‘পিসির জন্য খুব খারাপ লাগে…’ মমতা শঙ্করকে নিয়ে কেন এমন মন্তব্য, ভাইঝি শ্রীনন্দা শঙ্করের? খ্যাতির আড়ালে লুকিয়ে থাকা, কোন মা’নসিক চাপের কথা আনলেন সামনে? কেনই বা ক্যামেরার পেছনে থাকতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন অভিনেত্রী?

বিনোদন জগতকে বাইরে থেকে যতটা ঝলমলে মনে হয়, বাস্তবে তার আড়ালে লুকিয়ে থাকে বহু অজানা গল্প। দর্শকরা সাধারণত শিল্পীদের অভিনয়, নাচ কিংবা কাজের মাধ্যমে চেনেন। কিন্তু একজন শিল্পীর ব্যক্তিগত জীবন, ভাবনা-চিন্তা কিংবা পারিবারিক সম্পর্কের ভেতরের দিকটা খুব কমই সামনে আসে। তবু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই কৌতূহল আরও বেড়েছে। এখন শুধু কাজ নয়, একজন শিল্পী কীভাবে ভাবেন, কীভাবে কথা বলেন বা নিজের পরিবারকে কীভাবে দেখেন—এই সব বিষয়ও জানতে চান দর্শকরা। ফলে অনেক সময় শিল্পীদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও তৈরি হয় নানা আলোচনা, সমালোচনা কিংবা বিতর্ক।

এই প্রেক্ষিতেই সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের অভিজ্ঞতা ও মতামত নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন অভিনেত্রী ও নৃত্যশিল্পী শ্রীনন্দা শঙ্কর(Sreenanda Shankar)। তিনি প্রখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী আনন্দ শঙ্কর এবং নৃত্যশিল্পী তনুশ্রী শঙ্করের মেয়ে, পাশাপাশি কিংবদন্তি শিল্পী মমতা শঙ্করের ভাইঝি। ছোটবেলা থেকেই শিল্পের পরিবেশে বড় হওয়া শ্রীনন্দা অভিনয় ও নাচ—দু’ক্ষেত্রেই নিজের পরিচয় তৈরি করেছেন। তবে আলোচনার কেন্দ্রে থাকার চেয়ে কাজের জায়গাটাকেই বেশি গুরুত্ব দিতে পছন্দ করেন তিনি। সেই কারণেই ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে শিল্পীজীবনের নানা অভিজ্ঞতা নিয়েই তিনি নিজের মতামত তুলে ধরেছেন।

সাক্ষাৎকারে শ্রীনন্দা প্রথমেই তুলে ধরেছেন বডি শেমিংয়ের অভিজ্ঞতা। তিনি জানান, একসময় তার ওজন বেশি ছিল এবং সেই সময় তাকে নানা কটাক্ষের মুখে পড়তে হয়েছে। কিন্তু পরবর্তীতে যখন তার চেহারায় পরিবর্তন আসে, তখনও সমালোচনা থামেনি। তার মতে, মানুষের সঙ্গে অনেক দিন পর দেখা হলে প্রথমেই তার শরীর বা চেহারা নিয়ে মন্তব্য করা ঠিক নয়। বরং আগে মানুষটিকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। সেক্ষেত্রে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, “কেউ যদি বডি শেমিং করে, তাহলে চোখের দিকে তাকিয়ে বলা উচিত আগে বডি দেখছো কেনো?” –এইভাবেই প্রতিবাদ জানানো উচিত।

শুধু ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাই নয়, বিনোদন জগতের বাস্তবতাও তুলে ধরেছেন শ্রীনন্দা। তিনি জানান, যে কয়েকটি সিনেমায় তিনি কাজ করেছেন, সেগুলো ভালো পরিচালকদের সঙ্গেই করেছেন। যদিও অভিনয়ের জন্য তার কাছে আরও সুযোগ ছিল, তবু তিনি সব সময় ক্যামেরার সামনে থাকার চেয়ে অনেক সময় পর্দার পিছনের কাজকে বেশি পছন্দ করেন। তার মতে, যারা এই ইন্ডাস্ট্রিতে মূল আলোচনার কেন্দ্রে থাকেন, তাদের সব সময় তীব্র প্রতিযোগিতার মধ্যে থাকতে হয়। তাই বাইরে থেকে যতটা সফলতা দেখা যায়, বাস্তবে তার সঙ্গে মানসিক চাপও সমানভাবে জড়িয়ে থাকে।

আরও পড়ুনঃ “খুবই ভয়ংকর, আমি আর ঈশ্বরই জানি কীভাবে বাড়ি ফিরেছি!” মধ্যরাতে শুটিং থেকে ফেরার পথে আ’তঙ্কের অভিজ্ঞতা শেয়ার করলেন রণজয় বিষ্ণু! রাস্তায় কী এমন হয়েছে অভিনেতার সঙ্গে?

আলোচনার এক পর্যায়ে উঠে আসে তার পিসি মমতা শঙ্করের প্রসঙ্গ। বিভিন্ন সময় নিজের মতামতের জন্য খবরের শিরোনামে এসেছেন মমতা শঙ্কর এবং অনেক ক্ষেত্রেই তাকে ট্রোলের মুখেও পড়তে হয়েছে। এই প্রসঙ্গে শ্রীনন্দা বলেন, বর্তমানে অনেক সময় মিডিয়ায় শিল্পীর কাজের চেয়ে ব্যক্তিগত জীবনকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। ফলে শিল্পীর কাজ নিয়ে আলোচনা হওয়ার বদলে ব্যক্তিগত মতামত বা চিন্তাধারা নিয়েই বেশি প্রশ্ন তোলা হয়। তার মতে, মমতা শঙ্কর অন্য প্রজন্মের মানুষ, তাই তিনি নিজের অভিজ্ঞতা ও ভাবনার জায়গা থেকে কথা বলেন। কিন্তু সেই কথাগুলো থেকেই অনেক সময় অযথা সমালোচনা তৈরি হয়। আর সেই কারণেই পিসিকে নিয়ে ট্রোল হলে ব্যক্তিগতভাবে তার খারাপ লাগে বলে জানান শ্রীনন্দা শঙ্কর।

You cannot copy content of this page