দীর্ঘ ১৬ বছরের দাম্পত্য জীবনের পর বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত সহজে নেওয়া যায় না। তবু সেই পথেই হেঁটেছেন অভিনেত্রী তথা নৃত্যশিল্পী ‘শ্রীনন্দা শঙ্কর’ (Sreenanda Shankar)। ২০২৫ সালের শেষের দিকে পার্সি স্বামী জেভ সাতারাওয়ালার সঙ্গে আলাদা হওয়ার খবর সামনে আনেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন নীরব থাকার পর অবশেষে নিজের অনুভূতির কথা প্রকাশ্যে জানাতেই হতবাক হয়েছিলেন নেটিজেনরা। দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক মাধ্যমে তাদের পারিবারিক ছোটখাটো ভিডিও দেখে আনন্দ পেতেন অনেকেই, হঠাৎ করেই সেই দম্পতির আলাদা হয়ে যাবার মানতে পারেননি প্রথমে কেউই।
যদিও শ্রীনন্দা জানিয়েছেন, ঘোষণার অনেকদিন আগে থেকেই তারা আলাদা থাকছিলেন। এই মুহূর্তে মুম্বাইয়ের মায়া কাটিয়ে কলকাতায় ফিরেছেন তিনি। সম্প্রতি ‘স্টেট আপ উইথ শ্রী’-এর সাক্ষাৎকারে শ্রীনন্দা বলেন, এই সিদ্ধান্ত নিয়ে তাঁর মনে কোনও আক্ষেপ নেই। নিজের জীবনের এই পরিবর্তনকে তিনি দুঃখের চোখে দেখছেন না, বরং মনে করছেন এটি এমন একটি সিদ্ধান্ত যা তাঁকে শান্তি দিয়েছে। শ্রীনন্দার কথায়, সম্পর্কের ভাঙন মানেই সবসময় ব্যর্থতা নয়! অনেক সময় মানুষ নিজের মতো করে বাঁচতে না পারার অনুভূতি থেকেই এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়।
তাঁর মতে, যদি কোনও নারী বুঝতে পারেন যে সেই সম্পর্কে থেকে তিনি নিজের মতো থাকতে পারছেন না, তবে বিচ্ছেদের পথ বেছে নেওয়াকে নেতিবাচকভাবে দেখার কোনও কারণ নেই। বরং জীবনের বাস্তব পরিস্থিতিকে মেনে নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়াই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে তিনি উপলব্ধি করেছেন যে সময়ের সঙ্গে মানুষের ভাবনা, চাওয়া-পাওয়া সবই বদলে যেতে পারে। প্রসঙ্গত, দীর্ঘদিনের প্রেমের পর ২০০৯ সালে জেভ সাতারাওয়ালাকে বিয়ে করেছিলেন শ্রীনন্দা। মুম্বইয়ে গড়ে তুলেছিলেন তাঁদের সংসার।
সেই সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ায় শ্রীনন্দা নিজেই একটি পোস্টের মাধ্যমে জানান যে তাঁরা আনুষ্ঠানিকভাবে আলাদা হয়ে গেছেন। তবে, সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কিছুটা সময় নিয়েছিলেন দু’জনেই, কারণ ব্যক্তিগত জীবনের এই পরিবর্তনকে সামলানোর জন্য নিজেদের প্রস্তুত করা প্রয়োজন ছিল। তিনি আরও জানান, এই সিদ্ধান্ত একতরফা নয়, বরং দু’জনের পারস্পরিক সম্মতিতেই নেওয়া হয়েছে। তাঁদের দু’জনের কাছেই বিষয়টি শান্তি এনে দিয়েছে বলেই মনে করেন শ্রীনন্দা।
আরও পড়ুনঃ “বৌমা পছন্দ হয়নি, তোলপাড় করে ছাদ দিয়ে ফেলে দেবে!” অনন্যা-সুকান্তর বিয়ে নিয়ে সমালোচনার মাঝেই, সুকান্তর মাকে কেন এমন বললেন সায়ক? বিয়ের দিন গোমড়া মুখে ছিলেন তিনি! ছেলের বউ বাড়িতে পা রাখতেই কী প্রতিক্রিয়া তাঁর?
তিনি বুঝতে পেরেছেন যে সম্পর্কের ভাঙন নিয়ে বাইরে অনেক আলোচনা বা মন্তব্য হতে পারে, কিন্তু সেই সব প্রতিক্রিয়ার মধ্যে জড়িয়ে পড়তে তিনি আগ্রহী নন। ব্যক্তিগত জীবনের সীমারেখা বজায় রাখার বিষয়েও তিনি স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছেন। সাক্ষাৎকারে তিনি আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের কথাও বলেন। সামাজিক মাধ্যমের ভিডিওতে দেখা কয়েকটি মুহূর্ত দিয়ে কোনও দাম্পত্যের সম্পূর্ণ সত্যিটা বোঝা যায় না। বাইরের মানুষ যা দেখেন, তা আসলে জীবনের খুব ছোট একটি অংশ মাত্র। তাই ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে দ্রুত বিচার করার প্রবণতার বিরুদ্ধেই তিনি ইঙ্গিত করেন তিনি।






