চকচকে আলো আর ক্যামেরার ঝলকানির আড়ালে থেকেও কিছু সম্পর্ক নিঃশব্দেই নিজের জায়গা বানিয়ে নেয়। অভিনেতা ‘টোটা রায়চৌধুরী’র (Tota Roy Chowdhury) জীবনেও স্ত্রী ‘শর্মিলি রায়চৌধুরী’র (Sharmili Roy Choudhury) উপস্থিতিটা ঠিক তেমনই প্রচারবিমুখ, কিন্তু মজবুত ভিত। বহু বছর একসঙ্গে পথ চলার পরও তাঁদের সম্পর্কের কেন্দ্রে যে বন্ধুত্ব আর পারস্পরিক সম্মান আছে সেটা টোটার কথাতেই ধরা পড়েছে সব সময়। তিনি একাধিকবার বুঝিয়েছেন যে বাড়িকে ‘ঘর’ বানানোর পিছনে তাঁর স্ত্রীর ভূমিকাই সবচেয়ে বড়!
টোটা রায়চৌধুরীর ব্যক্তিগত জীবনের গল্পটার কেন্দ্রে তিনি নন, বরং তাঁর পাশে থাকা মানুষটির ভূমিকাই যেন চোখে পড়ার মতো। দীর্ঘ দাম্পত্যের পথে শর্মিলি রায়চৌধুরী শুধু স্ত্রী নন, একরকম নীরব শক্তি যাঁর উপস্থিতি অভিনেতার জীবনকে স্থিরতা দিয়ে চলেছে বহু বছর ধরে। বাইরে থেকে যতই সাফল্যের গল্প শোনা যাক, ঘরের ভেতরের সমর্থনটাই যে বড়, সেটা তাঁদের সম্পর্কই প্রমাণ। তবে, এই সমর্থনের জন্য শর্মিলিকে করতে হয়েছে সবচেয়ে প্রিয় জিনিসটার ত্যাগ!
প্রসঙ্গত, অভিনেতার সঙ্গে সম্পর্কের শুরুটা ছিল একেবারে সাধারণ পরিচয় দিয়ে। কলেজ জীবনের বন্ধুত্ব ধীরে ধীরে বদলে যায় অন্য সম্পর্কে। সেই সময় শর্মিলি নিজের মতো করে পথ খুঁজছিলেন। মডেলিং করতেন, অভিনয় জগতেও কাজ করার ইচ্ছে ছিল, চেয়েছিলেন বড় অভিনেত্রী হতেও। কিন্তু বিয়ের আগে টোটার স্পষ্ট কথায় উঠে এসেছিল বাস্তবতা, ‘সংসারের দায়িত্ব নিতে হবে, একদিকেই মন দিতে হবে!’ বড় সিদ্ধান্তের সেই মোড়ে দাঁড়িয়ে শর্মিলি পেশাগত স্বপ্নের চেয়ে সম্পর্ক আর সংসারকে বেছে নেন।
কথাটা শুনতে সহজ, কিন্তু সেই সিদ্ধান্তের ভিতরে যে আত্মত্যাগ লুকিয়ে থাকে, তা বোঝা যায় সময়ের সঙ্গে। তবে সংসার সামলানো মানেই নিজেকে গুটিয়ে নেওয়া, এমনটা নয়! সময়ের সঙ্গে শর্মিলি নিজের আলাদা পরিচয়ও গড়ে তুলেছেন। এখন তিনি একটি পারিবারিক গয়নার ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত, সৃজনশীল কাজের মধ্যেই খুঁজে নিয়েছেন নিজের জায়গা। ঘর সামলানো, সম্পর্ক ধরে রাখা আর নিজের দক্ষতাকে কাজে লাগানো মিলিয়ে তাঁর জীবন যেন ভারসাম্যের এক বাস্তব উদাহরণ।
আরও পড়ুনঃ “চৈতন্য লাভ করেছে…ক্ষণে গোরাচাঁদ, ক্ষণে কালা গাইতে গিয়েই সন্ন্যাসের পথে!” কৃষ্ণপ্রেমে মজেই কি বিনোদিনীর মতো সব ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত? অরিজিৎ সিংয়ের আকস্মিক অবসর গ্রহণে কীসের ইঙ্গিত দিলেন রাণা সরকার?
আলোয় না থেকেও যে দৃঢ়ভাবে পাশে থাকা যায়, সেটাই তাঁর ভূমিকা। টোটা নিজেও একাধিকবার স্বীকার করেছেন, জীবনের কঠিন সময়গুলোতে সবচেয়ে বড় ভরসা ছিলেন তাঁর স্ত্রী। পেশাগত উত্থান-পতন হোক বা অনিশ্চয়তার দিন, সবকিছুর মধ্যে যে মানসিক স্থিরতা দরকার, সেটা তিনি পেয়েছেন ঘর থেকেই। বাইরের মানুষ যতই আসুক-যাক, জীবনের কেন্দ্রে জায়গাটা একটাই। আজকে যেখানে সম্পর্ক ভাঙার খবর দ্রুত ছড়ায়, ততটাই আড়ালে থেকে যায় এমন দীর্ঘস্থায়ী বোঝাপড়ার গল্প। টোটা-শর্মিলির সম্পর্ক তাই আলাদা করে চোখে পড়ে। কারণ এতে বাড়তি প্রদর্শন নেই, আছে সময়ের সঙ্গে গড়ে ওঠা বিশ্বাস।






