কলকাতায় ১৯৮৫ সালের অক্টোবরে জন্ম এই অভিনেত্রীর ছোটবেলা কেটেছে এক নিয়মশৃঙ্খল পরিবারের মধ্যে। বাবা সংগীত ও রেডিয়োর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, মা ছিলেন সরকারি কর্মী। সংসারে অভাব ছিল না, নিরাপত্তাও ছিল পূর্ণ। তবু ছোটবেলা থেকেই অভিনয়ের প্রতি এক অদ্ভুত টান অনুভব করতেন তিনি, যা ধীরে ধীরে স্বপ্নে পরিণত হয়। এই স্বপ্নই পরে তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় সংঘর্ষের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
অভিনয়ের ইচ্ছে মেনে নিতে পারেননি তাঁর মা। মেয়ের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে পরিবারে তৈরি হয় তীব্র অশান্তি। সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী জানিয়েছেন, কখনও কখনও তাঁকে ঘরে আটকে রাখা হত, বাইরে যেতে দেওয়া হত না। ভয় দেখিয়ে বোঝানোর চেষ্টা চলত যে এই পেশা নিরাপদ নয়। এমনকি আবেগের চাপে আত্মহানির হুমকিও দেওয়া হত, যাতে মেয়েটি নিজের ইচ্ছে থেকে সরে আসে।
তবুও জেদের কাছে হার মানেননি অভিনেত্রী। পড়াশোনা শেষ করে তিনি প্রথমে একটি বেসরকারি সংস্থায় ভাল বেতনের চাকরি নেন। কিন্তু নিয়মিত অফিস আর স্থির জীবনে মন টেকেনি। একুশ বছর বয়সে বড় সিদ্ধান্ত নিয়ে চাকরি ছেড়ে পুণেতে চলে যান অভিনয় শেখার উদ্দেশ্যে। বাবা পাশে দাঁড়ালেও মা দীর্ঘ সময় কথা বলা বন্ধ রাখেন, তবু তিনি নিজের পথে অটল থাকেন।
সময়ের সঙ্গে সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করে। একসময় তাঁর মা পুণেতে গিয়ে মেয়ের পড়াশোনার পরিবেশ নিজের চোখে দেখেন। সেখানকার শিক্ষার্থী ও পরিবেশ তাঁকে বিস্মিত করে। অভিনয় জগত সম্পর্কে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে থাকে ধীরে ধীরে। মেয়ের আগ্রহ যে কেবল খেয়াল নয়, বরং গভীর সাধনা, তা বুঝতে পেরে তিনি শেষ পর্যন্ত সমর্থন জানাতে শুরু করেন।
আরও পড়ুনঃ “মিমিকে ‘সফট টার্গেট’ করা হচ্ছে!” “এই সমাজ শুধু আপনাদের নয়, আমাদেরও…মাথা কিনে নেওয়ার অধিকার কারোর নেই!” বনগাঁওতে মিমিকে হেনস্থা ইস্যুতে, মৌনী-লগ্নজিতার প্রসঙ্গ টেনে প্রকাশ্য প্রতিবাদ শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়ের!
২০১৫ সালে মার্গারিটা উইথ আ স্ট্র ছবির মাধ্যমে বলিউডে যাত্রা শুরু করে তিনি দ্রুতই নিজের আলাদা জায়গা তৈরি করেন। ফ্যান, আর্টিকল ১৫, ইনসাইড এজ এবং ফোর মোর শটস প্লিজ-এর মতো কাজ তাঁকে জনপ্রিয়তা দেয়। শুটিং সেটে নিরাপত্তাহীনতার অভিজ্ঞতাও তিনি খোলাখুলি বলেছেন। ব্যক্তিগত জীবনেও স্বাধীনচেতা এই অভিনেত্রী বিয়ে নিয়ে সংশয়ে থাকেন, আত্মসম্মানকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন তিনি হলেন অভিনেত্রী সায়নী গুপ্ত।






