“আমরা তো মুসলিম নই, হিন্দু রীতিতে এটা গ্রহণযোগ্য নয় !” আইনি বিচ্ছেদ হয়নি, তবু দ্বিতীয় বিয়ে? হিরণের দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে বিস্ফো’রক প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা! সামনে এল দাম্পত্য কলহের গল্প, বিতর্কের মুখে বিধায়ক-অভিনেতা?

বেনারসের ঘাটে বিজেপি বিধায়ক ও অভিনেতা হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের দ্বিতীয় বিয়ের ভাইরাল ছবি ঘিরে শুরু হয়েছে তুমুল চর্চা। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই ছবিগুলি দেখে অনেকেই ধরে নিয়েছেন, নতুন করে সংসার পেতেছেন হিরণ। যদিও বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে রাজি নন তিনি। কিন্তু এই ঘটনার পর তাঁর স্ত্রী অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায় টিভি নাইন বাংলার কাছে নিজের যন্ত্রণার কথা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন।

অনিন্দিতা জানান, সোশাল মিডিয়ায় ছবি দেখেই তিনি এই খবর পান এবং রীতিমতো আঁতকে ওঠেন। তাঁর কথায়, তাঁদের মধ্যে এখনও কোনও আইনি বিচ্ছেদ হয়নি। হিন্দু রীতিতে এই ধরনের দ্বিতীয় বিয়ে গ্রহণযোগ্য নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন। আমরা তো মুসলিম নই, এই বিয়ের কোনও মূল্য নেই বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। এই ঘটনাকে তিনি অত্যন্ত অপমানজনক ও মানসিকভাবে কষ্টদায়ক বলে বর্ণনা করেন।

২০০০ সালের ১১ ডিসেম্বর হিরণের সঙ্গে সাত পাকে বাঁধা পড়েছিলেন অনিন্দিতা। তাঁদের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে, যার বয়স এখন ১৯ বছর। দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনের পর এমন পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, নিজের ও মেয়ের উপর বহু অত্যাচার সহ্য করেছেন, তবু মেয়ের ভবিষ্যৎ ও কেরিয়ারের কথা ভেবে এতদিন চুপ ছিলেন। এখন আর চুপ থাকার ভাষা নেই বলেই তাঁর বক্তব্য।

অনিন্দিতা আরও অভিযোগ করেন, হিরণ কখনও নিজের মেয়ের ছবি পর্যন্ত পোস্ট করেননি, অথচ নতুন বিয়ের ছবি ইনস্টাগ্রামে প্রকাশ করেছেন। এতে তাঁর চরিত্র সম্পর্কে অনেক কিছু স্পষ্ট হয়ে যায় বলে দাবি করেন তিনি। এই আচরণকে তিনি অত্যন্ত অভদ্র ও অসম্মানজনক বলে উল্লেখ করেন, যা একজন পরিবারের মানুষের কাছে গভীর আঘাতের শামিল।

আরও পড়ুনঃ “বিপুল পরিমাণে ম্যানিফেস্টেশন ছিল দর্শকদের”, শ্যামৌপ্তিকে বিয়ে নিয়ে রণজয়ের স্বীকারোক্তি! বন্ধুরা ফাঁস করলেন বিয়ের তারিখ-ভেনু! কবে সাত পাকে বাঁধা পড়ছেন এই তারকা জুটি?

সবচেয়ে বিস্ময়ের বিষয় হিসেবে অনিন্দিতা জানান, যাঁকে নিয়ে এই বিয়ের ছবি ভাইরাল হয়েছে, সেই মেয়েটি তাঁদের মেয়ের থেকে বয়সে বড়। তিনি আরও বলেন, এই মেয়েটিকে নিয়ে আগেও নানা কথা শুনেছিলেন, এমনকি ব্ল্যাকমেলের কথাও শোনা গিয়েছিল। তবে ছবিতে তা বোঝা যাচ্ছে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। দীর্ঘ নিশ্বাসের সঙ্গে তাঁর একটাই কথা, এই ঘটনা তাঁর জীবনের সবচেয়ে যন্ত্রণাদায়ক অধ্যায়।

You cannot copy content of this page