জন্মের পরেই মেয়েটা পরিণত হয়েছিল মৃ’ত্যুপথযাত্রীতে! সেখান থেকে ফিরে, মায়ের অপূর্ণ স্বপ্ন বুকে আগলে বেঁচে আছে! জানেন, কীভাবে তিনি হয়ে উঠলেন আজকের অপরাজিতা আঢ্য? জীবনের না বলা গল্পটা ঠিক কেমন?

মা আর সন্তানের সম্পর্কটা এমনই, যাকে ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। জন্মের আগেই যে সম্পর্ক শুরু হয়, জীবনের শেষদিন পর্যন্ত তা এক অদৃশ্য শক্তির মতো আগলে রাখে দুজনকে। অভিনেত্রী অপরাজিতা আঢ্যের (Aparajita Adhya) জীবনে এই সম্পর্কটা আরও গভীর, আরও য’ন্ত্রণার আবার একই সঙ্গে আশ্চর্যরকম লড়াইয়ের গল্পে ভরা! বছর তিনেক আগে মাকে হারিয়ে অভিনেত্রীর জীবনে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা শুধু ব্যক্তিগত নয়। তার শিকড়ে জড়িয়ে থাকা স্মৃতি আর বেঁচে থাকার মানে নিয়েই সেই ক্ষতি। অপরাজিতার জন্ম নিজেই ছিল এক ভয়ংকর যু’দ্ধ!

প্রসঙ্গত, পৃথিবীতে আসার মুহূর্তে তিনি ছিলেন প্রায় মৃ’ত্যু পথযাত্রী এক সদ্যোজাত, যাঁকে নিয়ে চিকিৎসক থেকে পরিবার কারও মনেই নিশ্চিত বিশ্বাস ছিল না! সেই অভিজ্ঞতাকে ভাগ করে তিনি বলেন, “প্রসবের সময় মায়ের শরীর থেকে ছোট্ট একটা মাং’সপি’ণ্ড খসে পড়েছিল, সেটাই আমি ছিলাম।” দীর্ঘদিন হাসপাতালে কাটাতে হয়েছিল তাঁকে, জীবনের শুরুটাই হয়েছিল য’ন্ত্রণা আর অনিশ্চয়তার মধ্যে। সেই সময় চিকিৎসকদের যত্ন আর বাবার অটল বিশ্বাস মিলিয়েই বোধহয় বাঁচার পথ খুলে গিয়েছিল। হার না মানার এই গল্পই তাঁর নাম ঠিক করে ‘অপরাজিতা’, অর্থাৎ যিনি পরাজিত হন না।

শুধু তাই নয়, জীবন পেলেও, তা কেটেছে অভাবের মধ্যে। বিলাসিতা নয়, বরং দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটানোই ছিল সাধ্যের বাইরে। সেই কঠিন বাস্তবতার মাঝেই তাঁর মা স্বপ্ন দেখতেন মেয়েকে ঘিরে। মেয়ে যেন শিল্পী হয়, নিজের মতো করে বাঁচতে পারে। নিজে যে জীবনটা চেয়েও পাননি, সেটাই মেয়ের মধ্যে দেখতে চাইতেন তিনি। স্কুলে পড়িয়ে সংসার সামলানো মায়ের জীবনের ক্লান্তি অপরাজিতা খুব কাছ থেকে দেখেছেন আর সেখান থেকেই হয়তো নিজের জায়গা তৈরি করার জেদটা জন্ম নেয়। খুব অল্প বয়সেই জীবনের বড় সিদ্ধান্তটা নিয়ে ফেলেন অপরাজিতা।

মাত্র কয়েক দিনের পরিচয়ে বিয়ে করেন টেকনিশিয়ান অতনু হাজরাকে। সেই সময় পরিবারের কেউ মানেনaনি, বয়সের ফারাকটাই ছিল প্রধান কারণ। কিন্তু সবকিছুর ঊর্ধ্বে, আজ প্রায় তিন দশক ধরে দাম্পত্য জীবনে তাঁরা পাশে থেকেছেন একে অপরের। কখনও আলোয়, কখনও অন্ধকার সময়ে। নিজেদের সন্তান না থাকলেও মাতৃত্বের অভাব অনুভব করেননি অভিনেত্রী। পালিত কন্যা গার্গীই তাঁদের জীবনের কেন্দ্রবিন্দু। র’ক্তের সম্পর্ক না হলেও, বিশ্বাস আর ভালোবাসার জায়গায় কোনও ফাঁক রাখেননি কেউ।

আরও পড়ুনঃ ফিরছে ছোটপর্দার হিট জুটি রানী-দুর্জয়! নতুন বছরেই ‘তোমাদের রানী’র পর, আবারও একসঙ্গে কাজে অর্কপ্রভ-অভিকা! আসছে নতুন ধারাবাহিক? কীসের ইঙ্গিত দিলেন জুটি?

উল্লেখ্য, আজ অপরাজিতা আঢ্য ছোটপর্দা, বড়পর্দা বা ওয়েব, সব জায়গাতেই সমানভাবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন। কিন্তু সাফল্যের আড়ালে থেকে গেছে এক মেয়ের গল্প, যে মায়ের স্বপ্ন বয়ে নিয়ে বড় হয়েছে। মায়ের শেখানো শক্তি দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে শিখেছে। মাকে হারানোর য’ন্ত্রণা আজও তাঁকে ভারাক্রান্ত করে, তবু সেই স্মৃতিই হয়তো তাঁকে আরও মানবিক করে তুলেছে। জীবনের লড়াই, ভালোবাসা আর দায়িত্ব মিলিয়েই অপরাজিতা, যিনি সত্যিই হার মানতে জানেন না!

You cannot copy content of this page