যা আশঙ্কা ছিল সেটাই সত্যি! বিয়ের দিন উধাও কোয়েল, মিটিলের জন্য লেখা চিঠিতে ফাঁস ভ’য়ানক সব তথ্য! ‘চিরসখা’য় আজ বহু প্রতীক্ষিত বাবিল-মিটিলের শুভ পরিণয়!

স্টার জলসার ‘চিরসখা’ (Chiroshokha) এখন ঠিক সেই জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে, যেমনটা দর্শকরা অনেকদিন ধরেই মনে মনে আন্দাজ করছিলেন। গল্পটা যত এগোচ্ছিল, ততই বোঝা যাচ্ছিল কোথাও একটা বড় মোড় অপেক্ষা করে আছে। সম্পর্কের জট, না বলা কথা আর ভুল বোঝাবুঝির ভিড়ের মাঝেই বিয়ের আসর বসেছিল, অথচ সেই আনন্দের মুহূর্তেই আচমকা বদলে যায় সব হিসেব! আজকের পর্বে দেখা গেল, বিয়ে শুরু হওয়ার পর হঠাৎই কোয়েলকে আর কোথাও পাওয়া যাচ্ছে না। বাড়ি ভর্তি লোকজন, আত্মীয়স্বজন, সবাই তন্ন তন্ন করে খুঁজেও তার কোনও খোঁজ পেল না।

এই অস্বাভাবিক অনুপস্থিতিই প্রথমে সকলের মনে ভয়ের পাশাপাশি প্রশ্ন তুলে দেয়। এই খোঁজাখুঁজির মাঝেই সামনে আসে একটি চিঠি, যার নাম লেখা ছিল মিটিলের। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে চিঠিটা তাকেই পড়তে দেওয়া হয়। মিটিল যখন সেই চিঠি পড়তে শুরু করে, তখন একে একে এমন কিছু সত্য সামনে আসে, যা উপস্থিত সকলকে হতবাক করে দেয়। কোয়েল সেখানে জানায়, দীর্ঘদিন ধরেই তার সম্পর্ক ছিল এক ভিন ধর্মের ছেলের সঙ্গে। সেই সম্পর্কের ফল হিসেবেই সে অন্তঃসত্ত্বা। কিন্তু পরিবার এই সম্পর্ক কোনওভাবেই মেনে নেয়নি, বরং জোর করে তাকে সব কিছু ছিন্ন করতে বাধ্য করেছিল।

সেই চাপ আর অসহায়তা থেকেই সে এমন এক নাটকের পথ বেছে নিয়েছিল, যার পরিণতি আজকের এই বিশৃঙ্খলা। চিঠিতে কোয়েল আরও লিখেছিল, সে এমন একজনকে খুঁজছিল, যে তার সঙ্গে প্রেম আর বিয়ের অভিনয়টা অন্তত বিয়ের দিন পর্যন্ত টেনে নিয়ে যেতে পারবে। উদ্দেশ্য একটাই যে বিয়ের দিন, সবাই যখন ব্যস্ত থাকবে, তখন সুযোগ বুঝে নিজের ভালোবাসার মানুষের সঙ্গে পালিয়ে যাওয়া। বাবিলকে সে সেই কারণেই বেছে নিয়েছিল। কোয়েল স্বীকার করে, অন্য কারও সঙ্গে এই অভিনয় করলে হয়তো সে নিজেই জড়িয়ে পড়ত, সত্যিকারের সম্পর্ক তৈরি হয়ে যেত।

কিন্তু বাবিলের ক্ষেত্রে সেটা সম্ভব নয়, কারণ তার মন জুড়ে শুধুই মিটিল। বাবিল কখনওই তার জীবনে অন্য কারও জায়গা নিতে পারে না, এই বিশ্বাস থেকেই সে নিশ্চিত ছিল যে নাটকটা মাঝপথেই শেষ হবে। এই চিঠির সবচেয়ে আবেগঘন অংশ ছিল মিটিলের উদ্দেশে লেখা কথাগুলো। কোয়েল সেখানে জানায়, উপহার হিসেবে সে এই বিয়ে বাড়িটা মিটিলের জন্য রেখে যাচ্ছে। তার ইচ্ছে, এই মণ্ডপেই মিটিল আর বাবিলের বিয়ে হোক। নিজের ভুলের দায় স্বীকার করে সে এটুকু বলেই বিদায় নেয় যে ভবিষ্যতে সে একদিন তার স্বামী আর সন্তানের সঙ্গে দেখা করতে আসবে।

আরও পড়ুনঃ শো’কের অধ্যায় পেরিয়ে জীবনে ফিরছে আলো! প্র’য়াত বোন ঐন্দ্রিলা শর্মার শূন্যতা বুকে নিয়েই, জীবনের নতুন অধ্যায়ে পা রাখতে চলেছেন দিদি ঐশ্বর্য! বিয়ের পিঁড়িতে বসতে চলেছেন, কিন্তু পাত্র কে জানেন?

চিঠির শেষ লাইনগুলো পড়তে পড়তে মিটিলের চোখে জল চলে আসে, আর চারপাশে নেমে আসে এক অদ্ভুত নীরবতা। যেখানে রাগ নেই, আছে শুধুই সত্যের ভার। সব বাধা, ভুল বোঝাবুঝি আর কষ্টের দেওয়াল পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত যে পরিণয়টা হওয়ার ছিল, সেটাই বাস্তব হয়ে ওঠে। বাবিল আর মিটিল, যারা এতদিন নিজেদের অনুভূতিকে চেপে রেখেছিল, অবশেষে সেই মণ্ডপেই চার হাত এক করে। আজকের পর্বটাই যেন প্রমাণ যে সব অন্ধকারের শেষে সত্যিকারের ভালোবাসাই টিকে থাকে। দর্শকদের জন্যও শুধু চমক নয়, বরং এক পরিপূর্ণ সমাপ্তির স্বাদ দিয়ে গেছে, ঠিক যেমনটা তারা আশা করেছিলেন।

You cannot copy content of this page