনীতিতে যোগ দিয়ে কোয়েল মল্লিক নিজের জীবনের এক নতুন অধ্যায় শুরু করেছেন বলেই জানিয়েছেন। এখন দেখার বিষয়, অভিনয় ও রাজনীতি—এই দুই জগতের মধ্যে তিনি কীভাবে নিজের ভারসাম্য বজায় রাখেন। দর্শকদের কাছে তিনি বরাবরই জনপ্রিয় মুখ। তাই আগামী দিনে তিনি রাজনৈতিক মঞ্চে হোক বা সিনেমার পর্দায়—কীভাবে নিজেকে তুলে ধরেন, সেদিকেই এখন সবার নজর।






