বিনোদন জগতের শিল্পীদের কথা অনেক সময়ই শুধু আলোচনার বিষয় হয়ে থাকে না, বরং সমাজের চিন্তাভাবনাকেও নাড়িয়ে দেয়। মঞ্চে, ক্যামেরার সামনে বা কোনো অনুষ্ঠানে বলা একটি মন্তব্য কখনও কখনও সাধারণ মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিতে পারে। বিশেষ করে জনপ্রিয় অভিনেতা-অভিনেত্রীরা যখন সামাজিক বা সাংস্কৃতিক বিষয় নিয়ে কথা বলেন, তা দর্শকদের মনে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে।
সিনেমা শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, সমাজের আয়নাও বটে। বড় পর্দায় যা দেখানো হয়, তার প্রভাব ধীরে ধীরে বাস্তব জীবনেও পড়ে। ভাষা, পোশাক, আচরণ—সবকিছুর ক্ষেত্রেই সিনেমা একটি ট্রেন্ড তৈরি করে। তাই চলচ্চিত্রে ব্যবহৃত সংলাপ বা উপস্থাপনার ধরন সমাজে কতটা প্রভাব ফেলছে, তা নিয়ে আলোচনা হওয়াটা স্বাভাবিক।
এই প্রেক্ষিতেই উঠে আসে সুদীপা বসুর নাম। থিয়েটারের মঞ্চ থেকে যাঁর অভিনয় যাত্রা শুরু, অঞ্জন দত্ত ও মেঘনাদ ভট্টাচার্যের মতো পরিচালকদের কাছে কাজ শিখে নিজেকে গড়ে তুলেছেন তিনি। তাছাড়াও একাধিক জনপ্রিয় ধারাবাহিকে অভিনয় করে ঘরে ঘরে পরিচিতি পেয়েছেন। অভিনয়ের পাশাপাশি নানা সামাজিক ইস্যুতে স্পষ্ট মত প্রকাশ করতেও তিনি কখনও পিছপা হন না।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকার সুদীপা বর্তমান সিনেমার ভাষা নিয়ে সরব হন। তাঁর বক্তব্য, এখন ছবিতে গালাগালি যেন এক ধরনের ফ্যাশন হয়ে দাঁড়িয়েছে। “পাঁচ-ছয়টা খিস্তি আর কয়েকটা মারপিটের দৃশ্য থাকলেই এখন ছবি হিট,”—এমনটাই মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর মতে, সহজ পথে সাফল্য পাওয়ার এই প্রবণতা শিল্পের পক্ষে স্বাস্থ্যকর নয়। একাধিক সিনেমার নাম তুলে তিনি সমালোচনা করেন।
আরও পড়ুনঃ “হ্যাঁ গো বোনু, তোমার আর তোমার ‘বান্ধবী’র ভ্লগ…” অনন্যার ‘জোকার’ মন্তব্যের পর, হবু বর সুকান্তকে খোঁচা মে’রে স্যান্ডির সপাটে জবাব!
শুধু তাই নয় এগুলোর প্রতিবাদ হিসেবে সবাইকে একসাথে এগিয়ে আসতে হবে সেটাও জানান তিনি। তবে তাঁর আক্ষেপ, এমন ঐক্য কোথায়? শেষ পর্যন্ত তিনি মনে করিয়ে দেন, সমাজের ভাষার পরিবর্তনই সিনেমায় প্রতিফলিত হচ্ছে। “এখনকার ছেলেমেয়েরা কি আর রবীন্দ্রনাথের মতো মার্জিত ভাষায় কথা বলে?”—এই প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে তিনি যেন বৃহত্তর সামাজিক বাস্তবতাকেই সামনে আনলেন।






“হ্যাঁ গো বোনু, তোমার আর তোমার ‘বান্ধবী’র ভ্লগ…” অনন্যার ‘জোকার’ মন্তব্যের পর, হবু বর সুকান্তকে খোঁচা মে’রে স্যান্ডির সপাটে জবাব!