কলকাতার বেহালায় এক জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে ঘিরে গুরুতর অভিযোগ সামনে আসতেই তোলপাড় সোশ্যাল মিডিয়া থেকে সাধারণ মহল। এক তরুণী অভিযোগ করেছেন, তাঁকে ফ্ল্যাটে ডেকে নিয়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে বেহালা থানায় অভিযোগ দায়ের হতেই দ্রুত পদক্ষেপ করে পুলিশ এবং অভিযুক্ত শমীক অধিকারীকে গ্রেফতার করা হয়। পরদিন তাঁকে আলিপুর আদালতে পেশ করা হলে গোপন জবানবন্দিও দেন অভিযোগকারিণী। এরপর সংবাদমাধ্যমের সামনে এসে তিনি বিস্তারিতভাবে ঘটনার বিবরণ তুলে ধরেন।
তরুণীর বক্তব্য অনুযায়ী, ২ ফেব্রুয়ারি বিকেল প্রায় পাঁচটা নাগাদ তিনি শমীকের নতুন ফ্ল্যাটে যান। শমীক নিজেই তাঁকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন এবং জানিয়েছিলেন যে তিনি নতুন বাড়িতে উঠছেন, তাই বন্ধুত্বের সূত্রে সাহায্য করার জন্য ডেকেছিলেন। সেখানে শমীকের বাবা মা উপস্থিত থাকবেন শুনেই তিনি নিশ্চিন্ত হয়ে যান। প্রথমদিকে সবকিছু স্বাভাবিকই ছিল, এমনকি তিনি ঘর গোছাতেও সাহায্য করেন। কিন্তু রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে।
তরুণীর দাবি, রাত নটার দিকে তিনি কলেজ থাকার কারণে বাড়ি ফেরার জন্য ক্যাব বুক করতে গেলে আচমকাই শমীক তাঁর ফোন কেড়ে নেন। এরপর ফোন ঘেঁটে দেখেন যে তিনি অন্য এক কনটেন্ট ক্রিয়েটরের সঙ্গে কথাবার্তা বলছেন। সেই বিষয়েই ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁকে একটি ঘরে নিয়ে গিয়ে দরজা বন্ধ করে মারধর শুরু করেন বলে অভিযোগ। আরও চাঞ্চল্যকর দাবি, এই নির্যাতন নাকি শমীক তাঁর বাবা মায়ের সামনেই করেন এবং কেউ বাধা দিতে গেলে ভয়ঙ্কর হুমকি দেন।
অভিযোগকারিণী জানিয়েছেন, ওই রাতে তাঁকে বাড়ি ফিরতে দেওয়া হয়নি। চোখে আঘাত পাওয়ায় তিনি ঠিকমতো দেখতে পাচ্ছিলেন না বলেও জানান। পরদিন সকালে ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করলেও তা মানা হয়নি। উল্টে জোর করে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের অভিযোগও তোলেন তিনি। পরে কাউকে কিছু না জানানোর শর্তে তাঁকে যেতে দেওয়া হয় বলে দাবি। বাড়ি ফেরার আগে তাঁর জন্য মেকআপ আনা হয় এবং আঘাতের চিহ্ন ঢেকে দেওয়া হয় বলেও জানান তরুণী।
আরও পড়ুনঃ শমীক অধিকারী গ্রেপ্তার মামলায় নতুন মোড়! আদালতের নির্দেশে ১০ দিনের পুলিশ হেফাজত!
এই ঘটনার সময়কাল একটি বিতর্কিত ভিডিও প্রকাশের পর হওয়ায় অনেকেই রাজনীতির প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। কেউ কেউ অভিযোগকারিণীকে অর্থের বিনিময়ে মিথ্যে অভিযোগ আনার কথাও বলেছেন। তবে এই প্রসঙ্গে তরুণীর স্পষ্ট বক্তব্য, তাঁর সঙ্গে রাজনীতির কোনও যোগ নেই এবং তিনি শুধুমাত্র ন্যায়বিচার চান। তিনি বলেন, তিনি কারও মেয়ে, কারও বোন, এবং এমন অভিজ্ঞতা কোনও টাকার বিনিময়ে তৈরি করা যায় না। তাঁর এই মন্তব্যের পর বিষয়টি আরও আবেগঘন মোড় নিয়েছে এবং তদন্তের দিকে এখন সবার নজর।






