টলিউড মেগাস্টার ‘দেব’ (Dev) গতকাল নিজের সমাজ মাধ্যমে একটি ডাকটিকিটের ছবি ভাগ করে নেওয়ার পর থেকেই বিষয়টি ঘিরে আলোচনার ঝড় ওঠে। টিকিটে নিজের প্রতিকৃতি দেখে তিনি যে সত্যিই আপ্লুত, তা তাঁর লেখার ভাষাতেই স্পষ্ট ছিল। কৃতজ্ঞতার সঙ্গে দেব জানিয়েছিলেন, এই সম্মান তাঁর কাছে শুধুই একজন অভিনেতা হিসেবে প্রাপ্ত স্বীকৃতি নয়, বরং দীর্ঘদিন ধরে মানুষের পাশে থাকার ফল। স্বাভাবিকভাবেই অনুরাগীদের একাংশ বিষয়টিকে দেখেছিলেন জাতীয় স্তরে তাঁর কাজের স্বীকৃতি হিসেবেই।
তবে পোস্টটি যত দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে থাকে, ততই কিছু প্রশ্ন সামনে আসতে শুরু করে। অনেকেই খেয়াল করেন, ভারতীয় ডাকবিভাগের একটি নির্দিষ্ট পরিষেবা রয়েছে, যার নাম “মাই স্ট্যাম্প” (My Stamp)। এই পরিষেবার মাধ্যমে নির্দিষ্ট অর্থের (৩০০) বিনিময়ে যে কেউ নিজের পছন্দের ছবি দিয়ে পার্সোনালাইজড ডাকটিকিট বানাতে পারেন! সমাজ মাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে, দেব যে স্ট্যাম্পটির ছবি পোস্ট করেছিলেন, সেটিও সেই পরিষেবার মাধ্যমেই তৈরি হতে পারে!
ফলে সরকারি ভাবে তাঁর সম্মানে আলাদা করে ডাকটিকিট প্রকাশিত হয়েছে কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। এই প্রসঙ্গ সামনে আসতেই আবার নতুন করে সমালোচনা শুরু হয়েছে সমাজ মাধ্যমে। কেউ কেউ মনে করছেন, হয়তো কোনও ভক্ত ভালোবেসে এই স্ট্যাম্প বানিয়ে দেবকে পাঠিয়েছেন আর অভিনেতা সেটিকে সরকারি সম্মান ভেবে ফেলেছেন। আবার অনেকের মতে, বিষয়টি পোস্ট করার আগে আরও একটু যাচাই করলে এই বিভ্রান্তি তৈরি হত না। ধীরে ধীরে প্রশংসার জায়গা দখল করে নিচ্ছে প্রশ্ন আর কটাক্ষ!
সমালোচনার ভাষাও যে বেশ তীক্ষ্ণ, তা কমেন্ট বক্সে চোখ রাখলেই বোঝা যাচ্ছে। কেউ লিখেছেন, “এত বড়ো মুখ করে খবরটা দিলেন, আর বাঙালি হিসেবে আমার বুক চড়চড় করে বাইশ ইন্চি এমন বেড়ে গেলো যে পুরানো জামা গুলো এখন গায়ে হচ্ছে না। কি হবে এখন?” আবার আরেকজনের মন্তব্য, “এর জন্য পকেট থেকে ৩০০ টাকা খরচ কে করে? নিজেই কাউকে দিয়ে করিয়েছে তারপর পোস্ট করেছে। কিন্তু এই পাবলিসিটি যে এই যুগে এক পলকেই ধরা পড়ে যাবে সেটা পিআর টিম একে বলেনি?”
আরও পড়ুনঃ “তোকে আমার ভাই হতে হবে…কেটে আমার পার্টগুলো ছোট করে দিয়েছিল” যিশু সেনগুপ্তের কেরিয়ার নিয়ে বি’স্ফোরক দাবি! হিংসায় প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় হিরো হতে দেননি তাঁকে? কি সত্য, কি মিথ্যা?
এমনকি কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, “এত বোকা কি মানুষ হয়? আবার আত্মবিশ্বাসের জোরে এখনো ডিলিট করেনি পোস্টটা!” সব মিলিয়ে দেবকে ঘিরে এই ঘটনাটি এখন আর শুধুই একটি ডাকটিকিটে সীমাবদ্ধ নেই। একজন জনপ্রিয় অভিনেতা ও সাংসদের একটি পোস্ট কীভাবে মুহূর্তের মধ্যে ভিন্ন দিকে মোড় নিতে পারে, তারই উদাহরণ হয়ে উঠেছে বিষয়টি। এখনও পর্যন্ত দেব নিজে এই বিতর্ক নিয়ে নতুন করে কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি। ফলে ভুল বোঝাবুঝি নাকি তাড়াহুড়োর ফল, নাকি আদৌ অন্য কোনও ব্যাখ্যা আছে, সেই প্রশ্নের উত্তর আপাতত সমাজ মাধ্যমের জল্পনাতেই ঘুরপাক খাচ্ছে।






