“প্রকাশ্যে দু’জন মানুষ চুমু খাচ্ছে, ভীষণ সুন্দর দৃশ্য!” “দু’জন মানুষ কাছাকাছি এলে তাতে সমাজের কী ক্ষতি?” চুম্বন অন্যায় নয়, গু’ণ্ডামিই অন্যায়! প্রকাশ্যে ঘনিষ্ঠতাকে অশ্লীল বলা মানসিকতার বিরুদ্ধে, অকপট কবীর সুমন!

ভালবাসা নিয়ে কথা বলতে গেলে আমরা আজকাল ক্যালেন্ডারের পাতায় চোখ রাখি, কোন দিন ‘রোজ ডে’, কোন দিন ‘কিস ডে’ বা কোন দিন ‘ভ্যালেন্টাইন্স ডে’। অথচ ভালবাসা কি সত্যিই দিন-তারিখ মেনে আসে? শহরের বাতাসে যখন প্রেমের আলগা গন্ধ ভাসে, তখন বোঝা যায় মানুষ এখনও ভালবাসতে চায়, প্রকাশ করতে চায়। এই প্রকাশের মধ্যেই কখনও গান এসে জুড়ে যায়, কখনও কোনও শিল্পীর কথা। বিশেষ করে ‘কবীর সুমন’-এর (Kabir Suman) নাম উঠলে বাঙালির মনে এক ধরনের নির্ভার স্বীকারোক্তি জেগে ওঠে।

ভালবাসা লুকোনোর নয়, বাঁচার জিনিস! তিনি বরাবরই কথায় ও গানে নিজের অবস্থান স্পষ্ট রেখেছেন। প্রেমকে তিনি কোনও নির্দিষ্ট পরিসরের মধ্যে আটকে রাখতে চান না। তাঁর মতে, ভালবাসা যতভাবে প্রকাশ পায়, ততই তার শক্তি বাড়ে। চুম্বনও সেই প্রকাশেরই এক স্বাভাবিক রূপ। কেউ কাউকে স্নেহে, প্রেমে চুমু খেলে তা নিয়ে এত আলোচনার কী আছে? এই প্রশ্নটাই তিনি ছুঁড়ে দিলেন সমাজের দিকে। তাঁর বক্তব্যে যুক্তি আছে, আবার একধরনের সহজ মানবিকতা আছে।

কিন্তু, সমস্যা তৈরি হয় তখনই, যখন অন্য কেউ সেই ব্যক্তিগত মুহূর্তের ওপর নজরদারি চালাতে চায়! আজকাল জনসমক্ষে প্রেমিক-প্রেমিকাকে দেখে যারা হেনস্থা করে, নিজেদের নীতির প্রহরী ভাবতে চায়, তাদের মানসিকতা নিয়ে তিনি স্পষ্টতই বিরক্ত! তাঁর চোখে এটা নিছক ‘দাদাগিরি’ ছাড়া কিছু নয়। দু’জন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ নিজেদের ইচ্ছায় কাছাকাছি এলে তাতে সমাজের কী ক্ষতি? এই সহজ প্রশ্নটাই যেন সবচেয়ে কঠিন আমাদের বাস্তবতায়।

তবে মজার বিষয় হল, তিনি বিষয়টিকে রাগের ভাষায় নয়, বরং বিস্ময়ের সুরে বলেন। যেন সত্যিই অবাক হচ্ছেন, এত সুন্দর একটা দৃশ্য দেখে কেউ ক্ষিপ্ত হতে পারে কীভাবে? ভালবাসার প্রকাশকে তিনি অ’শ্লীল নয়, বরং মানবিক বলে মনে করেন। এই দৃষ্টিভঙ্গি হয়তো অনেকের সঙ্গে মিলবে না, কিন্তু তাঁর স্পষ্ট উচ্চারণে দ্বিধা নেই। তিনি মনে করেন প্রেমের সপ্তাহ হোক বা না-হোক, ভালবাসা নিয়ে কথা বলা দরকার।

আরও পড়ুনঃ “আমার অনন্যার ডেট থাকলে, সেখানেও সায়ক…” “এত সায়ক কই কেন করছেন, আমরা কি বিয়েটা ক্যানসেল করে দেব ওর জন্য?” বিতর্কে জড়াতেই পাশ কাটিয়ে বন্ধুত্বে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’, ‘স্বার্থপরতা’র অভিযোগ! সমাজ মাধ্যমে মুখ খুললেন সুকান্ত!

কারণ চারপাশের উত্তেজনা, বিভাজন আর বিরোধের মধ্যে একটু মমতা সত্যিই আলাদা করে চোখে পড়ে। হয়তো একদিনের উৎসব দিয়ে সব বদলাবে না, কিন্তু অন্তত মনে করিয়ে দিতে তো পারবেই যে ভালোবাসায় লজ্জার নয়! আর সেই কথাটাই বারবার নিজের ভাষায়, নিজের সুরে বলে যেতে চান কবীর সুমন। তিনি চান, প্রতিটা প্রেমিক, জুটি এবং তাদের চুম্বন এঁকে দেওয়ার ক্ষমতা দীর্ঘজীবী হোক! আপনাদেরও কি মনে হয়, প্রকাশ্যে চুম্বনে আপত্তি থাকা অনুচিত?

You cannot copy content of this page