“চূড়ান্ত অপমান করে, ধাক্কা মেরে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল আমাকে…চুপ করে থাকিনি, অপমানটাকেই কাজে লাগিয়েছি!” সম্মান পেতে লড়াই, সংগ্রামের দিন মনে করে চোখে জল অভিনেতা দেবোত্তম মজুমদারের!

আজ বাংলা টেলিভিশনের পরিচিত মুখ ‘দেবোত্তম মজুমদার’কে (Debottam Majumdar) দেখলে বোঝার উপায় নেই, তাঁর পথচলার শুরুটা কতটা কঠিন ছিল। দর্শক তাঁকে চেনেন দক্ষ অভিনেতা হিসেবে, বিশেষ করে ‘কেয়া পাতার নৌকা’র মতো ধারাবাহিকের চরিত্র আজও তাঁর নামের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। বর্তমানে একাধিক ধারাবাহিকে পার্শ্বচরিত্রে অভিনয় করলেও নিজের অভিনয়গুণেই তিনি আলাদা জায়গা তৈরি করেছেন।

তবে কাজের বাইরের দেবোত্তম একেবারেই ঘরকুনো, শান্ত স্বভাবের মানুষ! ইন্ডাস্ট্রিতে বন্ধুর সংখ্যা কম হলেও সবার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক সৌহার্দ্যপূর্ণ। কিন্তু অভিনয়ের জগতে আসার আগে তাঁর জীবন ছিল একেবারেই অন্যরকম। এক সময় মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভ হিসেবে কাজ করতেন তিনি। নিয়মিত চাকরি, স্থির আয়, সবই ছিল। কিন্তু থিয়েটারের টান তাঁকে ছাড়েনি। শেষ পর্যন্ত হঠাৎ করেই চাকরি ছেড়ে অভিনয়ে পুরো সময় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

সেই সময় পরিবার স্বাভাবিকভাবেই চিন্তায় পড়ে যায়। ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত, সামনে কোনও নিশ্চিত সুযোগ নেই, তবু নিজের সিদ্ধান্তে অনড় ছিলেন দেবোত্তম। পাশে ছিলেন তাঁর সেই সময়ের প্রেমিকা, যিনি আজ তাঁর জীবনসঙ্গিনী। তবে এই যাত্রাপথ মোটেও মসৃণ ছিল না। একবার একটি স্টুডিওতে একজন অভিনেতার সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে যে অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছিলেন, তা আজও তাঁর মনে গেঁথে আছে। প্রবেশাধিকার তো দূরের কথা।

আচরণে এমন অবহেলা ছিল যে অপমানটা স্পষ্টভাবে অনুভব করেছিলেন তিনি। সেই ঘটনার কথা বলতে গিয়ে এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, সেদিন নাকি তাঁকে চোখে জল চলে এসেছিল! পরিস্থিতি এমন ছিল যে প্রায় ধাক্কা খেয়েও বেরিয়ে আসতে হয়েছিল তাঁকে! কিন্তু সেই অপমানই তাঁকে ভেঙে দেয়নি। বরং সেটাকেই নিজের জেদ আর প্রেরণায় পরিণত করেছিলেন। তিনি মনে করেন, জীবনে সাফল্য পেতে গেলে কখনও কখনও এই ধরনের তিক্ত অভিজ্ঞতা দরকার হয়।

আরও পড়ুনঃ “পাঁচ-ছয়টা কাঁচা খি’স্তি আর মা’রপিট থাকলেই এখন ছবি হিট…যত খারাপ দৃশ্য, ততই নাম!” বাংলা ছবিতে অশা’লীনতার বাড়বাড়ন্ত নিয়ে সরব সুদীপা বসু! সমাজের ভাষার অবনতি, নাকি বক্স অফিসের লোভে ইচ্ছাকৃত ক’দর্যতার চর্চা? এই ট্রেন্ডের দায় কার? প্রশ্ন তুললেন অভিনেত্রী!

কারণ সেটাই মানুষকে নিজের সীমা ছাড়িয়ে যেতে শেখায়। চুপ করে বসে না থেকে নিজেকে প্রমাণ করার পথে হাঁটেন তিনি। আজ যখন দর্শক তাঁর অভিনয় দেখে প্রশংসা করেন, তখন সেই পুরনো দিনের ঘটনাগুলো হয়তো অনেকটাই দূরের মনে হয়। তবু পথচলার শুরুতে যে অপমান, অনিশ্চয়তা আর লড়াই ছিল কিন্তু সেইগুলোই তাঁর ভিত শক্ত করেছে। দেবোত্তমের গল্পটা তাই শুধু একজন অভিনেতার সাফল্যের নয়, বরং ধৈর্য আর আত্মবিশ্বাসে এগিয়ে যাওয়ারও উদাহরণ।

You cannot copy content of this page