“অভিনয় না শিখেই তো সফলতা পাচ্ছে…দু-তিন বছরের মধ্যেই যখন ফ্ল্যাট-গাড়ি হচ্ছে, তখন শিখবে কেন?” ২২ বছরের লড়াইয়ের পর ‘সেকেন্ড হ্যান্ড গাড়ি’ কেনার অভিজ্ঞতা টেনে, নতুন প্রজন্মের উদ্দেশ্যে চাঁচাছোলা ভাষায় মন্তব্য অভিনেত্রী সুদীপা বসুর!

বর্তমান সময়ে বাংলা বিনোদন জগতে অভিনয়ের ধারা অনেকটাই পরিবর্তিত হয়েছে। আগে যেখানে থিয়েটার ও প্রথাগত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত অভিনেতাদের প্রাধান্য ছিল, এখন সেখানে সোশ্যাল মিডিয়া, ইউটিউব এবং ছোট পর্দার প্ল্যাটফর্মগুলো নতুন অভিনেতাদের দ্রুত পরিচিতি এনে দিচ্ছে। অনেকেই বড় পরিসরের কঠোর প্রশিক্ষণ ছাড়াই, প্রায়ই স্বতঃস্ফূর্ত অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকের মনে জায়গা করে নিচ্ছেন। এই পরিবর্তন প্রথাগত শিক্ষণপ্রাপ্তদের জন্য এক নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

বর্তমান সময়ের অভিনয় নিয়ে এবার মুখ খুলেছেন অভিনেত্রী সুদীপা বসু, দীর্ঘদিন ধরে বাংলা থিয়েটারের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। অঞ্জন দত্তের পাশ্চাত্য ঘরানার থিয়েটার দিয়ে তিনি অভিনয় জীবন শুরু করেছিলেন। সুদীপা শুধুমাত্র অভিনয়েই সীমাবদ্ধ ছিলেন না, থিয়েটার জীবনের মধ্য দিয়ে জীবনের নানা বাস্তব অভিজ্ঞতাও অর্জন করেছেন। তার দীর্ঘ ক্যারিয়ারের পথে তিনি প্রথাগত প্রশিক্ষণের মূল্যকে গভীরভাবে বোঝেন এবং তার অভিজ্ঞতাকে নতুন প্রজন্মের জন্য শিক্ষণীয় মনে করেন।

সুদীপা বসু সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেছেন, “অভিনয় না শিখেই অনেকেই দ্রুত সফলতা পাচ্ছে।” তিনি জানান, বর্তমান প্রজন্মের মধ্যে শেখার ইচ্ছা কমে গেছে। তার মতে, অনেকে শুধুমাত্র লাভজনক দিকটি লক্ষ্য করে কাজ করছেন এবং যা দরকার তাই করছেন। তিনি আরও বলেন, “তুমি কিচ্ছু না জেনে যদি একটা আড়াই-তিন বছর কাজ করে তুমি একটা ফ্ল্যাট আর একটা গাড়ি করতে পারো, তখন শেখার ইচ্ছে হয়তো কমে যাচ্ছে।” সুদীপা এই প্রবণতাকে এক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখেন যা প্রথাগত শিক্ষণপ্রাপ্তদের জন্য নতুন ধরনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি করছে।

সুদীপা জীবনের প্রথম দিকে লজেন্স বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেছেন। তিনি নিজেই স্বীকার করেন, এই বাস্তব সংগ্রাম তাকে কঠোর পরিশ্রম ও ধৈর্যের মর্ম শিখিয়েছে। অভিনেত্রী আরও বলেন, “আমি ইন্ডাস্ট্রিতে ২২ বছর থাকার পর একটি সেকেন্ড হ্যান্ড BMW কিনেছিলাম। পরের দিন দু-দিন বাদে দেখলাম সেই গাড়িটা ছেড়ে আমি রিক্সা চালাচ্ছি, এটার দরকার ছিল না।” এই অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে, সত্যিকারের শিক্ষণীয় শিক্ষা কখনওই শুধুমাত্র সফলতা বা আয়েই সীমাবদ্ধ নয়, তা জীবনধারার মানসিকতা ও সংযমে নিহিত।

আরও পড়ুনঃ “মাথায় টোপর নয়, সিঁদুর…” আর কয়েক ঘন্টা পরেই বসবেন বিয়ের পিঁড়িতে! সাত পাকে বাঁধা পড়ার আগেই, হবু বরকে শর্তের তালিকা ধরালেন শ্যামৌপ্তি! কী কী আছে তাতে, মানবেন কি রণজয়?

সুদীপা বসুর বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, শুধুমাত্র দ্রুত সফলতা অর্জনই যথেষ্ট নয়, প্রথাগত প্রশিক্ষণ ও বাস্তব অভিজ্ঞতার সমন্বয়ই দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্ব আনে। তিনি নতুন প্রজন্মকে সতর্ক করে বলেন, “শেখার প্রয়োজনীয়তা কখনও কমে যায় না। যদি তুমি না শেখো, তাহলে যেকোনো অর্জন সাময়িক হবে।” বিনোদন জগতের এই পরিবর্তিত পরিপ্রেক্ষিতে, সুদীপা বসুর দৃষ্টিকোণ প্রমাণ করে যে প্রথাগত শিক্ষা ও ধৈর্য এখনও অপরিহার্য।

You cannot copy content of this page