“বাঙালি মানেই ‘কামচোর’, শুধু ‘খাবো-দাবো মরে যাব’ চিন্তা!” “মানুষের সঙ্গে কু’কুরের তফাৎ শুধুমাত্র মগজের…” বাঙালির জীবনদর্শন নিয়ে এক ব্যক্তির কটাক্ষে, পাল্টা বি’স্ফোরক চন্দন সেন! অপমানজনক মন্তব্যে নীরবতা ভেঙে যোগ্য জবাব অভিনেতার!

বিনোদন জগতের তারকারা শুধু পর্দার চরিত্রেই নয়, বাস্তব জীবনেও বহু সময় দর্শকের মন জয় করে নেন। তাঁদের ব্যক্তিগত লড়াই, মতামত কিংবা সমাজ নিয়ে বলা কথাগুলো সাধারণ মানুষের ভাবনার সঙ্গে মিলে যায়। কখনও সেই অভিজ্ঞতা অনুপ্রেরণা দেয়, কখনও আবার সমাজের অস্বস্তিকর সত্যটাকে সামনে এনে দাঁড় করায়। ঠিক এই কারণেই তারকাদের ব্যক্তিগত কথাবার্তা আলাদা গুরুত্ব পায়।

বিশেষ করে যখন কোনও অভিনেতা নিজের জীবনের কঠিন অধ্যায় পেরিয়ে উঠে সমাজের নানা বিষয় নিয়ে খোলাখুলি কথা বলেন, তখন তা নিছক বিনোদনের গণ্ডি ছাড়িয়ে যায়। জীবন সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি, মানুষের আচরণ কিংবা জাতিগত মানসিকতা—সব মিলিয়ে সেই বক্তব্যে ধরা পড়ে বাস্তব অভিজ্ঞতার ছাপ। সাম্প্রতিক সময়ে এমনই এক অভিজ্ঞতার কথা শোনালেন অভিনেতা চন্দন সেন।

চন্দন সেন মানেই বাঙালি দর্শকের কাছে এক নির্ভরযোগ্য অভিনেতার নাম। থিয়েটার থেকে শুরু করে সিনেমা—দীর্ঘ অভিনয় জীবনে বহু চরিত্রে নিজেকে মেলে ধরেছেন তিনি। তবে অভিনয়ের বাইরেও তাঁর জীবন সংগ্রামে ভরা। একসময় ক্যান্সারের মতো কঠিন রোগের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াই করে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছেন এই অভিনেতা। সেই সময় থিয়েটার আর অভিনয়ের প্রতি অগাধ ভালোবাসাই তাঁকে মানসিক শক্তি জুগিয়েছিল। এমনও হয়েছে, কোনও পারিশ্রমিক ছাড়াই তিনি মঞ্চে উঠেছেন। আবার অনেক চিকিৎসক বিনা পয়সায় তাঁর চিকিৎসা করেছেন—যার জন্য আজও তিনি কৃতজ্ঞ।

এই অভিজ্ঞতার পর জীবন ও মানুষ সম্পর্কে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি আরও গভীর হয়েছে। সম্প্রতি সমাজ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে চন্দন সেন শোনালেন এক ব্যক্তিগত ঘটনার কথা। একবার বাস মিস করার সময় এক অচেনা ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর আলাপ হয়। কথাবার্তার মাঝেই সেই ব্যক্তি অভিনেতাকে প্রশ্ন করেন, তিনি বাঙালি কিনা, এবং সঙ্গে সঙ্গে বাঙালিদের ‘কম কাজ করতে চাওয়া’ বা ‘কামচোর’ বলে কটাক্ষ করেন।

আরও পড়ুনঃ “শুধু টাকা-পয়সার লেনদেন মানেই শেষ নয়, চোখের জল দিয়েও ব্যবসা হয়!” শৈশবের খেলাই জীবনের আসল পাঠ! সমাজের ‘অদৃশ্য ব্যবসা’ নিয়ে জিতু কমলের লেখায় কেন জীবন্ত হয়ে উঠেছে তীক্ষ্ণ বাস্তবতা!

এই মন্তব্য প্রথমে সহ্য করলেও, পরে তার জবাব দেন চন্দন সেন। তিনি বলেন, কুকুর সারাদিন রাস্তায় সংগ্রাম করে বাঁচে, সন্তান জন্ম দেয়, তাদের বড় করে, খাবারের সন্ধান করে, এমনকি সঞ্চয়ও করে—কিন্তু তারা কখনও নিজের রূপান্তর ঘটাতে পারে না তিনি আরো বলেন “মানুষের সঙ্গে কুকুরের তফাৎ হল শুধুমাত্র মগজের”। চন্দন সেনের কথায়, অনেক মানুষ হয়তো প্রচুর রোজগার করেন, আরামে খানদাও করেন, কিন্তু তাঁদের জীবনদর্শন যদি শুধুই ‘খাবো, দাবো, মরে যাব’-এ আটকে থাকে, তাহলে সেই মানসিকতা কখনও বাঙালির নয়। এই মন্তব্যের মধ্য দিয়েই তিনি স্পষ্ট ভাষায় বাঙালিদের ‘কামচোর’ বলার কটাক্ষের জবাব দেন এবং জানান, বাঙালি জাতির শক্তি তার চিন্তাভাবনা, সংস্কৃতি আর পরিবর্তনের ক্ষমতায়—যা কোনওভাবেই অবহেলার যোগ্য নয়।

You cannot copy content of this page