“বাবা আমাকে ছেলে বলেও মানতে অস্বীকার করেছিলেন, খাওয়া-দাওয়া বন্ধ হয়ে গিয়েছিল ঘরে!” কষ্টের সঙ্গে বললেন মিঠুন চক্রবর্তী! কেন বাবা সহ্য করতে পারতেন না তাঁকে? কেনই বা পরিবারের সাথে ঘটেছিল বিচ্ছেদ?

জীবনে প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তি হতে গেলে শুধু প্রতিভা আর পরিশ্রমই যথেষ্ট নয়। অনেক সময় জীবনের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর জন্য নিজের কিছু সেক্রিফাইস করতে হয়। পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক, ব্যক্তিগত সুখ—সবকিছুর সঙ্গে আপোষ করতে হয়। সেই ত্যাগের পথটা কখনও কখনও একা চলার মতো কঠিন হয়ে ওঠে। এই বাস্তবতার সাক্ষী হয়েছেন আমাদের সুপরিচিত অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী।

মিঠুন চক্রবর্তী শুধু টলিউডেরই নয়, গোটা দেশের প্রেক্ষাপটে একজন বিশিষ্ট অভিনেতা। ছোটবেলা থেকেই তিনি স্বপ্ন দেখেছিলেন বড় পর্দায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার। তবু তার পথ কখনও সহজ ছিল না। মুম্বইয়ে এসে নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়া, অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা—সবই ছিল তার জীবনের অংশ।

অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী কেবল অভিনয়েই সীমাবদ্ধ ছিলেন না, তিনি নিজেকে একাধিক দিক থেকে প্রমাণ করেছেন। স্টার হওয়ার পরেও তার ব্যক্তিগত জীবন, পরিবারের সঙ্গে সম্পর্কের জটিলতা তার কাছে সবসময়ই চ্যালেঞ্জ হয়ে ছিল। তবে তার দৃঢ় মনোবল তাকে কখনও থামাতে পারেনি।

মিঠুন স্বীকার করেছেন, “আমার বাবার সঙ্গে আমার সম্পর্ক প্রথম থেকেই খারাপ ছিল। বাবা চাইতেন না আমি রাজনীতিতে যাই। তখন থেকে আমাদের মধ্যে মনমালিন্য তৈরি হয়। এমনকি আমার খাওয়া-দাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। একদিন তিনি সরাসরি বলেছিলেন, ‘আমি মনে করব আমার ছেলে নেই’। তখন আমার কাছে আর রাস্তাই ছিল না, তাই আমি বম্বে চলে যাই।”

আরও পড়ুনঃ “বড়ো মুখ করে খবরটা দিলেন, বাঙালির বুক চওড়া হয়ে গেল, কি হবে এখন?” “নিজেই কাউকে দিয়ে করিয়ে পোস্ট করেছে!” দেবের ডাকটিকিট ঘিরে বিভ্রান্তি! সরকারি সম্মান না, ‘মাই স্ট্যাম্প’এ টাকা দিয়ে তৈরি বলে দাবি নেটিজেনদের!

তারপর মিঠুন আরও জানান, “যখন আমি স্টার হয়ে গিয়েছিলাম, মুম্বইতে গিয়েছিলাম, তবুও বাবার সঙ্গে দূরত্ব ছিল। শেষ হাসপাতালের সময়ে আমি ব্যাঙ্গালুরুতে আটকে ছিলাম। বাবা ফোনে বলেছিলেন, ‘গৌর অনেকদিন ধরে তোকে ভাবছি, একটি কথা বলব—আই লাভ ইউ। আমি তোমায় নিয়ে গর্বিত।’ এরপর দুদিন পরে তিনি আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন। এই কথাগুলো এখনও স্মৃতিতে রয়ে গেছে।” অভিনেতারা কথায় বোঝা যায় একজন মানুষকে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হতে গেলে কতোটা আত্মত্যাগ করতে হয়।

You cannot copy content of this page