গতকাল হঠাৎই বিধায়ক-অভিনেতা হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের (Hiran Chatterjee) দ্বিতীয় বিয়ের খবর প্রকাশ্যে আসার পর যতটা না রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তার চেয়েও বেশি মানুষের নজর কেড়েছে তাঁর মেয়ের নীরব অথচ গভীর প্রতিক্রিয়া! হিরণের বিয়ের ছবি পোস্ট হওয়ার পর সেগুলি যে পরিমাণে বিতর্কের সৃষ্টি করেছিল, আজ সকাল হতেই সমাজ মাধ্যম থেকে হঠাৎ উধাও হয়ে যায় আর ঠিক তার মধ্যেই শুরু হয় প্রশ্ন, অভিযোগ আর মানসিক টানাপোড়েন! এই পরিস্থিতিতে বাবার সিদ্ধান্ত নিয়ে সরাসরি কিছু না বললেও, মেয়ের একটি ইনস্টাগ্রাম পোস্ট অনেক কথাই বলে দিয়েছে।
প্রসঙ্গত, নাইসা চট্টোপাধ্যায় (Naisa Chatterjee) হিরণ এবং অনিন্দিতার একমাত্র মেয়ে এদিন তার মায়ের সঙ্গে কয়েকটি ছবি ভাগ করে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেছেন। সেখানে বাবার নাম একবারও উল্লেখ না থাকলেও, মায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা আর ভালোবাসার প্রকাশ ছিল স্পষ্ট। তিনি লিখেছেন, দীর্ঘ সময় ধরে তাঁরা দুজনেই একসঙ্গে আছেন এবং মা একাই তাঁর জীবনে সব ভূমিকাই পালন করেছেন। মা-ই তাঁর কাছে বাবা, মা-ই তাঁর নিরাপত্তা আর মা-ই তাঁর সবচেয়ে বড় ভরসা। এই কথাগুলোই যেন ঘুরে ফিরে ধরা পড়েছে পোস্টের প্রতিটি লাইনে।
মেয়ের এই আবেগঘন পোস্ট থেকেই স্পষ্ট হয়েছে যে বাবার নতুন জীবনের খবরে মেয়ের মনে কী ধরনের ধাক্কা লেগেছে! গতকাল স্বামীর আবার বিয়ে নিয়ে অনিন্দিতা নিজেও জানিয়েছিলেন, মেয়ের কলেজে পড়াশোনার বয়স, এই সময়ে বাবার আবার বিয়ের কথা মেনে নেওয়া তার জন্য সহজ ছিল না। একজন কিশোরীর মানসিক অবস্থার কথা ভেবে তিনি নিজেও ভেঙে পড়েছেন বলে ঘনিষ্ঠ মহলে জানিয়েছেন। তবে এই পরিস্থিতিতেও নাইসা যে পরিণত মনোভাব দেখিয়েছেন, তা অনেকের কাছেই প্রশংসনীয়।
উল্লেখ্য, পুরো ঘটনার আইনি দিক নিয়ে যখন প্রশ্ন উঠছে ডিভোর্স হয়েছে কি না, আইনত দ্বিতীয় বিয়ে বৈধ কি না, সেই জটিলতার মাঝখানে বাবার আচরণে একটি মেয়ের আবেগী প্রতিক্রিয়া যেন সব থেকে বেশি বাস্তব হয়ে উঠেছে। বাবা-মায়ের সম্পর্ক ভাঙনের দীর্ঘ অভিজ্ঞতার পর হঠাৎ বাবার নতুন সংসারের খবর মানিয়ে নেওয়া যে সহজ নয়, সেটাই যেন নিঃশব্দে বুঝিয়ে দিয়েছে নাইসার পোস্ট। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়, নাইসার থেকে তার বাবার দ্বিতীয় স্ত্রী মাত্র দুই বছরের বড়!
আরও পড়ুনঃ “আমি কেন সাধারণ মানুষের সঙ্গে লাইনে দাঁড়াব?” এসআইআর শুনানিতে সৌমিতৃষা কুণ্ডুর মন্তব্য ভাইরাল! অহংকারী আচরণে ক্ষো’ভ প্রকাশ দর্শক মহলের! তারকাসুলভ দম্ভ এবং সাধারণ মানুষের প্রতি মনোভাব নিয়েই উঠছে প্রশ্ন!
এই প্রসঙ্গে অনিন্দিতা জানিয়েছেন যে তিনি এখনও আইনি পথে যাবেন কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেননি। আপাতত নিজেকে সামলে নেওয়া আর মেয়েকে মানসিকভাবে আগলে রাখাই তাঁর প্রথম লক্ষ্য। এই গোটা ঘটনায় অনেক প্রশ্নের উত্তর এখনও অজানা, কিন্তু একটি বিষয় স্পষ্ট যে বাবার দ্বিতীয় বিয়ের পর আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে মেয়ের নীরব কষ্ট আর মায়ের সঙ্গে তার অটুট বন্ধন, যা কোনও বিতর্কের চেয়েও অনেক বেশি মানবিক।




