“শেষে তোমার সন্তান নয়, কাজই তোমায় বাঁচিয়ে রাখবে!” “হিরোইন সুলভ চেহারা নয়, তাই ইন্ডাস্ট্রি আমায় হারালো!” অভিজ্ঞতার আলোকে স্পষ্ট বক্তব্য স্বাগতা মুখার্জির! নিজের লড়াইকে সামনে রেখে, গ্ল্যামারের আড়ালের কোন কঠিন বাস্তবতা তুলে ধরলেন তিনি?

বিনোদন জগত বাইরে থেকে যতটা ঝলমলে দেখায়, তার আড়ালে ঠিক ততটাই কঠিন বাস্তবতা লুকিয়ে থাকে। কেবল আলো, ক্যামেরা আর পুরস্কারের মধ্যে নয়, শিল্পীদের জীবনেও চলতে থাকে মানসিক চাপ, পারিবারিক সমন্বয় আর নিজের মান ধরে রাখার লড়াই। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী স্বাগতা মুখার্জি সেই অদেখা বাস্তবতার দিকটাই সামনে এনেছেন। কী সেই লড়াইয়ের গল্প?

স্বাগতা দীর্ঘদিন ধরে অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকের মনোরঞ্জন করে আসছেন। ছোট পর্দা হোক বা নতুন ওরিজিনাল সিরিজ, প্রতিটি চরিত্রে নিজের দক্ষতা প্রমাণ করেছেন। সম্প্রতি হইচই অরিজিনাল সিরিজে শুভশ্রীর সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি। সেখানে তিনি একটি কয়েদির চরিত্রে অভিনয় করেছেন এবং গানও গেয়েছেন। সাক্ষাৎকারে, নিজেকে নিয়ে রসিকতার ছলে স্বাগতা জানান, “চেহারাটা হিরোইন সুলভ ছিল না, সেই জন্য ইন্ডাস্ট্রি আমায় হারালো”।

এই মন্তব্যে রসিকতা থাকলেও অভিনেত্রীর কথায় বোঝা যায় তিনি বারবার কেন খল চরিত্র পেয়ে এসেছেন বা প্রতিভা থাকা সত্ত্বেও কেন তিনি নায়িকা চরিত্রে অভিনয় করতে পারেননি। দর্শকের কাছে স্বাগতা মুখার্জি অনেক সময়ই খলনায়িকার চরিত্রে পরিচিত। নেগেটিভ চরিত্রে তার অভিনয় এতটাই বিশ্বাসযোগ্য যে, সেই ইমেজটাই দর্শকের মনে গেঁথে গেছে। তবে বাস্তবে নিজের কাজ, পারিবারিক সম্পর্ক এবং শিল্পী জীবনকে তিনি অত্যন্ত পজিটিভ দৃষ্টিকোণ থেকে দেখেন।

সম্প্রতি সাক্ষাৎকারে উঠে আসে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য। অভিনেত্রী শ্বশুরমশাই তাঁকে বলেছেন, “তোমার সন্তান তোমায় বাঁচিয়ে রাখবে না, কিন্তু কাজ বাঁচিয়ে রাখবে”। এত বছর ইন্ডাস্ট্রিতে থাকা সত্ত্বেও স্বাগতার কোনো কন্ট্রোভার্সি বা সম্পর্কের আলোড়ন কেন নেই-এই প্রশ্ন উঠতেই তিনি জানান, তার স্বামী বিয়ের পর থেকেই অত্যন্ত সমর্থনশীল, এবং পারিবারিক দিক থেকেও কোনও চাপ সৃষ্টি হয়নি।

আরও পড়ুনঃ অল্প বয়সে ‘মা’ হওয়া নিয়ে কোনও দ্বিধা নেই! ‘গৃহপ্রবেশ’-এর নতুন অধ্যায় নিয়ে মুখ খুললেন ঊষসী রায়! কী জানালেন অভিনেত্রী?

অর্থাৎ অভিনেত্রী শ্বশুরের কথা অনুযায়ী দশ বছর পর সন্তান হয়তো ছবিটা দেয়াল থেকে নামিয়ে দেবে। কিন্তু ভালো কাজ করলে ২০-২৫ বছর পরেও মানুষ একজন শিল্পীকে মনে রাখে। এই সাক্ষাৎকার নতুন করে তুলে ধরেছে যে, গ্ল্যামারের আড়ালে প্রতিভা, পরিশ্রম এবং কাজের গুরুত্বই একজন শিল্পীর আসল নিরাপত্তা। ব্যক্তিগত জীবন বা পারিবারিক সুবিধা যতই থাকুক, শেষ কথাটি সবসময় কাজের ওপরই নির্ভরশীল।

You cannot copy content of this page