বিনোদন জগতের ঝলমল দুনিয়ায় মানুষ প্রায়শই কেবল হাসি, আনন্দ এবং গ্ল্যামারের ছবি দেখে। কিন্তু সেই ঝলমল পর্দার আড়ালে অনেক সময় থাকে এক অব্যক্ত যন্ত্রণা, মানসিক চাপ এবং একাকীত্ব। সেই বাস্তব দুনিয়ার অন্ধকারের মুখোমুখি হয় অনেক শিল্পী, যারা আমাদের বিনোদন দেয়। অভিনেত্রী ইন্দ্রাক্ষি নাগের জীবন সেই অন্ধকারের বাস্তব চিত্রের উদাহরণ।
ইন্দ্রাক্ষি নাগ, টলিপাড়ার পরিচিত মুখ, যার অভিনয় শুধু দর্শকদের মন কেড়ে নেয়নি, বরং অনেকে তার গল্প থেকে অনুপ্রেরণা নিয়েছেন। ছোট পর্দার নেগেটিভ চরিত্রে অভিনয় থেকে শুরু করে বড় পর্দায় আত্মবিশ্বাসী চেহারায় হাজির হওয়া, তার প্রতিটি পদক্ষেপই প্রমাণ করে যে সে এক সাধারণ মানুষ থেকে শক্তিশালী ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছে।
২০২১ এবং ২০২২ সাল ছিল ইন্দ্রাক্ষির জীবনের সবচেয়ে অন্ধকার সময়। একদিকে মানসিক অবসাদ, অন্যদিকে আর্থিক দুর্দশা। এমনকি ৩৫ হাজার টাকার প্রয়োজন হলে তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ছিল মাত্র ১৪০০-১৫০০ টাকা। এই সময় তিনি একেবারে একা অনুভব করতেন। পাশে কেউ সাহস দেওয়ার মতো ছিলেন না। তাই তিনি মোটিভেশনাল স্পিকারদের কথা শুনতে শুরু করেন, যা তাকে ধীরে ধীরে শক্তি ও আত্মবিশ্বাস জোগায়।
তার জীবনে আলো আসে, যখন তিনি মা সারদা এবং পরবর্তীতে তারাপীঠে সিরিয়ালে ডাক পান। দর্শকরা প্রথমে তার রাগী মুখ এবং নেগেটিভ চরিত্র দেখে অবাক হলেও, আসলে ভিতরে তিনি কোমল ও আন্তরিক। তিনি নিজেই বলেছেন, “মুখটা রাগী হলেও ভিতরে রয়েছে ছ্যাবলামি।” অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি একজন ভালো নৃত্যশিল্পী। ছোট পর্দার সাত পাকে বাঁধা সিরিয়ালে তিনি বড়লোক বাড়ির মেয়ে ও সাধারণ ট্যাক্সি ড্রাইভারের প্রেম কাহিনীতে অভিনয় করে নজর কেড়েছিলেন।
আরও পড়ুনঃ ‘ব্রাহ্মণ হয়ে গ’রুর মাং’স খেয়েছি, আত্মীয় একঘরে করেছে’ বিতর্কে জড়িয়েছেন স্বরলিপি! ‘বাড়িতে আমার বি’ফ রান্না হয়, অতিথিরাও খেয়েছেন!’ সমর্থন জুগিয়ে বললেন বিদীপ্তা চক্রবর্তী, ভাগ করলেন অভিজ্ঞতা!
বর্তমানে ইন্দ্রাক্ষি নাগ মা-বাবার সঙ্গে সল্টলেকের বাড়িতে থাকেন। সময় পেলেই তিনি বেলুড় মঠে যান, যেখানে দীক্ষিত। মানসিক চাপ বা আর্থিক টানাপোড়েনে পড়লে, বেলুর মাঠে গিয়ে তিনি শান্তি খুঁজে নেন। নিজের মুখেই বলেছেন, এখানেই তিনি নতুন শক্তি ও সাহস পান।






