বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে মহানায়িকা ‘সুচিত্রা সেন’ (Suchitra Sen) এক অনন্য নাম, যাঁর উপস্থিতি পর্দায় যেন এক বিশেষ আভা তৈরি করত। অভিনয়ের গাম্ভীর্য, চোখের ভাষা আর ব্যক্তিত্ব মিলিয়ে তিনি শুধু অভিনেত্রী নন, এক যুগের প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন। কিন্তু এই কিংবদন্তির শুরুর গল্পটা ছিল অনেকটাই সাধারণ, এক কিশোরীর জীবনের অপ্রত্যাশিত বাঁক থেকেই যার সূচনা! জানেন, পাশের বাড়ির মেয়ে থেকে মহানায়িকা হয়ে ওঠার গল্পটা?
সেই সময় তিনি ‘সুচিত্রা সেন’ নন, ছিলেন ‘রমা দাশগুপ্ত’।পাবনা জেলার সাধারণ এক মেয়ে, বয়স তখন ওই ষোলো কি সতেরো। পরিবারের সঙ্গে সমুদ্র দেখতে প্রথম পুরীতে গিয়েছিলেন তিনি। সমুদ্রের ধারে নাকি একা হাঁটতে বেরিয়েছিলেন। কে জানত, সেই সাধারণ বিকেলটাই তাঁর জীবনে মোড় ঘুরিয়ে দেবে? দূর থেকে তাঁকে দেখে দিবানাথ সেনের মা নাকি মনে মনে ঠিক করে ফেলেন, এই মেয়েকেই পুত্রবধূ হিসেবে চাই! হঠাৎ করে শুরু হওয়া সেই আলাপচারিতাই পরে পরিণতি পায় পারিবারিক সম্মতিতে।
প্রসঙ্গত, এর কিছুদিনের মধ্যেই রমার বিয়ে হয় দিবানাথ সেনের সঙ্গে। শ্বশুরবাড়ি কলকাতার বালিগঞ্জে। দিবানাথ পেশায় একজন মেরিন ইঞ্জিনিয়ার হলেও, শিল্পীসত্তার প্রতি তাঁর আলাদাই টান ছিল। শোনা যায়, স্ত্রীর গানের গলা এবং অভিনয়ের সম্ভাবনা তিনিই প্রথম গুরুত্ব দিয়ে দেখেন। তাঁর উদ্যোগেই রমা টলিপাড়ার স্টুডিওর পরিবেশে প্রথম পা রাখেন, যেখানে এক নতুন পরিচয়ের পথ খুলে যায় তাঁর সামনে!
উল্লেখ্য, চলচ্চিত্রে তাঁর যাত্রা শুরু হলেও শুরুটা একেবারেই মসৃণ ছিল না। প্রথম দিকের কাজ প্রকাশ্যে না এলেও তিনি থেমে থাকেননি। ধীরে ধীরে নিজের অভিনয় দক্ষতা আর পর্দার উপস্থিতি দিয়ে জায়গা করে নেন বাংলা ছবির জগতে। সেই পথ চলাতেই ‘রমা’ নামটা বদলে যায়, জন্ম নেয় ‘সুচিত্রা সেন’! যা পরে হয়ে ওঠে এক ঐতিহাসিক নাম, বাঙালির আবেগ এবং স্বর্ণযুগের প্রতীক!
আরও পড়ুনঃ “চূড়ান্ত অপমান করে, ধাক্কা মেরে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল আমাকে…চুপ করে থাকিনি, অপমানটাকেই কাজে লাগিয়েছি!” সম্মান পেতে লড়াই, সংগ্রামের দিন মনে করে চোখে জল অভিনেতা দেবোত্তম মজুমদারের!
ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে তিনি সবসময়ই সংযত ছিলেন, অতিরিক্ত আলো থেকে খানিকটা দূরে থাকতেই পছন্দ করতেন। হয়তো সেই অন্তর্মুখী স্বভাবই তাঁর অভিনয়ের গভীরতাকে অন্য মাত্রা দিয়েছিল। এক সাধারণ পারিবারিক ভ্রমণ, এক অচেনা দৃষ্টির নির্বাচন আর এক অপ্রত্যাশিত সিদ্ধান্ত মিলিয়েই তৈরি হয়েছিল এমন এক জীবনযাত্রা, যা পরে বাংলা সিনেমার ইতিহাসে স্থায়ী ছাপ রেখে যায়। কে বলতে পারে, কোন মুহুর্তে জীবন বদলে যেতে পারে আর জন্ম নিতে এমনই না ভোলার মতো ব্যক্তিত্ব?






“হ্যাঁ গো বোনু, তোমার আর তোমার ‘বান্ধবী’র ভ্লগ…” অনন্যার ‘জোকার’ মন্তব্যের পর, হবু বর সুকান্তকে খোঁচা মে’রে স্যান্ডির সপাটে জবাব!