কয়েকদিন আগেই সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র আলোড়ন উঠেছিল কনটেন্ট ক্রিয়েটার ও অভিনেতা সায়ক চক্রবর্তীকে ঘিরে। পার্ক স্ট্রিটের একটি রেস্তোরাঁয় বন্ধুদের সঙ্গে খেতে গিয়ে ঘটে যাওয়া এক ঘটনার ভিডিও তিনি নিজেই প্রকাশ করেন। সায়কের অভিযোগ ছিল, তিনি মটন স্টেক অর্ডার করলেও ভুলবশত তাঁকে পরিবেশন করা হয় বিফ স্টেক। না বুঝেই তিনি সেই খাবার খান। পরে ওয়েটার যখন নতুন করে মটন স্টেক নিয়ে আসেন, তখনই অর্ডারের ভুল ধরা পড়ে। এই ঘটনাকেই কেন্দ্র করে ভিডিও বানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় শোরগোল ফেলে দেন সায়ক।
ভিডিওতে দেখা যায়, রেস্তোরাঁর ওয়েটারের ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তোলেন সায়ক। নিজেকে ব্রাহ্মণ পরিচয় দিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, তাঁকে জোর করে গোমাংস খাওয়ানো হয়েছে। এই বক্তব্যই আগুনে ঘি ঢালে। নেটিজেনদের বড় অংশ এই আচরণে ক্ষুব্ধ হন। অনেকেই প্রশ্ন তোলেন, যদি তিনি ধর্মীয় কারণে এতটাই সংবেদনশীল হন, তাহলে কেন এমন রেস্তোরাঁয় খেতে গেলেন যেখানে বিফ পরিবেশন করা হয়। ধীরে ধীরে বিষয়টি সাম্প্রদায়িক রঙ নিতে শুরু করে এবং সায়কের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগ ওঠে।
বিতর্ক এতটাই তীব্র হয়ে ওঠে যে সায়ক চক্রবর্তী সম্পূর্ণভাবে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন। কোনও পোস্ট, কোনও স্টোরি কিছুই দেখা যাচ্ছিল না তাঁর প্রোফাইলে। কয়েকদিন পর হঠাৎ করেই তাঁর ফেসবুক অ্যাকাউন্টে নতুন কিছু ছবি সামনে আসে। তবে সেখানে কোনও বক্তব্য নেই, কোনও ব্যাখ্যা নেই। শুধু প্রকৃতির ছবি। প্রজাপতি, কাঠবিড়ালি, পাখি, শাপলা আর চাঁদের শান্ত ছবি দিয়ে যেন নিজের মানসিক অবস্থার কথাই বললেন তিনি।
এই নীরব পোস্টগুলির কমেন্ট সেকশনে কিন্তু অনুরাগীদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। কেউ লিখেছেন, এরাই প্রকৃত বন্ধু। কেউ আবার বলেছেন, সাফল্যের সঙ্গে সঙ্গে শত্রুও তৈরি হয়, তোমার ফেরার অপেক্ষায় রইলাম। আবার অনেকেই তাঁকে ভালো থাকার বার্তা দিয়ে প্রকৃতির সঙ্গে যুক্ত থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন। যদিও সায়ক নিজে কোনও মন্তব্যের উত্তর দেননি, তবু বোঝা যাচ্ছে তাঁর পাশে এখনও বড় অংশের দর্শক রয়েছেন।
আরও পড়ুনঃ “মা রোজই মা’র খেতেন, আমিও বাবার হাতে অ’ত্যাচারিত হয়েছি…আমিই নাকি ওদের সম্পর্ক ভাঙার জন্য দায়ী!” তিক্ত শৈশবের স্মৃতি আর অতীতের যন্ত্রণা নিয়ে মুখ খুললেন স্বরলিপি চট্টোপাধ্যায়! মায়ের উপর অ’ত্যাচারের বিরুদ্ধে কিভাবে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি?
একসময় টলিপাড়ার পরিচিত মুখ ছিলেন সায়ক চক্রবর্তী। বহু জনপ্রিয় ধারাবাহিকে অভিনয় করেছেন তিনি। বর্তমানে অভিনয়ের চেয়ে ভ্লগিং এবং কনটেন্ট ক্রিয়েশনেই বেশি সক্রিয়। দৈনন্দিন জীবন, ফ্যাশন, বিউটি প্রোডাক্ট, শাড়ি গয়না থেকে শুরু করে রেস্তোরাঁর ফুড রিভিউ সবই তাঁর কনটেন্টের অংশ। এতদিন এই কাজের জন্যই সোশ্যাল মিডিয়ায় বিপুল ভালোবাসা পেয়েছেন তিনি। প্রায় ১.৪ মিলিয়ন ফলোয়ার্স রয়েছে তাঁর। এখন প্রশ্ন একটাই, এই বিতর্ক কাটিয়ে কবে আবার আগের ছন্দে ফিরবেন সায়ক।






