“মা, দাসী আনতে যাচ্ছি…এই কথাতেই সমাজের নোং’রা মানসিকতা ফুটে ওঠে!” “একে তো অনৈতিক কন্যাদান, তারপর গোত্রান্তর করে শিকড় থেকে উপড়ে ফেলে!” চিরাচরিত বিবাহ প্রথার বিরুদ্ধে একাধিক প্রশ্ন তুলে, বি’স্ফোরক অরুণ ব্যানার্জি! সত্যিই কি নারীর পরিচয় মুছে ফেলছে সমাজ?

বিয়ে—সমাজে যার নাম শুনলেই আবেগ, পরম্পরা আর পবিত্রতার ছবি ভেসে ওঠে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা এই প্রথাকে ঘিরে তৈরি হয়েছে অসংখ্য বিশ্বাস, গল্প আর অনুভূতি। কিন্তু এই আবেগঘন পরম্পরার আড়ালে কি এমন কিছু সত্য লুকিয়ে আছে, যা আমরা চোখ বুজে মেনে নিয়েছি? সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে সেই প্রশ্নই সামনে এনেছেন অভিনেতা অরুন ব্যানার্জী। তাঁর বক্তব্য নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে সমাজের বহু পুরনো ধারণা নিয়ে।

সাক্ষাৎকারে অরুন ব্যানার্জী খুব সাধারণ একটি কথার উল্লেখ করেন, যা আমাদের চারপাশে প্রায়শই শোনা যায়। একটি ছেলে বিয়ে করতে যাওয়ার আগে মাকে বলে—“মা, দাসী আনতে যাচ্ছি।” কথাটি অনেক সময় হাসির ছলে বলা হলেও, এর ভেতরে লুকিয়ে থাকা মানসিকতা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন। তাঁর মতে, এই বাক্যটি শুধু শব্দ নয়, বরং সমাজে নারীর অবস্থানকে প্রকাশ করে দেয়, যা আমরা অবচেতনে মেনে নিয়েছি।

এরপর তিনি বিয়ের মূল আচার-অনুষ্ঠানের দিকেও নজর দেন। বিয়ের সময় পুরোহিত যে মন্ত্র পাঠ করেন, তার ভাষা বা অর্থ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বর-কনে কেউই ঠিকভাবে বোঝেন না। তবুও সেই মন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত অর্থ অবচেতন মনে গ্রহণ করে নেওয়া হয়। অরুন ব্যানার্জীর মতে, এখানেই শুরু হয় এমন এক প্রক্রিয়া, যেখানে প্রশ্ন করার জায়গা নেই, শুধু অনুসরণ করাই নিয়তি।

সবচেয়ে তীব্র প্রশ্নটি উঠে আসে ‘কন্যাদান’ প্রসঙ্গে। একটি মেয়েকে জন্ম থেকে বড় করে তোলার পর কি সত্যিই তাকে ‘দান’ করা যায়? তিনি এই ধারণাকে গভীরভাবে ভাবতে বলেন। তাঁর মতে, একজন মানুষকে বস্তু হিসেবে দান করার ধারণাই সমস্যার মূল। শেষপর্যন্ত আসে গোত্রদানের প্রসঙ্গ।

আরও পড়ুনঃ “দুই একটা ‘ডেপো ছেলেদের’ জন্যই সমাজ মাধ্যমের ভালো দিকগুলো ঢাকা পড়ে যাচ্ছে!” “বাংলার মানুষও বুঝে গেছে, এগুলো হুজুক তোলা ছাড়া কিচ্ছু নয়!” কনটেন্ট ক্রিয়েটার সায়ক ও শমীকের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড নিয়ে কুনাল ঘোষের কড়া সমালোচনা!

বিয়ের শেষে মেয়ের গোত্র পরিবর্তন, অর্থাৎ বাবার বংশ ছেড়ে সম্পূর্ণ অন্য বংশে চলে যাওয়া—এই প্রথাকে অরুন ব্যানার্জী চরম অপমান হিসেবেই দেখেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এটি শুধু একটি আচার নয়, বরং সমাজের সেই কালো দিক, যেখানে নারীর পরিচয় বারবার মুছে ফেলা হয়। এই বক্তব্য নতুন করে প্রশ্ন তোলে—আমরা কি সত্যিই পরম্পরা রক্ষা করছি, নাকি অন্ধভাবে অন্যায়কে বয়ে নিয়ে চলেছি?

You cannot copy content of this page