কয়েক মাস ধরেই টলিপাড়ায় আলোচনা বেড়েই চলছিল অঙ্কিতা চক্রবর্তী (Ankita Chakraborty) এবং প্রান্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Prantik Banerjee) সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে। বহু বছরের বন্ধুত্বের পর প্রেম এবং তারপর ছোট এক পাহাড়ি অনুষ্ঠানে বিয়ে, সবকিছুই মনে হচ্ছিল এক রূপকথার গল্পের মতো। কিন্তু ২০২৫ সালের গোড়ার দিকে খবর আসে, তারা নিজেদের জন্য আলাদা পথ বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন! প্রান্তিক সেই সময় খোলাখুলি জানিয়েছিলেন যে সম্পর্কের নাম বা পরিচয় বদলালে একধরনের দায়িত্ব তৈরি হয়, যা কখনও কখনও মানুষের অবস্থান ও মানসিক দিক পরিবর্তিত করে।
তিনি মনে করেন, সম্পর্কের নতুন পরিচয় মানুষকে অতীত বন্ধুত্ব বা ভালোবাসা ভুলতে বাধ্য করে না, বরং সেটাকে অন্যভাবে উপলব্ধি করতে শেখায়। প্রান্তিক এটাও ব্যাখ্যা করেছিলেন যে, মানুষের মাঝে সম্পর্কের মান তার অবস্থান পরিবর্তনের সঙ্গে পাল্টায়, কিন্তু ভিত্তি মুছে যায় না। তিনি মনে করেন, যাদের সঙ্গে আমরা আগে বন্ধুত্ব করি, সেই সম্পর্কের মূল্য আগের মতোই থাকে, শুধু এখন আমাদের চোখে এবং জীবনের ধারায় তা ভিন্ন আঙ্গিকে দেখা যায়। অঙ্কিতা ও প্রান্তিকের ক্ষেত্রেও সেটাই ঘটেছে।
তাদের সম্পর্কের ইতিহাস, অভিজ্ঞতা এবং সম্মান রয়ে গেছে, শুধু নতুন অবস্থানে এসে এক নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। বিচ্ছেদের পথে তারা একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধা এবং বন্ধুত্বের মূল্য বজায় রাখার ওপরেও জোর দিয়েছিলেন। এই প্রসঙ্গে অঙ্কিতা এবং প্রান্তিকের পেশাগত জীবনও সেই সময় আলোচনার কেন্দ্রে ছিল। অঙ্কিতা যেহেতু বলিউডে নিজের অবস্থান শক্ত করেছেন, আর প্রান্তিক টলিউডেই পথচলা অব্যাহত রেখেছেন। অনেকেই মনে করেছিলেন তাদের সম্পর্কে দূরত্ব আসার পেছনে হয় সাফল্য, নাহলে তৃতীয় ব্যক্তি থাকতে পারে।
যদিও সেই সময় তারা এইসব জল্পনাকে মিথ্যে বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। তবে মজার বিষয় হলো, গতকালই অঙ্কিতা তার সমাজ মাধ্যমের পাতায় প্রান্তিকের সঙ্গে বিয়ের একটি পুরনো ছবি পোস্ট করেছেন এবং ক্যাপশনে লিখেছেন, “থ্রোব্যাক থার্সডে – ‘কাপলড’ হওয়ার দিন” (Throwback Thursday – The day of ‘Coupled’)। ছবিটি পোস্ট করার সঙ্গে সঙ্গেই পুনরায় জল্পনা ছড়ায়, যে হয়তো মানসিক দূরত্ব কাটিয়ে আবারও তারা একে অপরের দিকে ফিরে আসছেন। বহু শুভাকাঙ্ক্ষী এটিকে ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখছেন।
আরও পড়ুনঃ আরও পড়ুনঃ “মিমিকে আমি ছাড়ব না…উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের জন্য অনুষ্ঠান বন্ধ করেছি, অসম্মান করিনি!” মঞ্চে হে’নস্তার অভিযোগে গ্রে’ফতার, হাসপাতালের বেডে শুয়েই মিমিকে লক্ষ্য করে হুঙ্কার তনয় শাস্ত্রীর! বনগাঁ কা’ণ্ডে নতুন করে বিতর্কের মুখে অভিনেত্রী?
তারা আশা করছেন যে দম্পতি আর বিচ্ছেদের পথে হাটছেন না, বরং আবার এক হতে চলেছেন। সব মিলিয়ে বলতেই হয়, এই দম্পতির দৃষ্টিতে সম্পর্ক শুধু নাম বা পরিচয় নয়, বরং এক ধরনের চলমান মূল্যবোধ। বিচ্ছেদ হলেও সেই বন্ধুত্ব এবং সম্মান নতুন আঙ্গিকে জীবিত থাকে যা ভবিষ্যতের সম্পর্ককে আরও মধুর করতে পারে। তাই এই গল্প এখন এক আবর্তে এসে থেমেছে, যা হয়তো নতুনভাবে শুরু হতে চলেছে। বিচ্ছেদ নয়, বরং এক নতুন অধ্যায়! নিজেদের মুখে পুনরায় এক হওয়ার কথা না বললেও, ছবিটাই যেন অনেক ইঙ্গিত দিয়ে গেল।






