এক সময়ের ছোটপর্দার প্রিয় মুখ ‘সায়ক চক্রবর্তী’ (Sayak Chakraborty) এখন আর দর্শকদের কাছে শুধু অভিনেতা হিসেবেই নন, একজন ইনফ্লুয়েন্সার হিসেবেই পরিচিত। ছোটপর্দায় এখন তাঁকে খুব একটা দেখা যায় না। তাও অভিনয়ের কাজে ব্যস্ত থাকলেও, সমাজ মাধ্যমে তাঁর উপস্থিতি বরাবরই চোখে পড়ার মতো। ভ্লগের মাধ্যমে নিজের প্রতিদিনের জীবন, কাজের ফাঁকের ছোট ছোট মুহূর্ত কিংবা নতুন অভিজ্ঞতা তিনি অকপটে ভাগ করে নেন। এই ধারাবাহিক উপস্থিতির কারণেই ধীরে ধীরে সায়ক নিজেকে আলাদা করে চেনাতে পেরেছেন ডিজিটাল দুনিয়াতেও।
অভিনয় জীবনে ফিরে আসা, কাজের চাপ, সবকিছুর মাঝেও ভ্লগিং যে তাঁর কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা তিনি বহুবারই জানিয়েছেন। তাঁর কথাবার্তায় বরাবরই থাকে একধরনের স্পষ্টতা। কোনও ঘটনা তাঁকে নাড়া দিলে, সে ভালো হোক বা অস্বস্তিকর, তিনি চুপ করে থাকেন না। নিজের উপলব্ধি সমাজ মাধ্যমে তুলে ধরতেই স্বচ্ছন্দ বোধ করেন তিনি আর সেই জায়গাটাই তাঁকে অনেকের থেকে আলাদা করে দেয়। এদিনও তার ব্যতিক্রম হয়নি। বন্ধু সুকান্ত এবং অনন্যার বিয়ের প্রস্তুতির জন্য তাঁদের সঙ্গে কেনাকাটায় বেরোনোর আগে, নিজের গাড়িতে বসেই একটি ভিডিও পোস্ট করেন সায়ক।
সেখানে তিনি জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে পাওয়া কিছু নতুন উপলব্ধির কথা বলেন। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষ আর সম্পর্ককে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি কীভাবে বদলায়, সেটাই উঠে আসে তাঁর কথায়। তিনি বলেন, “মানুষের বয়স যত বাড়তে থাকে, ততই অভিজ্ঞতার সঙ্গে নিত্যনতুন উপলব্ধিও হয়। মানুষ বুঝতে শেখে কোনটা তার জন্য ঠিক আর কোনটা ভুল। ঠিক সেই রকমই আমিও একটা জিনিস উপলব্ধি করেছি বা বলা ভালো বুঝতে শিখেছি সম্প্রতি। ছোটবেলা থেকেই জেনে এসেছি, যে মানুষ বা বন্ধু বিপদের সময় পাশে দাঁড়ায়, সে-ই আসলে প্রকৃত শুভাকাঙ্ক্ষী। কিন্তু এখনকার সময়ে দাঁড়িয়ে বিষয়টা ঠিক এর উল্টো!
আজকের বিপদের সময় পাশে থাকার হাজার একটা মানুষ হয়তো পেয়ে যাবে আর তার মধ্যে অধিকাংশ মানুষেরাই একদিন মনে মনে ভেবেছিল, তোমার এত উন্নতি হচ্ছে কেন? তোমার খারাপ থাকার কামনা করেছিল! এবার সত্যিই তোমার বিপদে, সে এসে বলবে যে ‘আহারে কি অবস্থা!’ চিন্তা করিস না, সব ঠিক হয়ে যাবে।’ সহানুভূতি দেওয়ার মানুষের অভাব নেই, কিন্তু আমার উপলব্ধি বলছে ভালো সময়ে তোমার পাশে দাঁড়ানোর বা উদযাপন করার মানুষের সংখ্যা দিন দিন করেছে! তোমার জীবনে উন্নতি হবে, তোমার একটু নাম বাড়বে, তখন সেই ভালোগুলো নেওয়ার মতো ক্ষমতা খুব কম বন্ধুর থাকে।
তারা হয়তো তোমার সামনে সেটা প্রকাশ করবে না, মিথ্যে হাসির আড়ালে তাদের মনে তখনও তুলনাই চলবে। নিজেকে বারবার সে প্রশ্ন করবে, কি করে তুমি এসব করলে? উত্তর না পেলেই খারাপ কিছুর সঙ্গে তোমার নাম জুড়ে নিজেকে সান্ত্বনা দেবে। এই যে খারাপ দৃষ্টি গুলো, থেকে বেশি ক্ষতি করে আমাদের। তাই সময় থাকতে থাকতে নিজের পরিসরটা বুঝে নেওয়া উচিত। ভাবতেই অবাক লাগে, এক সময় আমার এত বন্ধু ছিল যে বাড়িতেই থাকতাম না! সারাদিন বন্ধুদের সাথে ঘুরে বেড়াতাম, এখন বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সংখ্যাও কমেছে তাদের।
আরও পড়ুনঃ “আরও একটু সতর্ক জীবন যাপন করতে হবে!” বাবা হওয়ার পর, বদলে ফেলেছেন জীবনের অগ্রাধিকার! ধীরের কাছে আদর্শ বাবা হয়ে উঠতে চান গৌরব চক্রবর্তী! কী পদক্ষেপ নিচ্ছেন এখন থেকেই?
তাদের স্মৃতি মনে দুঃখ দেয়, কিন্তু এটাই জীবন।” বন্ধুত্বের সংখ্যা কমে যাওয়ার আক্ষেপ থাকলেও, তিনি সেটাকে জীবনের স্বাভাবিক পরিণতি হিসেবেই দেখছেন। অতীতের স্মৃতি মনে পড়লে মন খারাপ হয়, কিন্তু সেই সঙ্গে বর্তমানের বাস্তবতাও তিনি মেনে নিতে শিখেছেন। ভিডিওর শেষে অবশ্য নিজের স্বভাবসিদ্ধ রসিকতাও রাখতে ভুললেন না সায়ক। বন্ধুর বিয়েতে যাওয়ার প্রসঙ্গে তিনি হেসে বলেন, “যতই আমাকে আপনারা ‘ডিভোর্স স্পেশালিস্ট’ বলুন। আমি থাকলেই নাকি বিয়ে ভেঙে যায় সবার, তবুও বন্ধুর বিয়েতে আমি যাবই!” স্পষ্ট কথা, মজা আর জীবনের অভিজ্ঞতায় সায়ক তাঁর দর্শকদের কাছে হয়ে উঠেছেন আরও আপন।






