গত বছর থেকে টালিগঞ্জে ফেডারেশনের সঙ্গে একাধিক অভিনেতা ও পরিচালকের সম্পর্ক নিয়ে টানাপোড়েন চলছে। অনির্বাণ ভট্টাচার্যের কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনা ইতিমধ্যেই আলোচনার কেন্দ্রে ছিল। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলেন ঋদ্ধি সেন। একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টকে কেন্দ্র করে তাঁর কাজেও প্রভাব পড়েছে বলে জানিয়েছেন অভিনেতা। এই ঘটনা নতুন করে শিল্পী স্বাধীনতা ও মত প্রকাশের অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
ক্যালকাটা টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ঋদ্ধি স্পষ্ট জানান, গত ১৬ নভেম্বর করা একটি পোস্টের কারণেই এই সমস্যা তৈরি হয়েছে। তাঁর দাবি, ফেডারেশনের তরফে তাঁকে ক্ষমা চাওয়ার চিঠি পাঠাতে বলা হয়েছিল এবং ভবিষ্যতে এমন কিছু না লেখার আশ্বাস দিতে বলা হয়। তবে ঋদ্ধির মতে, একটি গণতান্ত্রিক দেশে নাগরিক হিসেবে নিজের মত প্রকাশ করার অধিকার থাকা উচিত। কাজ হারালেও তিনি নিজের অবস্থান থেকে সরে আসতে রাজি নন।
এই প্রসঙ্গে অনির্বাণ ভট্টাচার্যের বিষয়টিও আবার আলোচনায় এসেছে। দীর্ঘ সময় কাজ না পেয়ে অনির্বাণের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন দেব। তিনি প্রকাশ্যে মুখ্যমন্ত্রীর কাছেও অনুরোধ জানিয়েছিলেন যাতে অনির্বাণ আবার কাজের সুযোগ পান। দেবের মতে, এমন প্রতিভাবান অভিনেতাকে কাজ থেকে দূরে রাখা বাংলা শিল্পজগতের জন্য ক্ষতিকর। তাঁর এই বক্তব্য তখন যথেষ্ট সমর্থন পেয়েছিল।
দেব আরও জানিয়েছিলেন, শিল্পীদের মধ্যে মতভেদ থাকতেই পারে, কিন্তু সেটার প্রভাব যেন কাজের সুযোগে না পড়ে। রাজ্যের একজন অভিনেতা দীর্ঘ সময় ব্যান হয়ে থাকলে তা অন্যায় বলেও মন্তব্য করেছিলেন তিনি। অনির্বাণের সম্ভাব্য কাজ নিয়েও তিনি আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন এবং চেয়েছিলেন অভিনেতা আবার স্বাভাবিকভাবে কাজে ফিরুন। এই বক্তব্য টলিপাড়ায় নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছিল।
আরও পড়ুনঃ “জ্যোতি বসুর পুত্রবধূর তকমা আমি বহন করতে চাই না, আমার পরিচয় একজন অভিনেত্রী!” “বিচ্ছেদের থেকেও সন্তানদের কষ্ট হয়, বাবা-মাকে অন্য সংসার পাততে দেখলে” সংসার প্রসঙ্গ উঠলেই অদ্ভুত নীরবতা পালন করতেন ডলি বসু! অবশেষে মুখ খুললেন তিনি?
এবার ঋদ্ধির বক্তব্য সেই বিতর্ককে আরও জোরালো করল। তাঁর সাহসী মন্তব্য অনেক শিল্পীকেই ভাবতে বাধ্য করেছে স্বাধীন মত প্রকাশের সীমা নিয়ে। দর্শকরাও বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন। টলিপাড়ায় এই পরিস্থিতি ভবিষ্যতে কী মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার। শিল্পী স্বাধীনতা ও কাজের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।






