‘আমরা ফাঁপা হয়ে যাচ্ছি…গ্লোরিফায়েড বৃদ্ধাশ্রমে পরিণত হচ্ছে’ চাপা পড়ে যাচ্ছে সাধারন মানুষের আওয়াজ! ভোটের হাওয়ায় উদ্বিগ্ন রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়! হঠাৎ কেন এমন বললেন?

নতুন বছরের শুরু থেকেই পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে উত্তেজনার পারদ ক্রমশ ঊর্ধ্বমুখী। বিধানসভা নির্বাচনের এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না হলেও রাজ্যের রাজনৈতিক ময়দান কার্যত হাইভোল্টেজ হয়ে উঠেছে। হুঙ্কার পাল্টা হুঙ্কার, অভিযোগ পাল্টা অভিযোগে সরগরম চারপাশ। এই আবহে শুধু সাধারণ মানুষই নয়, রাজ্যের তারকারাও যে ভোটের উত্তাপ টের পাচ্ছেন, তা স্পষ্ট। ভোটার হিসেবে রাজ্যের পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ মাধ্যমের কাছে নিজের মতামত প্রকাশ করলেন অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়।

নির্বাচনের আগেই পশ্চিমবঙ্গে শুরু হয়েছে এসআইআর (SIR) সংক্রান্ত কাজ, যা ঘিরে রাজনৈতিক তরজা আরও তীব্র হয়েছে। শাসক ও বিরোধী পক্ষ একে অপরকে দোষারোপে ব্যস্ত। কিন্তু এই রাজনৈতিক লড়াইয়ের ভিড়ে মূল্যবৃদ্ধি, কাজের অভাব, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার অবনতি নিয়ে কথা বলার সময় যেন কারও নেই। এই বাস্তব পরিস্থিতির দিকেই আঙুল তুলেছেন রাহুল। তাঁর মতে, সাধারণ মানুষের যন্ত্রণার কথা ক্রমেই আড়ালে চলে যাচ্ছে।

রাহুল স্পষ্ট ভাষায় বলেন, এখন আমরা আক্ষেপ করি কেন সিনেমা হলে দর্শক কম, কেন শিল্প প্রদর্শনীতে ভিড় নেই। আসলে মানুষের হাতে খরচ করার মতো টাকা নেই। তাঁর মতে, পশ্চিমবঙ্গ ধীরে ধীরে এক ধরনের গ্লোরিফায়েড বৃদ্ধাশ্রমে পরিণত হচ্ছে। নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, তাঁর স্পেন্ডিং ক্যাপাসিটি আছে বলেই সন্তানকে বেসরকারি স্কুলে পড়াতে পারছেন। কিন্তু এমন বহু প্রতিভাবান মানুষ আছেন, যাঁদের সেই সামর্থ্য নেই।

শিক্ষার ক্ষেত্রেও সমান সুযোগ হারিয়ে যাচ্ছে বলে মনে করেন রাহুল। তিনি বলেন, একসময় যোগ্যতার দৌড়ে সবাই প্রায় একই জায়গা থেকে শুরু করতেন। তিনি নিজে, ঋত্বিক চক্রবর্তী বা অনির্বাণের মতো অভিনেতারা সাধারণ স্কুলে পড়েও পিছিয়ে ছিলেন না। কিন্তু এখন শিক্ষার মান কমছে, পরীক্ষার ফল দেরিতে বেরোচ্ছে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য উদ্বেগজনক বার্তা দিচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ “দিন আনি দিন খাই, তাও যেকোনও একটা পথ বেছে নিতে হলে প্রতিবাদের পথই নেব!” গ্রান্ট বন্ধের পর ব্যান হয়ে, অনিশ্চয়তায় জীবন কাটাচ্ছেন বিপ্লব বন্দ্যোপাধ্যায়! অর্থনৈতিক চাপের মাঝেও আপস না করার বার্তা অভিনেতার!

সবশেষে রাহুলের বক্তব্য আরও তীক্ষ্ণ হয়ে ওঠে। তাঁর মতে, এখন সবটাই পাইয়ে দেওয়ার রাজনীতি, লুম্পেন সংস্কৃতিকে উদযাপন করা হচ্ছে। যাঁদের হাতে টাকা আছে, তাঁদের অশ্লীল প্রদর্শন শহরের গরিব মানুষের মধ্যে হতাশা বাড়াচ্ছে। রাজনৈতিক বিচারবোধ ক্রমশ তলানিতে ঠেকছে বলেই মনে করেন তিনি। পাঁচ বছর পর ফের রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন আসছে। মানুষ তাঁদের প্রত্যাশার উত্তর দেবে ভোটের বাক্সে, কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে, ততদিনে কি অনেক দেরি হয়ে যাবে না।

You cannot copy content of this page