পার্ক স্ট্রিটের একটি পুরনো ও পরিচিত রেস্তোরাঁ ‘অলিপাব’কে (Olypub) ঘিরে শুরু হওয়া বিতর্ক এখন আর শুধু খাবারের গুণগত মান বা ভুল পরিবেশন নিয়ে সীমাবদ্ধ নেই। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে, যেখানে এবার খোদ কনটেন্ট ক্রিয়েটর ‘সায়ক চক্রবর্তী’র (Sayak Chakraborty) বিরুদ্ধেই আইনি পদক্ষেপের দাবি উঠছে! গত কয়েক দিনে এই ঘটনা ঘিরে যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, তা ধীরে ধীরে অন্যদিকে মোড় নিচ্ছে। এবার প্রশ্ন উঠছে, এই ভিডিও কি শুধুই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ, না কি পরিকল্পিত উস্কানি?
প্রসঙ্গত, এই ঘটনার সূত্রপাত শুক্রবারের ভিডিও থেকেই, যেখানে সায়ক অভিযোগ করেন, ‘মাটন স্টেক’ অর্ডার করার পর তাঁকে ‘গো’মাং’স’ পরিবেশন করা হয়েছে। ভিডিওতে রেস্তোরাঁর ম্যানেজারের সঙ্গে তাঁর কথোপকথন, ধর্মীয় অনুভূতির প্রসঙ্গ এবং প্রকাশ্য অসন্তোষ দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। এর পরেই সমাজ মাধ্যমে মতভেদ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। কেউ রেস্তোরাঁর দায়িত্বজ্ঞানহীনতাকে কাঠগড়ায় তোলেন, আবার অনেকেই ভিডিওর বিশ্বাসযোগ্যতা এবং উদ্দেশ্য নিয়েই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন।
এই বিতর্কের মাঝেই আজকে, পার্ক স্ট্রিট থানায় সায়ক চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন জয়রাজ ভট্টাচার্য নামে এক ব্যক্তি! অভিযোগের মূল বক্তব্য, “ওই ভিডিওতে ধর্মীয় আবেগকে ইচ্ছাকৃতভাবে উস্কে দেওয়া হয়েছে, যা সমাজে বিভাজন তৈরি করতে পারে।” তাঁর দাবি, একজন জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটরের এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ শুধু ব্যক্তিগত মতামতের মধ্যে পড়ে না, এর সামাজিক প্রভাবও রয়েছে। তাই বিষয়টি তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, এই ঘটনার পর সায়কের অভিযোগের ভিত্তিতে রেস্তোরাঁর এক কর্মীকে গ্রেফতার করা হলেও বিতর্ক সেখানেই থেমে থাকেনি। বরং ধীরে ধীরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসেন সায়ক নিজেই। নেটিজেনদের একাংশের বক্তব্য, ভিডিওতে যে ভাষা ও ভঙ্গি ব্যবহার করা হয়েছে, তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। কেউ কেউ বলছেন, খাবার সংক্রান্ত অভিযোগ থাকলে তার আইনসম্মত পথ রয়েছে, কিন্তু ক্যামেরার সামনে ধর্মীয় প্রসঙ্গ টেনে আনা অযথা উত্তেজনা বাড়িয়েছে।
আরও পড়ুনঃ “কনটেন্ট দিলেই ‘ডাউন টু আর্থ’ বন্ধু, না দিলেই অহংকারী!” “যখন ভিডিওতে রিচ আসে না, তখন টাকার জন্য নিরপরাধকে ফাঁদে ফেলে!” সায়কের ‘অলিপাব’ বিতর্কে বি’স্ফোরক সৌমিতৃষা কুণ্ডু! কেন বন্ধুত্বের ইতি ঘটেছিল, অভিনেত্রী প্রকাশ করলেন সত্যতা?
কেউ বা বলছেন সবটাই ছিল মিথ্যে! এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, এই অভিযোগের পর সায়ক চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে কি কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে? এমনিতেই তাঁর গ্রেফতারির দাবিতে ইতিমধ্যেই সমাজ মাধ্যমে জল্পনা শুরু হয়ে গেছে। যদিও আইন তার নিজস্ব পথে চলবে, তবু এই ঘটনা আবারও দেখিয়ে দিল যে ডিজিটাল যুগে একটি ভিডিও কত দ্রুত ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে সামাজিক ও আইনি বিতর্কে রূপ নিতে পারে! এই মুহূর্তে সব পক্ষের দৃষ্টি প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই।






