“আমি ঝাঁপাবো জিতের খালি গা দেখার জন্য!” খালি গায়ে স্বামী কাঞ্চনের ছবি নিয়ে কৌতুক ও কটাক্ষের পাল্টা, সপাটে জবাব শ্রীময়ী চট্টরাজের! নেটমাধ্যমে ভিউ নাকি ভণ্ডামি ছাড়া আসে না, বি’স্ফোরক অভিনেত্রী!

আজকের দিনে সোশ্যাল মিডিয়া যেন তারকাদের ব্যক্তিগত জীবনকেও জনসমক্ষে এনে ফেলে। একটি ছবি, একটি রিল বা একটি মন্তব্য—মুহূর্তে তা ভাইরাল হয়ে যায়। প্রশংসার পাশাপাশি সমালোচনা, ট্রোলিংও এখন নিত্যদিনের বিষয়। বিশেষ করে নবদম্পতি বা আলোচিত জুটিদের ক্ষেত্রে এই নজরদারি আরও বেশি।

২ মার্চ ২০২৪-এ বিয়ে করেন অভিনেতা কাঞ্চন মল্লিক ও অভিনেত্রী শ্রীময়ী চট্টরাজ। ৫৩ বছরের কাঞ্চন ও ২৭ বছরের শ্রীময়ীর বয়সের ফারাক নিয়েও সমাজমাধ্যমে কম আলোচনা হয়নি। বিয়ের খবর প্রকাশ্যে আসতেই নানা প্রশ্ন, কটাক্ষ ও সমালোচনার মুখে পড়তে হয় নবদম্পতিকে। তবে সব কিছুকে পাশ কাটিয়ে তাঁরা নিজেদের মতো করে নিজেদের জীবন চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

সম্প্রতি তারকা দম্পতি মুখ খুলেছেন সামাজিক বিষয় নিয়ে। বিয়ের পর দু’জনে মালদ্বীপে বেড়াতে যান। সব ঠিকঠাক চলছিল, কিন্তু একটি ছবি ঘিরে শুরু হয় নতুন বিতর্ক। সেই ছবিতে কাঞ্চনের পরনে ছিল একটি নিয়ন রঙের প্যান্ট। সেই প্যান্ট নিয়েই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয় খিল্লি। এই প্রসঙ্গে শ্রীময়ী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “মানুষের চোখ যখন এত নীচে নামতে পারে, তাহলে তাদের মস্তিষ্কটাও নিচের দিকে। আমরা আলাপ হলে সবার আগে চোখে চোখে তাকিয়ে কথা বলি।” অর্থাৎ, পোশাকের বদলে দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন দরকার—এটাই ছিল তাঁর বক্তব্য।

কাঞ্চন মল্লিক নিজেও খোলামেলা স্বীকার করেছেন, তিনি ‘রিলস’-এর যুগের মানুষ নন। তাঁর কথায়, “আমি পোস্টটুকুও করতে পারি না যেমনটা আমার বউ করে। আর এসব কথা যদি কানে নিই, তাহলে রোজ একটা হার্ট অ্যাটাক হবে—তাতে ওদের কিছু যায় আসে না।” তিনি আরও বলেন, আগে বারান্দা থেকে বারান্দায় আলোচনা হত, এখন সবটাই সোশ্যাল নেটওয়ার্কে সহজলভ্য। যে কারোর পেজে গিয়ে কুৎসিত মন্তব্য করে আসা এখন খুব সহজ।

আরও পড়ুনঃ “প্রকাশ্যে দু’জন মানুষ চুমু খাচ্ছে, ভীষণ সুন্দর দৃশ্য!” “দু’জন মানুষ কাছাকাছি এলে তাতে সমাজের কী ক্ষতি?” চুম্বন অন্যায় নয়, গু’ণ্ডামিই অন্যায়! প্রকাশ্যে ঘনিষ্ঠতাকে অশ্লীল বলা মানসিকতার বিরুদ্ধে, অকপট কবীর সুমন!

‘খালি গা’ নিয়ে যে সব মন্তব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুরছে, তা নিয়েও সরাসরি জবাব দিয়েছেন শ্রীময়ী চট্টরাজ। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, অনেকেই কাঞ্চন খালি গায়ে থাকলে বা সাধারণ পোশাকে ভিডিও করলে সেটি নিয়ে মজা করেন, কিন্তু তারাই আবার সেই ভিডিও বারবার দেখেন এবং মিলিয়ন ভিউ দেন। তাঁর কথায়, “কাঞ্চন খালি গায়ে কি মাখছে—এটা দেখার জন্য মানুষ ঝাঁপিয়ে পড়ছে। আমি ঝাঁপাবো জিতের খালি গা দেখার জন্য।” অর্থাৎ, তিনি বোঝাতে চেয়েছেন—দর্শকের কৌতূহল থাকলে সেটা স্বাভাবিক, কিন্তু শুধুমাত্র কটাক্ষ করার মানসিকতা ঠিক নয়। ট্রোল করেও যখন মানুষ সেই একই কনটেন্ট দেখছেন, তখন সমালোচনার কোনও মানে থাকে না। পুরো বিষয়টিকে তাঁরা খুব মজার ছলে নিচ্ছেন এবং এটাকে সোশ্যাল মিডিয়ার বাস্তবতা হিসেবেই মেনে নিয়েছেন।

You cannot copy content of this page