“পরিস্থিতি বুঝে আগেই জানিয়ে রাখি, এটাই আসল পেশাদারিত্ব!” মিমি চক্রবর্তীর মঞ্চে হে’নস্থা বিতর্কে মুখ খুললেন ছোটপর্দার অভিনেত্রী অহনা দত্ত! নিজস্ব অভিজ্ঞতার প্রেক্ষিতে জানালেন ‘লাইভ শো’র বাস্তবতা!

মঞ্চের লাইভ অনুষ্ঠানে (Live Show) অংশ নিতে গিয়ে শিল্পীদের যে সবসময় আরামদায়ক পরিবেশ পাননা, উল্টে অপ্রীতিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয় তা সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোই পরিষ্কার করে দিচ্ছে। শহরের বাইরে, বিশেষ করে জেলা বা গ্রামাঞ্চলে অনুষ্ঠান করতে গেলে দর্শকের প্রতিক্রিয়া থেকে চাহিদা, সবকিছুই আলাদা হতে পারে। কিছুদিন আগে গায়িকা লগ্নজিতা চক্রবর্তী এমনই এক অন্যায্য চাহিদার দরুন, কোনও ভুল না থাকা সত্ত্বেও অপমানিত হয়েছিলেন। আবার সম্প্রতি যে বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে, বনগাঁতে রাতের অনুষ্ঠানে দেরি করে পৌঁছানোর ফলে মঞ্চে হেন’স্থার শিকার হয়েছেন মিমি চক্রবর্তী।

জায়গা এবং মাধ্যম বিশেষে পরিস্থিতিতে ভিন্ন হতে পারে প্রত্যাশার থেকে, এই বাস্তবতাকে খুব স্বাভাবিকভাবেই দেখেন ছোটপর্দার অভিনেত্রী ‘অহনা দত্ত’ (Ahona Dutta)। অভিনেত্রী সদ্যই আবার অভিনয় করতে শুরু করেছেন মাতৃকালীন ছুটি কাটিয়ে। খুবই অল্প বয়সে ছোট পর্দায় জনপ্রিয়তা লাভ করেছেন তিনি। একইভাবে পাল্লা দিয়ে সংসারও গড়েছেন। জনপ্রিয়তা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে, তাকেও বিভিন্ন জায়গায় অনুষ্ঠান করতে যেতে হয়। তাই এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সব জায়গার দর্শক একরকম নন আর সেই পার্থক্য মেনে নিয়েই কাজ করতে হয়।

অহনা জানিয়েছেন, এমন অনুষ্ঠানে সময়মতো পৌঁছোনো তাঁর কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় শুটিং ফ্লোর থেকে সরাসরি অনুষ্ঠানস্থলে যেতে হয় তাঁকে। ফলে আগে থেকে পরিকল্পনা না থাকলে সমস্যায় পড়তে হয়। তিনি চেষ্টা করেন যথাসম্ভব আগে বেরোতে আর যদি দেরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তাহলে সেটাও আগেই জানিয়ে দেন আয়োজকদের। তাঁর মতে, দুই পক্ষের মধ্যে সবকিছু পরিষ্কার থাকলে অনেক জটিলতা এড়ানো যায়। দর্শকদের উচ্ছ্বাস নিয়েও তাঁর বাস্তবসম্মত পর্যবেক্ষণ রয়েছে।

তিনি বলেন, টেলিভিশনের পরিচিত মুখদের সামনে থেকে দেখার উত্তেজনা অনেক সময় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। এই পরিস্থিতিকে নেতিবাচক হিসেবে না দেখে, তিনি এটাকে জনপ্রিয়তারই অংশ মনে করেন। তবে সেই সঙ্গে নিরাপত্তা এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখা জরুরি বলেও মনে করেন তিনি, যেটা মূলত আয়োজকদের দায়িত্ব। অভিনেত্রীর অভিজ্ঞতায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল নির্দিষ্ট টিমের সঙ্গে কাজ করা। গত কয়েক বছর ধরে তিনি একই আয়োজকের সঙ্গে নিয়মিত অনুষ্ঠান করছেন। এতে পারস্পরিক বোঝাপড়া তৈরি হয়, কাজের ধরন জানা থাকে, ফলে ঝুঁকি কমে।

আরও পড়ুনঃ তিন বছরের মাথায় ভাঙতে বসেছিল সংসার! গত বছরের বিচ্ছেদ জল্পনা উড়িয়ে, আবার এক হচ্ছে অঙ্কিতা চক্রবর্তী ও প্রান্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়? বিয়ের স্মৃতি নিয়ে আবেগঘন বার্তা, অভিনেত্রীর পোস্টেই মিলল ইঙ্গিত?

একাধিক অচেনা দলের সঙ্গে কাজ করলে অনিশ্চয়তা বাড়তে পারে, এমনটাই ইঙ্গিত তাঁর কথায়। সব মিলিয়ে অহনা দত্তের বক্তব্যে স্পষ্ট, ‘লাইভ শো’ মানেই শুধু গ্ল্যামার নয়, প্রস্তুতি এবং সচেতনতার বিষয়ও রয়েছে। দর্শকের ভালোবাসা যেমন অনুপ্রেরণা দেয়, তেমনই পেশাদারিত্ব বজায় রাখাও জরুরি। পরিস্থিতি সবসময় নিজের নিয়ন্ত্রণে থাকে না কিন্তু পরিকল্পনা, সময়ানুবর্তিতা আর সঠিক সমন্বয় থাকলে অনেক কঠিন মুহূর্তও সামলানো সম্ভব, এই বার্তাই যেন উঠে এসেছে তাঁর অভিজ্ঞতা থেকে।

You cannot copy content of this page