“আমি সমালোচক আর কুকুরদের থিয়েটারে ঢুকতে দিই না” স্কচ হাতে স্পষ্ট কথা কিংবদন্তি অভিনেতা উৎপল দত্তর! হঠাৎ কেন এক সাংবাদিককে এমন কথা শুনিয়েছিলেন তিনি? কেন তাঁর থিয়েটারে প্রবেশ নিষিদ্ধ ছিল? ফাঁস হলো অভিনেতার কঠোর চরিত্রের অজানা গল্প!

বিনোদন জগতে প্রতিভার সঙ্গে সঙ্গে অনেক অভিনেতার ব্যক্তিত্বও হয়ে ওঠে আলোচনার বিষয়। কেউ অত্যন্ত সংযত, কেউ আবার স্পষ্টভাষী, কঠোর এবং আপসহীন। বিশেষ করে থিয়েটার ও সিনেমার দুনিয়ায় এমন কিছু শিল্পী ছিলেন বা বর্তমানেও আছেন, যাঁদের চরিত্র, আদর্শ এবং জীবনদর্শন তাঁদের অভিনয়ের মতোই শক্তিশালী। তাঁরা শুধুমাত্র পর্দায় নয়, বাস্তব জীবনেও নিজের মতাদর্শে ছিলেন অনড়—আর সেই কারণেই কখনও কখনও বিতর্কও তাঁদের ছুঁয়ে গেছে।

এই তালিকায় প্রথম সারিতেই উঠে আসে উৎপল দত্তের নাম। বাংলা নাট্যজগতের এক অবিস্মরণীয় ব্যক্তিত্ব এবং ভারতীয় চলচ্চিত্রের এক শক্তিশালী অভিনেতা হিসেবে তিনি আজও স্মরণীয়। ১৯২৯ সালের ২৯ মার্চ অবিভক্ত বাংলার বরিশালে জন্মগ্রহণ করা উৎপল দত্ত ছোটবেলাতেই কলকাতায় চলে আসেন। সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজে ইংরেজি সাহিত্য নিয়ে পড়াশোনার সময় থেকেই নাটকের প্রতি গভীর আকর্ষণ জন্মায় তাঁর। শেক্সপিয়রের নাটকের মাধ্যমে অভিনয়জীবন শুরু হলেও, খুব দ্রুত তিনি নিজস্ব ভাষা ও দর্শন নিয়ে বাংলা নাটকের দিকে ঝুঁকে পড়েন।

নাট্যকার, নির্দেশক ও অভিনেতা—এই তিন ভূমিকাতেই উৎপল দত্ত ছিলেন সমান দক্ষ। ‘পিপলস লিটল থিয়েটার’ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি নাটককে সরাসরি সমাজ ও রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত করেন। তাঁর নাটকে উঠে এসেছে শ্রেণিসংগ্রাম, শাসকগোষ্ঠীর সমালোচনা এবং সাধারণ মানুষের কথা। এই স্পষ্ট রাজনৈতিক অবস্থানের জন্য একাধিকবার সরকারি রোষানলে পড়তে হয়েছে তাঁকে। এমনকি ১৯৬৫ সালে তাঁকে গ্রেফতারও করা হয়। আপসহীন মনোভাবই ছিল তাঁর জীবনের মূল সুর।

সম্প্রতি এমন একটি ঘটনার সামনে এসেছে যা ফের আলোচনায় এনে দিল উৎপল দত্তের কঠোর ব্যক্তিত্বকে। বর্ষীয়ান সাংবাদিক ও সাহিত্য সমালোচক রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায় এক সাক্ষাৎকারে জানান, একবার তিনি উৎপল দত্তের ইন্টারভিউ নিতে গিয়ে দেখেন, অভিনেতা স্কচ হাতে নিয়ে কথা বলছিলেন। পরিস্থিতি দেখে তাঁর মনে হয়েছিল, ইন্টারভিউ চললেও উৎপল দত্ত হয়তো আতিথেয়তার সৌজন্য দেখাবেন।

আরও পড়ুনঃ “পরিস্থিতি বুঝে আগেই জানিয়ে রাখি, এটাই আসল পেশাদারিত্ব!” মিমি চক্রবর্তীর মঞ্চে হে’নস্থা বিতর্কে মুখ খুললেন ছোটপর্দার অভিনেত্রী অহনা দত্ত! নিজস্ব অভিজ্ঞতার প্রেক্ষিতে জানালেন ‘লাইভ শো’র বাস্তবতা!

এই ভাবনা থেকেই ইন্টারভিউর শেষ প্রশ্নে রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায় জানতে চান—স্কচ হুইস্কির সঙ্গে একসঙ্গে কি কমিউনিকেশন চালানো যায়? উত্তরে উৎপল দত্ত যে মন্তব্য করেন, তা আজও বিস্ময় জাগায়। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, “এই কারণেই আমি সমালোচক আর কুকুরদের আমার থিয়েটারে ঢুকতে দিই না।” এক বাক্যেই ধরা পড়ে যায় তাঁর তীক্ষ্ণ স্পষ্টভাষিতা এবং আপসহীন শিল্পীসত্তা—যা উৎপল দত্তকে আজও বিনোদন জগতে আলাদা করে চিনিয়ে দেয়।

You cannot copy content of this page