গত কয়েকদিন ধরেই টলিপাড়ায় একটাই নাম ঘুরপাক খাচ্ছে অনির্বাণ ভট্টাচার্য। আচমকাই দেব প্রকাশ্যে জানিয়ে বসেন, তিনি অনির্বাণের হয়ে স্বরূপ বিশ্বাসের কাছে হাতজোড় করে ক্ষমা চাইছেন এবং আবার কাজের সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ করছেন। শুধু তাই নয়, তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও এই বিষয়ে অনুরোধ জানান। দেবের সুরে সুর মিলিয়ে রাজও লেখেন, প্রয়োজনে তিনি পা ধরতেও রাজি। ঠিক এরপরই ঘোষণা হয় দেশু সেভেন ছবিতে অনির্বাণকে নেওয়া হচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই নিন্দুকদের মনে প্রশ্ন ওঠে, পুরো বিষয়টাই কি কোনও পরিকল্পিত ফিল্মি স্ট্র্যাটেজি, নাকি বাস্তবের নাটকীয়তা।
এই জল্পনার মাঝেই অনির্বাণ নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি রহস্যময় পোস্ট করেন। সেখানে একটি ছবি শেয়ার করা হয়, যেখানে দেখা যায় হাঁটু গেড়ে বসে থাকা এক ব্যক্তির মাথা মুরগির মতো। ছবির নিচে লেখা রয়েছে পৃথিবীটা ভাল লোকেদের নয় এবং ক্যাপশনে অনির্বাণ লিখেছেন আমি মুরগি হলাম। এই পোস্ট ঘিরে শুরু হয় নতুন করে আলোচনা। অনেকেই ভাবতে থাকেন, এটি কি কোনও ইঙ্গিত, নাকি প্রতিবাদের ভাষা, নাকি নিছক শিল্পীর ব্যক্তিগত ভাবনার প্রকাশ।
এই প্রসঙ্গে দেবকে সামনে পেতেই মিডিয়া প্রশ্ন ছুড়ে দেয়, কেন এমন কথা লিখলেন অনির্বাণ। দেব অবশ্য সরাসরি কোনও মন্তব্যে যাননি। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য ছিল, আমার নাম অনির্বাণ নয়, এই প্রশ্নের উত্তর অনির্বাণ নিজেই দিলে ভালো হয়। কে কী পোস্ট করেছে, কে কী বলেছে, সেই নিয়ে আজ আমি জবাব দিতে আসিনি। প্রজাপতি টু ছবির পঁচিশ দিনের সেলিব্রেশনে উপস্থিত ছিলেন দেব, সেখানেই তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান এবং বিতর্কে না জড়ানোর বার্তা দেন।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, পৃথিবীটা ভাল লোকেদের নয় লাইনটি আসলে হুলিগানইজম ব্যান্ডের একটি গানের অংশ। অনির্বাণ আগেও সেই ব্যান্ডের একটি পোস্টার শেয়ার করে লিখেছিলেন কাকু যেদিন থেকে গড়াল এই জীবনের চাকা সবাই শুধু টাকা টাকা আর টাকা চাইছে। অনেকের মতে, এই পোস্টগুলো সমাজের বাস্তবতা ও শিল্পীর হতাশার প্রতিফলন। তাঁর লেখার মধ্যে প্রতিবাদী সুর এবং তীক্ষ্ণ ব্যঙ্গ স্পষ্ট হয়ে উঠছে, যা অনুরাগীদের মধ্যে কৌতূহল বাড়িয়ে তুলেছে।
আরও পড়ুনঃ “আমরা তো মুসলিম নই, হিন্দু রীতিতে এটা গ্রহণযোগ্য নয় !” আইনি বিচ্ছেদ হয়নি, তবু দ্বিতীয় বিয়ে? হিরণের দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে বিস্ফো’রক প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা! সামনে এল দাম্পত্য কলহের গল্প, বিতর্কের মুখে বিধায়ক-অভিনেতা?
টলিউডের অন্দরমহলে অনির্বাণকে ঘিরে আরেকটি ওপেন সিক্রেটও চলছে। শোনা যায়, ফেডারেশনের কিছু নিয়মের বিরুদ্ধে মুখ খোলার এবং আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার কারণে একাংশ টেকনিশিয়ান তাঁর সঙ্গে কাজ করতে অনীহা প্রকাশ করছেন। অনির্বাণ নিজেও আগেই জানিয়েছিলেন, তাঁর হাতে আপাতত কোনও কাজ নেই এবং নতুন ছবির অফারও আসছে না। তবুও তিনি প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার পথে হাঁটেননি। দেব ও রাজের ক্ষমা চাওয়ার পরেও এই বিষয়ে অনির্বাণ সরাসরি কোনও মন্তব্য করেননি, যা বিতর্ককে আরও গভীর করেছে।






