টলিউডে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের নাম মানেই এক আলাদা মর্যাদা, সম্মান এবং দীর্ঘ লড়াইয়ের ইতিহাস। বাংলা সিনেমা যখন একসময় কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিল, তখন একাই ইন্ডাস্ট্রিকে টেনে তুলেছিলেন বুম্বাদা। তবু তাঁর বিরুদ্ধে মাঝেমধ্যেই নানা কানাঘুষো শোনা যায়। একাধিক তারকা প্রকাশ্যে অভিযোগ তুলেছেন, যা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিতর্কও কম হয়নি। সেই তালিকায় যিশু সেনগুপ্তের নামও উঠে এসেছে বহুবার। শোনা যেত, নাকি কেরিয়ারের শুরুর দিকে প্রসেনজিতের কারণে ভালো কাজের সুযোগ পাননি যিশু। তবে এবার সেই সব গুজবের স্পষ্ট জবাব দিলেন অভিনেতা নিজেই।
সম্প্রতি খাদান মুক্তির পর এক সাক্ষাৎকারে যিশু অকপটে জানালেন তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা। তিনি বলেন, বুম্বাদা কখনও তাঁকে কোনও চরিত্র জোর করে চাপিয়ে দেননি কিংবা নিজের সুবিধার জন্য অন্যের সুযোগ কেড়ে নেননি। যিশুর কথায়, তিনি নিজেই নিজের চরিত্র বেছে নিয়েছেন এবং কখনও এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়নি, যেখানে তাঁর পার্ট কেটে ছোট করে দেওয়া হয়েছে। এই ধরনের ধারণাকে তিনি মানুষের বিশ্বাস বলেই মনে করেন। যিশু স্পষ্ট জানান, তাঁর বিশ্বাস আলাদা এবং তিনি মন থেকে প্রসেনজিতকে শ্রদ্ধা করেন ও ভালোবাসেন।
অভিনেতা আরও বলেন, ইন্ডাস্ট্রির অনেকেই একসময় তাঁকে বলেছিলেন যে প্রসেনজিৎ নাকি তাঁকে এগোতে দেননি। কিন্তু এই কথায় তিনি কোনওদিনই বিশ্বাস করেননি। যিশুর মতে, নিজের সীমাবদ্ধতা ঢাকতে অন্যকে দোষারোপ করা ঠিক নয়। যদি কেউ নিজের কাজ দিয়ে এগোতে না পারে, তাহলে তার দায় অন্যের উপর চাপানো উচিত নয়। এই মানসিকতা থেকেই তিনি সব সময় নিজের ভুলত্রুটি এবং শেখার জায়গাগুলোকে গুরুত্ব দেন।
যিশুর যুক্তি আরও বাস্তববাদী। তিনি বলেন, প্রসেনজিৎ যদি সেই উচ্চতায় পৌঁছে অন্যদের প্রভাবিত করতে পারেন, সেটাই তাঁর সাফল্যের প্রমাণ। তিনি নিজে যদি সেই জায়গায় পৌঁছতে না পারেন, তবে তা নিয়ে হিংসা বা অভিযোগ করার কোনও মানে নেই। বরং একজন শিল্পী হিসেবে বুম্বাদার লড়াই, অবস্থান এবং অর্জনকে তিনি সম্মান জানান। এই দৃষ্টিভঙ্গিই তাঁকে আলাদা করে তোলে এবং ইন্ডাস্ট্রির প্রতি তাঁর ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করে।
আরও পড়ুনঃ স্ত্রী ও একরত্তি মেয়েকে নিয়ে সফরে রাহুল, বিমানবন্দরে নেমেই বিপত্তি! সন্তানকে নিয়ে প্রথম ভ্রমণ, অপ্রত্যাশিত ঘটনার মুখে আনন্দ মুহূর্তে বদলে গেল চিন্তায়! ঠিক কী ঘটেছে?
সব মিলিয়ে যিশুর বক্তব্য একটাই, সম্পর্কের ভিতর কোনও তিক্ততা নেই, আছে শুধুই শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা। গুজব, কানাঘুষো বা অন্যের কথায় বিশ্বাস না করে নিজের অভিজ্ঞতাকেই তিনি গুরুত্ব দেন। তাঁর এই স্পষ্ট অবস্থান আবারও প্রমাণ করল, টলিউডে প্রতিযোগিতা থাকলেও পারস্পরিক সম্মান এবং সৌহার্দ্য বজায় রাখাই প্রকৃত সাফল্যের চাবিকাঠি।






