শেষকৃ’ত্যে দে’হ ঘিরে দাঁড়াল প্রিয় পোষ্যরা! অবলাদের কা’ন্নার আওয়াজে স্তব্ধ সবাই! মায়ের শেষ মুহূর্তের স্মৃতি ভাগ করলেন কাঞ্চনা মৈত্র! পোষ্যদের চোখের জল দেখে, ভেঙে পড়েছেন অভিনেত্রী!

মা আর নেই এই সত্যটা এখনও মেনে নিতে পারছেন না অভিনেত্রী কাঞ্চনা মৈত্র। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত যেন সময় থমকে গিয়েছে তাঁর কাছে। আনন্দবাজার ডট কমকে তিনি জানালেন, পরিচিত কাউকে দেখলেই বলছেন, মা আর নেই। বারবার কথাটা উচ্চারণ করে নিজেকেই বোঝানোর চেষ্টা করছেন। হাসি আর স্বাভাবিক জীবনের মাঝেই যে এমন শূন্যতা নেমে আসতে পারে, তা ভাবতেই পারছেন না তিনি।

ঘটনার আগের রাতটাও ছিল একেবারে স্বাভাবিক। কাঞ্চনা দেরিতে বাড়ি ফিরেছিলেন নতুন ছবির প্রচারের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত থাকায়। বাড়িতে ঢুকে নিত্যদিনের মতো কিছু খুঁজে না পেয়ে চেঁচামেচি করেছিলেন। মা মঞ্জুশ্রী মৈত্র মজা করেই বলেছিলেন, সময় থাকতে গুছিয়ে রাখে না কেন। হাসি ঠাট্টার সেই মুহূর্তই হয়ে রইল শেষ স্মৃতি। আচমকাই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই সব শেষ হয়ে যায়।

মায়ের শেষ মুহূর্তের কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন কাঞ্চনা। কখনও জামাই দ্বৈপায়নের কাঁধে, কখনও তাঁর নিজের কাঁধে মাথা রেখে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন মা। সারাক্ষণ হাসি আনন্দে ভরা মানুষটিকে হারিয়ে যেন গোটা পরিবার স্তব্ধ। কাঞ্চনা নিজেকে কোনও রকমে সামলাতে পারলেও দ্বৈপায়নের অবস্থা আরও খারাপ। তিনি কিছুতেই এই বাস্তবতা মেনে নিতে পারছেন না।

শুধু মানুষ নয়, কাঞ্চনার বাড়ির পোষ্য আর পাড়ার কুকুরেরাও যেন এই শোক বুঝতে পেরেছে। মঞ্জুশ্রী প্রতিদিন প্রায় ত্রিশটি কুকুরকে খাওয়াতেন। শেষকৃত্যের সময় মরদেহ বাড়ির সামনে বেরোতেই পোষ্যরা ঘিরে ধরে কান্নার মতো আওয়াজ করতে থাকে। চোখে জল আর মায়ের শরীর আঁকড়ে ধরে থাকতে দেখে উপস্থিত সকলের মন ভারী হয়ে ওঠে।

আরও পড়ুনঃ যা আশঙ্কা ছিল সেটাই সত্যি! বিয়ের দিন উধাও কোয়েল, মিটিলের জন্য লেখা চিঠিতে ফাঁস ভ’য়ানক সব তথ্য! ‘চিরসখা’য় আজ বহু প্রতীক্ষিত বাবিল-মিটিলের শুভ পরিণয়!

অনেক আদর আর বোঝানোর পর কোনও মতে পোষ্যদের সরাতে পারেন কাঞ্চনা ও দ্বৈপায়ন। বিবাহিত কন্যা হয়েও তিনি সমস্ত নিয়ম মেনে মায়ের কাজ করছেন। এগারো দিন নিয়ম পালন করবেন, সেদ্ধ খাবার খাচ্ছেন এবং যথাসাধ্য সংযম বজায় রাখছেন। মায়ের স্মৃতি আর ভালোবাসা বুকে নিয়ে নতুন করে জীবন সামলানোর চেষ্টা করছেন অভিনেত্রী।

You cannot copy content of this page