সামাজিক মাধ্যমে কিছুদিন আগেই স্বরলিপি চট্টোপাধ্যায়ের (Swaralipi Chatterjee) একটি ছবি ঘিরে যে বিতর্ক দানা বেঁধেছিল, তার রেশ এখনও পুরোপুরি কাটেনি। একে তো হিন্দু, তারপর ব্রাহ্মণ হয়ে গোয়ায় ছুটি কাটাতে গিয়ে ‘গ’রুর মাং’স’ (Beef) খাওয়ার সেই মুহূর্তের ছবি প্রকাশ্যে আসতেই, আলোচনা যেন জনপ্রিয়তা ছাপিয়ে ঢুকে পড়েছিল ধর্ম, জাত আর ব্যক্তিগত পরিচয়ের গণ্ডিতে। বহু মানুষ তাঁর খাবারের পছন্দকে ব্যক্তিগত ব্যাপার হিসেবে না দেখে, সেটাকে ধর্মীয় অনুশাসনের সঙ্গে জুড়ে বিচার করতে শুরু করেন। এই ঘটনায় স্বরলিপির মন্তব্য আর পাল্টা প্রতিক্রিয়া অনেককেই ভাবতে বাধ্য করেছিল তখন।
এই বিতর্কের মাঝেই সম্প্রতি নিজের পডকাস্টে স্বরলিপি আমন্ত্রণ জানান অভিনেত্রী ‘বিদীপ্তা চক্রবর্তী’কে (Bidipta Chakraborty)। সেখানে কথার ফাঁকে আবার উঠে আসে সেই একই প্রসঙ্গ, ধর্ম আর খাওয়ার সম্পর্ক। স্বরলিপি জানান, শুধুমাত্র গ’রুর মাং’স খাওয়ার খবর শুনে তাঁর মাকে ফোন করে এক আত্মীয় স্পষ্ট বলে দিয়েছেন, ভবিষ্যতে তাঁদের কোনও আনন্দ অনুষ্ঠানে আর ডাকবেন না! বিষয়টা নিয়ে রাগ বা দুঃখ প্রকাশ না করে, বরং হেসেই স্বরলিপির প্রতিক্রিয়া ছিল, “এতে তো আমার লাভ! উপহার দেওয়ার খরচ বাঁচবে।” কথার মধ্যে দিয়েই তিনি বুঝিয়ে দেন, এই ধরনের সামাজিক চাপকে তিনি আর খুব একটা গুরুত্ব দিতে রাজি নন।
আলোচনায় বিদীপ্তা চক্রবর্তীও নিজের অভিজ্ঞতার কথা ভাগ করেন। তিনি জানান, তাঁর বাড়িতে আগেও গ’রুর মাং’স রান্না হয়েছে এবং তিনি নিজেও তা খেয়েছেন। একবার এক অতিথি তাঁর রান্না খেতে চেয়েছিলেন, যদিও আগেই সাবধান করে দেওয়া হয়েছিল যে এটি রেড মিট। অতিথি সে কথা শুনেও খেতে রাজি হন। বিদীপ্তার কথায়, “আমি তাঁকে বলেছিলাম যে রেড মিট কি তুমি খাবে? সে বলল হ্যাঁ, তোমার হাতের রান্না দারুন! তার পাঁচদিন বাদে যখন আমি ফোন করলাম, জানালাম যে ওটা গ’রুর মাং’স ছিল। সেটা শুনে বলল পাঁচদিন পর নাকি ওই জন্যই বমি হচ্ছে তাঁর!
আসলে সবটাই মাথায়, ধর্ম একটাই জিনিস যেটা দিয়ে মানুষকে ভয় দেখানো যায়।” তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট ছিল, অনেক সময় খাবারের সঙ্গে শরীরের প্রতিক্রিয়ার চেয়ে বেশি কাজ করে মানসিক ভয়! এছাড়াও তিনি মজা করে স্বরলিপিকে বলেন, “এই তোর ক্যাফেতে কি শুধু পো’র্ক পাওয়া যায়? বি’ফ পাওয়া যায় না?” প্রতিক্রিয়া দিয়ে স্বরলিপি কান চাপা দিয়ে বলেন, “কী বলছো তুমি এইসব? একদম বলো না, পাপ!” প্রসঙ্গত, এই দুই অভিনেত্রীর কথাবার্তায় বারবার ফিরে এসেছে একটি বিষয়।
খাবার নিয়ে মানুষের ভয় আর ধারণা আসলে কতটা সামাজিকভাবে তৈরি। ধর্মকে সামনে রেখে অনেক সময় এমন এক আতঙ্ক তৈরি করা হয়, যা যুক্তি বা বাস্তব অভিজ্ঞতার চেয়েও শক্তিশালী হয়ে ওঠে। স্বরলিপি বা বিদীপ্তার অভিজ্ঞতা সেই বাস্তবতারই প্রতিফলন, যেখানে ব্যক্তিগত পছন্দকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দেওয়া হয় শুধুমাত্র পরিচয়ের কারণে। উল্লেখ্য, স্বরলিপি আগেও নানা ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের জন্য সমালোচনার মুখে পড়েছেন, তবে এই বিতর্কে তাঁর অবস্থান ছিল স্পষ্ট।
আরও পড়ুনঃ দেবলীনা অসুস্থ…বন্ধুর পাশে দাঁড়ালে, হাসপাতালে ক্যামেরা তুলে ভ্লগ করতে হয় না!’ ‘জীবন-মৃ’ত্যু কনটেন্ট বানিয়ে, কি শেখাচ্ছি বাচ্চাদের?’ ‘৭৮টা ও’ষুধ’ বিতর্কে, নতুন প্রজন্মের জন্য ভয়ং’কর বার্তা! হাসপাতালের ভ্লগ থেকে ওষুধ-চর্চার বিরুদ্ধে সরব মানসী সেনগুপ্ত!
নিজের জীবন তিনি নিজের মতো করেই চালাতে চান। খাবার, বিশ্বাস বা জীবনযাপনের ধরন, কোনওটাতেই তিনি বাইরের অনুমতির প্রয়োজন দেখেন না। এইদিক থেকে বিদীপ্তা চক্রবর্তীও একমত। একসময়ের বান্ধবীর ছেলেকে বিয়ে করে, তীব্র কটাক্ষের মুখে পড়েছিলেন তিনি। এই অবস্থান হয়তো অনেকের অস্বস্তির কারণ, কিন্তু বর্তমানে তাঁরা নিজের মতো করে সুখী, যেখানে তৃতীয় ব্যক্তির সমালোচনা গুরুত্বহীন। এই বিষয়ে আপনাদের কী মতামত? খাবারের সঙ্গে ধর্মের কি সত্যিই কোনও সংযোগ আছে?






