টলিউডে বহু তারকাদের মতো, গত ১৫ জানুয়ারি অভিনেত্রী সৌমিতৃষা কুণ্ডু (Soumitrisha Kundu) ডাক পেয়েছিলেন এসআইআর (SIR) শুনানির। সেখানে সংবাদ মাধ্যমের মুখমুখি হয়ে তিনি ক্ষোভ উগড়ে বলেছিলেন যে, সাধারণ মানুষের কথা ভেবে তিনি চিন্তিত। কারণ যেভাবে শুনানির নামে হয়রানি করা হচ্ছে রোগী থেকে বৃদ্ধা সকলকে, সেটা কোনও ভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। সেদিন অভিনেত্রী শুনানির কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় ২০ জানুয়ারি আবার হাজিরা দিতে বলা হয়েছিল।
সেই মতোই গতকাল নির্বাচন কমিশনের বিশেষ যাচাই প্রক্রিয়ায় ছোট জাগুলিয়া আইটিআই কলেজে হাজির হয়েছিলেন সৌমিতৃষা। আগেই শোনা গিয়েছিল, নথিতে বাবার নামের ভুল নিয়ে তিনি ক্ষুব্ধ। শুনানির নোটিস হাতে পাওয়ার পর থেকেই সেই বিরক্তি তাঁর কথাবার্তায় প্রকাশ পাচ্ছিল। তবে কলেজে পৌঁছে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, তা নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক! কারণ অনেকের চোখে পুরো ঘটনায় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে তারকা-সুলভ দাপট এবং নিয়ম ভাঙার মানসিকতা!
সূত্রের দাবি, কলেজ চত্বরে ঢুকেই সৌমিতৃষা সাধারণ মানুষের লাইনে দাঁড়াননি। বাইরে অপেক্ষরত বহু মানুষের দিকে নজর না দিয়েই তিনি সরাসরি শুনানি কক্ষে ঢুকে পড়েন! উপস্থিতদের একাংশের মতে, তারকা পরিচয়ের প্রভাবে পরিস্থিতি সঙ্গে সঙ্গেই বদলে যায়। অভিযোগ, দায়িত্বে থাকা এআরও নিতাইচন্দ্র বিশ্বাস পর্যন্ত নিজের চেয়ার ছেড়ে দেন, আর সেই চেয়ারেই বসে সৌমিতৃষার নথিতে স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া চলতে থাকে, যা দেখে অনেকেই বিস্মিত ও বিরক্ত হন।
প্রসঙ্গত, ঘটনাস্থলে পৌঁছে বারাসত ১ নম্বর ব্লকের বিডিও রাজীব দত্ত চৌধুরী এই ব্যবস্থায় আপত্তি জানান। তিনি স্পষ্ট করে নির্দেশ দেন, নিয়ম সবার জন্য এক আর তারকাও এর ব্যতিক্রম নন! সবাইকেই লাইনে দাঁড়িয়েই শুনানি দিতে হবে। এই নির্দেশের পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। শোনা গিয়েছে, শুনানি কক্ষ ছেড়ে বেরিয়ে সৌমিতৃষা সরাসরি বিডিও অফিসে চলে যান।
সেখানেই বারাসত ব্লক পঞ্চায়েত সভাপতি হালিমা বিবি এবং সহ-সভাপতি গিয়াসউদ্দিন মণ্ডলের সামনে নিজের ক্ষোভ উগরে দেন অভিনেত্রী। অভিযোগ উঠেছে, তাঁর সঙ্গে থাকা নিরাপত্তারক্ষীরাও একই সুরে কথা বলেন। সৌমিতৃষার বক্তব্য ছিল, যখন দীপক অধিকারী ওরফে দেবকে আলাদা করে ডাকা হয়, তখন তাঁকে কেন সাধারণ মানুষের মতো নিয়ম মানতে হবে? এই তুলনাই নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে, তারকা পরিচয় কি প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় বাড়তি সুবিধার দাবি করতে পারে?
আরও পড়ুনঃ “আমি কেন সাধারণ মানুষের সঙ্গে লাইনে দাঁড়াব?” এসআইআর শুনানিতে সৌমিতৃষা কুণ্ডুর মন্তব্য ভাইরাল!অহংকারী আচরণে ক্ষো’ভ প্রকাশ দর্শক মহলের! তারকাসুলভ দম্ভ এবং সাধারণ মানুষের প্রতি মনোভাব নিয়েই উঠছে প্রশ্ন!
শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি সামাল দিতে বিডিও নিজে সৌমিতৃষার ফর্মে সই করলে শুনানির প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। কিন্তু ততক্ষণে যা হওয়ার হয়ে গেছে। পুরো ঘটনার নানা মুহূর্ত মোবাইল ক্যামেরায় বন্দি হয়ে ইতিমধ্যেই সমাজ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই এই আচরণকে অহংকারী বলে কটাক্ষ করছেন, আবার কেউ প্রশ্ন তুলছেন যে আইনের চোখে সবাই সমান হলে, এমন দাপট কি আদৌ গ্রহণযোগ্য? আপনাদের কী মনে হয়? জানতে ভুলবেন না কিন্তু!






